somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈমান ও ইহসানের উৎকর্ষতাই ইহকাল ও পরকালের মুক্তি: মৌলবাদী ইসলামী দলগুলির কর্মপন্থায় তা কি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে ?

২৩ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এ আলোচনার প্রারম্ভে মৌলবাদ সম্পর্কে দু একটি কথা বলে শুরু করাই সংগত মনে করি । মৌলবাদ মূলত একটি কঠুর নীতি বা শৃংখলার অনুগত ।এটি মূলত ধর্মীয় মুল নীতির সাথে রক্ষনশীলদের বুঝাতে ব্যাবহৃত হয় । মৌলবাদকে আবার প্রায়শই একটি সংগবদ্ধ জঙ্গি প্রচার আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয় । মৌলবাদ শব্দটি মুসলমান ,খৃষ্টান কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বীদের বেলাতেও সমভাবে প্রযুয্য । মৌলবাদ আবির্ভাব সম্পর্কে Oxford Dictionary এর সংজ্ঞাটি বেশ প্রনিধান যোগ্য, যেখানে বলা হয়েছে :
Modern Christian fundamentalism arose from American millenarian sects of the 19th century, and has become associated with reaction against social and political liberalism and rejection of the theory of evolution.
Islamic fundamentalism appeared in the 18th and 19th centuries as a reaction to the disintegration of Islamic political and economic power, asserting that Islam is central to both state and society and advocating strict adherence to the Koran (Qur’an) and to Islamic law (sharia
মৌলবাদ এবং মুক্তচিন্তাবাদীদের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো এই যে মৌলবাদীরা অতিমাত্রায় রক্ষনশীল ও মুক্তবাদীদের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিতেও পিছপা হয়না আর মুক্তবদীরা সকলের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাবের প্রকাশ ঘটায় কাজে কর্মে ও মননশীলতায় । কোরান এর আয়াত থেকে জানা যায় মানুষকে আল্লা বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন করে ( rational) সৃস্টি করেছেন । এজন্যই মানুষকে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী (rational human being ) আসরাফুল মাখলুকাত তথা সৃস্টির সেরাজীব বলা হয়ে থাকে ।

মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই তার বিশ্বাসের গভীরতা পরখের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় । ভাল মন্দ বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মুক্তচিন্তার অধিকারী করে সৃষ্ট আদি পুরুষ হযরত আদম (আঃ) ও আদি মাতা বিবি হাওয়াকে সৃস্টিলগ্ন থেকেই বেহেস্তে বসবাস করতে দেয়া হয়েছিল। তবে আল্লা তাঁদেরকে বেহেস্তের সকল বৃক্ষের ফল খাওয়ার অনুমতি দিলেও গন্দম বৃক্ষের ধারে কাছে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন । কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তাঁরা নিষেধ আমান্য করে অবাধ্য এবং অবিশ্বাসী হিসাবে পরিণত হন । অনুতপ্ত আদম ও হাওয়ার আকুল আকুতির ফলে আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন । পৃথিবীতে প্রেরণের পর তাঁদেরকে ভাল মন্দ ,সৎ অসৎ, জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ , সেগুলির প্রাপ্তি তথা আবাদ পদ্বতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কেও জ্ঞান দান করেন । পৃথিবীর ক্ষনস্থায়ী জীবন শেষে তাঁদের তথা প্রতিটি মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে আল্লার কাছে আবার প্রত্যাবর্তন করতে হবে বলেও অবহিত করেন । আল্লার সমীপে প্রত্যাবর্তনের পর পৃথিবীতে বসবাসকালীন সময়ে মানুষের কৃত কর্মের তথা ভাল ও মন্দ কর্মের ভিত্তিতে পুরস্কার কিংবা শাস্তির বিধান দেয়া হবে বলেও জানান । পুরস্কার প্রাপ্তদের বসবাসের জন্য় রয়েছে বিভিন্ন রকমের আরামদায়ক ও সুখদায়ক ব্যবস্থা সস্বলিত বেহেস্ত আর পাপীদের জন্য নির্ধারিত স্থান হলো জাহান্নাম বা দোজখ যেখানে রয়েছে ভয়াবহতম শাস্তির আয়োজন ।

যারা আল্লাহ, রাসুল, আখিরাত ও তাঁর বিধি বিধান সমুহে বিশ্বাস করবে, পবিত্র কোরানে তাদেরকে বিশ্বাসী হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে আর এর অন্যথা কারীদেরকে অবিশ্বাসি হিসাবে অভিহিত করা হবে বলেও পরিস্কার উল্লেখ রয়েছে। পুর্বেই বলা হয়েছে আল্লাতায়ালা মানুষকে সৃস্টি করেছেন বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী হিসাবে । তারপর বয়:বৃদ্ধির সাথে কতক হয়েছে অদৃশ্যে ( সৃস্টিকর্তা আল্লা ও পরকাল সম্পর্কে) বিশ্বাসী আর কতক হয়েছে অবিশ্বাসি ।

আল্লার একত্বে এবং হযরত মোহাম্মদ ( সা:) কে আল্লার সর্বশেষ প্রেরিত রাসুল হিসাবে বিশ্বাসী এবং কোরানের বিধানের প্রতি নিষ্ঠাবান মানব সম্প্রদায় আল ইসলামের অন্তর্ভুক্ত । যে সমস্ত মানুষ কিংবা জাতি ইসলামকে অনুসরণ করে তাদের কে ধর্মীয় জগতে মুসলিম হিসাবে অভিহিত করা হয়। আল ইসলাম এর আলোকেই ঈমান হয় শক্তিশালী আর ইহসান হয় উকর্ষমন্ডিত । তাই ইসলাম, ঈমান ও ইহসান এই তিনটি পরস্পর গভীর সম্পর্কযুক্ত।


ইসলামী ধর্মবিশ্বাস অর্থাৎ আল্লার প্রতি সম্পুর্ণভাবে সমর্পিত ঈমানের বলে বলিয়ান হয়েই মুমিনের পথচলা । মূল লক্ষ্য হলো ঈমানের সকল আবশ্যকীয় বিষয়াবলি ( যথা আল্লা ফেরেসতা, রাসুল, কোরান, আখেরাত এবং আল্লাহ নির্ধারিত ভাল মন্দ ভাগ্যের উপর বিশ্বাস) সঠিকভাবে হৃদয়ে ধারণ , পোষন ও বাস্তব জগতে কর্মের মধ্যে প্রতিফলন করে ইহকালেই পরকালের মুক্তির পাথেয় অর্জনের জন্য মানব জীবনের পরিপুর্ণতা ও উৎকর্ষতা সাধন করা । যেমনটি দেখানো হয়েছে প্রচ্ছদের ডায়াগ্রামে ( আলোচনার সুবিধার্থে পুন:উপস্থাপন করা হলো ।


নীজকে আল্লাহ তে সমর্পিত ইসলাম মূলত একটিই । এই ইসলাম থেকে যা বিকশিত হওয়ার কথা তাহল ঈমান ও ইহসান । কিন্তু বাস্তবে কি দেখছি আমরা । অমরা দেখছি ইসলাম থেকে প্রথমেই বিকশিত হচ্ছে বিভিন্ন নামের ইসলামী সংঠন । যেমনটি নিম্মের চিত্রে দেখা যায় ।


তাই বলছি নাম দিয়ে কাম কি , বরং কর্মেই হোক পরিচয় । যেমন হতে পারে 'মানুষের জন্য মানুষের দল, সত্য সেবক দল , মুক্তির পথযাত্রি দল, মানবিক মূল্য বোধের দল । দলের মেনোফেস্টো বা গঠন তন্ত্রে থাকবে একটি মাত্র শব্ধ কোরান ও সুন্নার আলোকে কর্মপরিচালনার বিধি বিধান ( গঠন তন্ত্রের শেষাংশে কিংবা প্রারম্ভে সংলঘ্নী আকারে সমগ্র কোরান শরীফ কে যুক্ত করে দিলে আর কোন বিভ্রান্তি থাকবেনা , কেননা কোরান তো একটিই ্‌এবং সকলের কাছেই শ্রদ্ধার সহিত গ্রহণযোগ্য ) সবাই ধরে নিবে সকলের লক্ষ উদ্দেশ্য একটাই। তখন আর নাম দেখে বিভ্রানত না হয়ে বরং কাম ও দলের নেতাদের ব্যাক্তিগত চরিত্র , পুর্ব ইতিহাস ও কৃতি , আচার আচরণ , সততা , দক্ষতা ও নিষ্ঠা দেখে মানুষ ঠিক করে নিবে নীজের, সমাজের ও দেশের ভালর জন্য কোন দলটি অনুসরনীয় ।

আলোচনার এ পর্যায়ে ইসলামী সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিনয় প্রদর্শন পুর্বক অনুরোধ করব বিভিন্ন নামে বিকশিত ইসলামী সংগঠনগুলি তাদের বিভিন্ন মাত্রার ভিশন মিশন বাস্তবায়নের জন্য এক ও অভিন্ন ইসলামকে বিভিন্ন নামের আবহে কি ভাবে দ্বিধান্বিত করছে তা, একটু বিবেচনা করে দেখার জন্য । সাধারণ মানুষ কোন ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হবে তা নিয়ে আজ চরম বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত। কেও কিন্তু বলছেনা যে, ইসলামী নাম সংবলিত যেকোন একটি সংগঠনে যোগ দিয়ে দ্বীন ও দুনিয়া হাছিল করুন। সবাই বলছে তাদের ইসলামের পতাকাতলে যোগ দিলেই মুক্তি, সকলেরই একটি করে সতন্ত্র পতাকা রয়েছে, রয়েছে লগু, নীতিমালা ও আদর্শ ।

কিন্তু শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে এদেশে ইসলামের প্রচার, প্রসার ও বিকাশ হয়েছে কোন রূপ রাজনৈতিক মতাদর্শী ইসলাম নামদারী সংগঠনের অবর্তমানেই । শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে শত নিপীড়ন ও নির্যাতনের পরেও লক্ষ/কোটি মানূষ সমবেত হয়েছে ইসলামের পতাকাতলে । তারা ইসলামে দিক্ষিত হয়েছে ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে পথ চলতে দেখে । তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে ইসলামের আলোকে আলোকিত আলেম উলামা সুফি দরবেশদের সহজ সরল শান্তিময় জীবনা দর্শন দেখে ।
ইসলামের নীতি দর্শনের আলোকে একজন ব্যক্তির জন্য বরং নীচের পথ পরিক্রমাই অধীক যুক্তিযুক্ত দেখা যায় ।


ইসলামে সমর্পিত ব্যক্তি থেকে বিকশিত হবে ঈমান, বিকাশ ঘটবে পরিপুর্ণতা ও পাবে উৎকর্ষতা, ইসলামী আলোতে উদ্ভাসিত মানুষ নিজেই নীজ উদ্যোগে ব্রতি হবে অপরের জন্য মংগল কামনায়, নীজের সৎকাজ ও উত্তম গুনাবলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বমানবতাকে নিয়ে যাবে ইসলামী বিশ্বাসের সর্বোচ্য সোপানে। নিয়ে যাবেনা বিশেষ কোন ইসলামী সংগঠনে বরং তাকে নিয়ে যাবে এক ও অদ্বিতীয় ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মাচারে । এরকম কাজের জন্য প্রয়োজন হবে নীজের উত্তম চারিত্রক গুনাবলীর। তবে প্রশ্ন থেকে যায় একটি বিশেষ কোন দলের কর্মী, সমর্থক ও অনুসারী না হয়ে একজন মানুষ কি উত্তম চারিত্রিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষে পরিনত হতে পারবে না । বলা হয়, প্রয়োজনীয় উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বিশেষ বিশেষ ইসলামী সংগঠন গুরুত্বপুর্ণ সহায়ক ভুমিকা পালন করে । তাই এরকম ইসলামী সংগঠনের প্রয়োজন আছে ।

এক্ষেত্রে তাহলে সংগতভাবেই আরো একটি বড় প্রশ্ন সামনে চলে আসে। তাহল এসমস্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা/প্রবত্তাগণ কিভাবে নিজেদেরকে ঈমানদার আলোকিত ব্যাক্তি হিসাবে গড়ে তোলেছিলেন সংগঠন গড়ে তোলার পুর্বেই । নীজেরা যদি কোন সংগঠনের সদস্য/কর্মী/অনুসারী না হয়েও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন, গড়তে পারেন সংগঠন,আহবান করতে পারেন অন্যকে সে সংগঠনে যোগ দিতে ,তাহলে অন্যদের বেলাতেও তা প্রযুয্য হবেনা কেন? বুঝাই যাচ্ছে সাচ্চা ঈমানদার ও সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে জীবন গড়ার জ্‌ন্য বিশেষ কোন ইসলামী নামদারী দল গঠনের বা তার অনুসারী হওয়ার আবশ্যকীয়তা নেই, যদিনা অন্তরে অন্য কোন খায়েশ থাকে । এ ক্ষেত্রে নীজেকে কোরান ও সোন্নার আলোকে একজন বিশ্বাসী ঈমানদার মুসলমান হিসাবে গড়ে তুলাই মুখ্য কাজ , তখন ইসলামের সত্যের আলোকেই পথ পাথেয় ও কর্ম ঠিক করে নিবে ।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে এদেশে ইসলাম যখন রাস্ট্র ধর্ম হিসাবে স্বিকৃত ছিলনা তখনই এর প্রচার ও প্রসার হয়ছে ব্যাপকতর । কিন্তু যখনই বিভিন্ন ইসলামী নামের বাতাবয়নে এটা ব্রেকেট বন্ধী হয়েছে তখন থেকেই দেখা গেছে বিভিন্ন মতানৈক্যের । সৃষ্টি হয়েছে বিভন্ন উগ্রপন্থী, চড়মপন্থী, মধ্যপন্থী ও নরমপন্থীর । পরিনামে যা হচ্ছে তা তো দেশাবাসী জগতবাসী আজ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছে । তবে সূখের কথা অনেক বাগ বিতন্ডা ও ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে ইসলাম এখন এ দেশের রাষ্ট ধর্ম , মহান সৃস্টি কর্তা আল্লাই এর রক্ষক ।

তাই আল্লাতে সমর্পিত ইসলামী মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রতিটি মানবের উচিত হবে সর্বশক্তিমান আল্লাকে সর্বান্তকরনে সর্বোতভাবে বিশ্বাস করা । বিশ্বাস করা আল্লার বাণিতে । আল্লার কালামের মুল লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও প্রয়োগ ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী জীবনাদর্শ পরিচালনা করা । আল্লার দ্বীনকে আল্লা নীজে স্বহস্তে রক্ষা করবেন, প্রসার করবেন ও মহামান্বিত করবেন এ বিশ্বাস অটুট রাখা । দুনিয়ার তাবত মানুষই আল্লার সৃষ্ট, তার সীমাহীন রহমতের গুনেই তারা এ দুনিয়ায় বসবাস করছে । কেননা এটা আল্লার অভিপ্রায় নয় যে তার সৃস্টিকুলের কোন অনিষ্ট হয় । তাদের মংগলের জন্য আল্লাহ প্রেরণ করেছেন রাসুল, নাযীল করেছেন স্বব্যখ্যাত কোরান , যেখানে পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে জীবনাচারের বিধানাবলী, যা হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়েছেন রাসুল । আল্লাহ দ্বীন কে করে দিয়েছেন পরিপুর্ণ সহজ সরল, যাতে করে যে কেও তা পালন করতে পারে অতি সহজেই । আল্লাহ তার দ্বীনকে রক্ষার জন্য কারো মুখাপেক্ষি নহেন । তবে যার যার নীজের ঈমানকে মজবুত ,পরিপুর্ণ এবং সকল প্রকার মানবিকগুনে গুনান্বিত করার দায়ীত্ব আল্লাহ প্রতিটি ব্যাক্তি সত্তার উপরই ছেড়ে দিয়েছেন তাকে বুদ্ধিমত্তা ও মুক্তচিন্তার অধিকারী মানব হিসাবে সৃষ্টি করে ।

মুক্ত চিন্তার অধিকারী মানবের ইসলামী জ্ঞান অর্জন ও তা প্রতিপালনের জন্য আজ রয়েছে বিভিন্ন মাধ্যম। রয়েছে মুল অবিকৃত কোরান ও হাদিস গ্রন্থের বিশাল সমারোহ দুনিয়া ব্যপী । মুসলিম, নন -মুসলিম জগতের যে কোন প্রান্ত থেকেই আজ পালন করা যায় ইসলাম ধর্ম । ইষ্ট লন্ডন তো বলতে গেলে এখন দুনিয়াব্যপী ইসলাম ধর্ম বিকাশের একটি শক্তিশালি কেন্দ্রে পর্যবেশিত । যেখানে রাস্ট ধর্ম ইসলাম নেই এমনকি নেই পবিত্র ঈদের দিনে ও জুম্মার দিনেও কোন ছুটি সেখানেও ইসলাম ধর্ম পালনে কোন বিশেষ অসুবিধা হয়না বরং উল্টাটাই দেখা যায় , যেমন বিভিন্ন ইসলাম অধ্যুসিত দেশে/ জনপদে বিভিন্ন ইসলামী ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মতানৈক্য, বিভ্রান্তি এমনকি উগ্র ও হিংস্র কার্যকলাপ যা দিন ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তাই আসুন পবিত্র কোরানে সহজ সরল ও নমনীয় যে সমস্ত নির্দেশাবলী রয়েছে ( আল্লা তায়ালার সকল নির্দেশনাবলীই সমভাবে সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করা আবশ্যকীয়, তবে মানুষকে তিনি যে সমস্ত আয়াতে হেদায়েতের সুরে পরম মমতায় ( a kind of flexibility) সত্য পথে আসার জন্য আহবান জানিয়েছেন, দেখিয়েছেন মহাপুরস্কারের প্রলোভন, উদাহরণ দেখিয়েছেন পথভ্রষ্টদের তিনি কিভাবে নীজ হাতে শাস্তি দিয়েছেন ভ্রান্তপথে ও গোমরাহীতে নিমজ্জিত থাকার জন্য, কারণ পুরস্কার ও শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র তারই উপর ) এবং রাসুল (সাঃ) কিভাবে বিধর্মী কাফেরদেরকে এমনকি যে বা যারা তাঁর চলার পথে কাটা বিছিয়ে রাখতো, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য নাংগা তলোয়ার নিয়ে পথে প্রান্তরে খুঁজে ফিরত অবিরত তাদেরকেও কি ভাবে ভালবেসে , আদর সোহাগ দিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামের পতাকাতলে নিয়ে এসেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় এ বিশ্বায়নের যুগে সেগুলিকেই প্রয়োগের জন্য নিজেদেরক গড়ে তুলা আশু কর্তব্য । কোরান ও হাদিসের নমনীয় ও উদার বিষয়গুলিকে ধর্মী- বিধর্মী সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ভাবে (অবশ্যই অবিকৃতভাবে) প্রয়োগের কর্মসূচী নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক, জাতীয় ও বিশ্বজনীন সার্বিক মুক্তি ও কল্যান সাধনের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে এখনকার সময়ের দাবী । আর এ লক্ষেই আমাদেরকে উত্তম, আদর্শবাদী ও মুক্তবাদী চিন্তার চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী হিসাবে গড়ে তোলে কলমের যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে হবে শত প্রতিকুলতা মধ্যেও ভিতরে (আত্ম শুদ্ধি) ও বাইরে (বৃহত্তর কর্মপরিসরে)।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৪৮
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×