শাবান মাস হলো আরবী বছরের অষ্টম এবং রমযান মাসের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক মাস। এ মাসটি রমযানুল মুবারকের আগমনী বার্তা বহন করে মুসলিম উম্মাহর প্রাণে এক মহিমাপূর্ণ আনন্দের সঞ্চার করে। শাবান মাস †থকেই রমযান মাসের ফযিলত ও বরকত লাভের জন্য মহানবী (সা
‘শবে বারাআত’ এর পরিচয়
‘শব’ ফারসী শব্দ। এর অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ অর্থ নিস্কৃতি বা মুক্তি। সুতরাং শবেবরাত অর্থ হচ্ছে নিস্কৃতি বা মুক্তির রাত। মহানবী (সা
আল-কুরআনে ‘শবেবরাত’
"শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি †তা এ কিতাব নাযিল করেছি এক মুবারক রজনীতে; আমি †তা সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার আদেশক্রমে, আমিতো রাসূল †প্ররণকারী” (সূরা দুখান, ৪৪ : ২-৫)।
শবেবরাতের পক্ষে †যসকল মনীষী কুরআনের এ আয়াতগুলো দলীল হিসেবে উল্লেখ করেন, তাদের দলীলটি যথাযথ বলে মনে হয় না। কারণ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ †নয়াটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত। †কননা কুরআন মাজীদের দু’ জায়গায় স্পষ্ট ও পরিষ্কার ভাষায় মহান আল্লাহ বলেছেন ঃ
১. “রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে” (সূরা বাকারা, ২:১৮৫)।
২. “নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে” (সূরা কদর, ৯৭:১)।
তাই বলা যায়, আলোচ্য আয়াতে মুবারক রজনী বলতে ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদরের রজনীই উদ্দেশ্য। শবেবরাত উদ্দেশ্য নয়।
হাদীস শরীফে ‘শবেবরাত’
১. হযরত আয়েশা (রা
২. হযরত আলী (রা
৩. হযরত আবূ মূসা আল আশআরী (রা
আলোচ্য হাদীসত্রয় পর্যালোচনা করে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় †য, মহান আল্লাহ এ রাতে প্রথম আকাশে আগমন করে ঐ সমস্ত পাপীদের ক্ষমা করেন যারা এ রাতে জাগ্রত †থকে ইবাদত করেন। ক্ষমা প্রত্যাশীদের মধ্য †থকে মুশরিক এবং হিংসুকদের বাদ †দয়া হলেও মাজাহেরে হক কিতাবের ভাষ্য অনুযায়ী আরও ১০ †শ্রণির †লাক আন্তরিক তওবা ব্যতীত ক্ষমার আওতায় আসবে না। তারা হলো- ১. মাতা পিতার অবাধ্যচারী ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী ৩. মদ পানে অভ্যস্ত ব্যক্তি ৪. †যনাকারী ৫. যুলুম করে কর আদায়কারী ৬. যাদুকর ৭. গণক ৮. বাদ্যযন্ত্র বাদক ৯. ভবিষ্যত বক্তা ১০. পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধানকারী।
হাদীসত্রয় সম্পর্কে কিছু কথা
উপরোক্ত হাদীসত্রয়কে †কউ †কউ যঈফ হিসেবে সাব্যস্ত করে বলেন †য, যঈফ হাদীস অনুযায়ী আমল করা যাবে না। সুতরাং এ রাতের ইবাদত ভিত্তিহীন।
যারা এ ধরনের কথা বলেন তাদেরকে অর্বাচীন বলে মনে হয়। হাদীসের প্রসিদ্ধ ইমামগণের †কউই এ ধরনের কথা বলেননি। ইমাম আবূ হানীফা (র
হাদীস শাস্ত্রের মূল নীতি অনুযায়ী দুর্বল হাদীসের সমর্থনে যদি সহীহ হাদীস থাকে তবে উক্ত দুর্বল হাদীস †মাতাবেক আমল করা যাবে। শবেবরাতের সমর্থক হাদীস সমূহের সমর্থনে নিুোক্ত সহীহ হাদীস বিদ্যমান।
“মহান আল্লাহ প্রতি রাতের †শষভাগে নিকটবর্তী আকাশে এসে বান্দাদের সম্বোধন করে বলেন, †ক আছো আমার নিকট প্রার্থনাকারী, আমি তার প্রার্থনা কবুল করবো। †ক আছো আমার নিকট কিছু চাওয়ার আমি তাকে তা দান করবো। †ক আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা)।
করণীয় কার্যাবলী সাধ্য অনুযায়ী ইবাদাত বন্দেগী করা
ক্স দান খয়রাতের হাত প্রসারিত করা
ক্স অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা
ক্স নফল †রাযা রাখা
ক্স নিজের কৃত গুনাহ স্মরণ করে অধিক পরিমাণে তওবা করা
ক্স মাতা পিতার প্রতি সর্বদা দয়ার হাত প্রসারিত থাকবে এ প্রতিশ্র“তি করে তাদের প্রতি যতœবান হওয়া
ক্স আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজার রাখা
ক্স মদ, সুদ, ঘুষ পরিহার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে হালাল উপায়ে অর্থ উপার্জনে সচেষ্ট হওয়া
ক্স †যনা-ব্যভিচার পরিহার করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজ পরিহার করা
ক্স অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় এবং আত্মসাৎ না করা
ক্স গণকের কাছে ভাগ্যলিপি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য যাওয়াকে চিরতরে বন্ধ করা
ক্স অশালীন গান, বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্?ান বর্জনের মানসিকতা তৈরী করা
ক্স ভবিষ্যত সম্পর্কে মন্তব্য করা বা তা বিশ্বাস করা পরিহার করা
ক্স পুরুষের টাখনুর নিচে †পাশাক পরিধান বর্জন করা
ক্স গীবত, †চাগলখুরি, পরনিন্দা ইত্যাদি পরিহার করা।
এক কথায়, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হবার জন্য যা যা গুণ অর্জন প্রয়োজন শবে বারাতের ইবাদাত বন্দেগী করার সাথে সাথে †স গুণগুলো অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা।
বর্জনীয় কার্যাবলী
শবেবরাত একটি ফযিলাতপূর্ণ রজনী। এ রাতে শরীয়তের নির্দেশ †মাতাবেক ইবাদত করলে বিপুল †নকী হয়। কিন্তু কিছু ভাগ্যাহত মুসলিম এ রাতে এমন কতকগুলো শরীয়ত বিরোধী কাজ করেন, যার ফলে গুনাহ মাফ হবার পরিবর্তে আরও নতুন গুনাহ †যাগ হয়। †যমন-
ক্স সারারাত ইবাদাত করে ফজর নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়া
ক্স আতশবাজী ফুটানো
ক্স হালুয়া রুটি বিতরণ
ক্স সরকারী-†বসরকারী ভবনে আলোকসজ্জা করা
ক্স কবরস্থানগুলোতে আগরবাতি, †মামবাতি জ্বালানো
ক্স মৃত ব্যক্তিদের রুহ নিজেদের বাসস্থানে আসে এ ধারণা বর্জন করা
ক্স এ রাতে ঘুমানোকে অন্যায় মনে করা
ক্স কমপক্ষে ১০০ রাকাআত নামায পড়তেই হবে এ ধরনের ধারণা পরিহার করা
ক্স দলবেধে কবরস্থানে যাওয়াকে আবশ্যক মনে করা ইত্যাদি।
†শষ কথা
শবেবরাত আসে আবার চলে যায়। অনেক মুসলিম এ রাতটিকে নাজাত পাবার উছিলা মনে করে সারা রাত ইবাদাত করে থাকেন। তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে ফজরের নামায কাযা না হয় এবং ইসলাম বিদ্বেষী কাজ করে ছাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ কামাই না হয়। মনে রাখতে হবে, আনুষ্?ানসর্বস্ব প্রাণহীন ইবাদাতের †কান মূল্য ইসলামে †নই। ইসলামের রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনকা?ামো।। তাই ভাগ্য উন্নয়ন এবং নাজাত লাভের জন্য দুই এক রাত †জগে ইবাদত করা বা তওবা ইস্তেগফার করাই যথেষ্ট নয়; বরং সামগ্রিক জীবনকেই কুরআন-সুন্নাহ মুতাবেক গ?িত ও পরিচালিত করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


