আজকাল কেউ যদি একটু একা থাকার চিন্তা করেন তাহলেই বাধে বিপত্তি! কেউ যদি বলে 'আগামীকাল আমি একটু মার্কেটে যাব, কিংবা আগামীকাল আমি একটু বেড়াতে যাব' তাহলে তা নিয়ে কেউই মাথা ঘামায়না। কিন্তু কেউ যদি শুধু একবার বলে যে 'আমি আগামীকাল একটু একা থাকব', কিংবা যদি বলে 'আমি আগামীকাল একটু একা থাকতে চাই' তাহলেই বিপত্তি। কী সমস্যা, কী হয়েছে, কেন এমন হলো এ ধরনের হাজারো প্রশ্নেজর্জরিত করে ঐ ব্যক্তিটিকে! ছোট বড় সবাই লোকটির দিকে তাকায় সন্দেহের চোখে।
বিয়ের বেলায়ই ধরুননা, কেউ যদি বয়স হবার পরও বিয়ে না করে কিংবা যদি বলে সে জীবনেও বিয়ে করবেনা তবে সেটা সবাই সন্দেহের চোখে দেখে। সবাই তার শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যা আছে কিনা সেসব নিয়ে কানাঘুষা করে! এটাই আমাদের স্বভাব। কিন্তু সবারই বুঝা উচিত অনেকেই এমন আছেন যারা কাউকে ভালবেসেছিলেন হয়তো মনপ্রাণ উজার করে কিন্তু তাকে না পাবার কষ্টে হয়তো তিনি ব্যাচেলর থাকতে চাচ্ছেন! আর তিনি যদি সেটা করেনই তবে সেটা কি তার ভালবাসাকেই শ্রদ্ধা করা নয়? অবশ্যই। তবে আজকাল মানুষের হূদয় বদলে গেছে। সেটা হয়ে গেছে ক্লাসের ্ব্নাকবোর্ডের মতো। আজকাল একধরনের তথাকথিত প্রেমিকেরা ( এসব তথাকথিত প্রেমিকের জন্যই আমাদের আজ এ অবস্থা। আইয়ুব বাচ্চুরা তাই আজ গানে গানে বলেন-নাই নাই নাই দেশে ভালোবাসা নাই!') হূদয়ের মাঝে যে কারো নাম সেখানে চক দিয়ে লিখে আবার মুছে ফেলে। ইচ্ছে করলেই আজকাল যে কেউ যে কাউকে ভালবেসে প্রয়োজন শেষ হলে পথ মাপতে শুরু করে! আর হাসতে হাসতে বলে-'যাক বাবা, আপদটা গেল, এখন নতুন আরেকটা জুটানো যাবে'। এ ধরনের প্রেমিক প্রেমিকারা কিন্তু ব্যাচেলর থাকেন না। তাদের থাকারও দরকার নেই। আসলে ভালবাসার মানুষটার নামটা কোথায় লেখা হল মুখে নাকি হূদয়ে সেটাই দেখার বিষয়! তবে নাম যদি লেখা হয় হূদয়ে তবে প্রেমে ব্যর্থ হয়েওতো আর সে নামটাকে হূদয় থেকে মুছে ফেলা যায়না। মুছে ফেলা যায়না সব কাব্যময় স্মৃতি! মান্না দে'র গানে আছে না- 'যদি কাগজে লিখ নাম, কাগজ ছিড়ে যাবে/পাথরে লিখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে/যদি হূদয়ে লিখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।' হূদয় থেকে যদি কাব্যময় কারো নাম মুছে ফেলা সম্ভব না হয় তবে সে ব্যর্থ প্রেমিকের পক্ষে বাপ ভাইয়ের কথায় কিংবা সামাজিকতার চাপে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে শুধু মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করাটা কি বোকামী নয়? একশত ভাগ বোকামী! তার চেয়ে ব্যাচেলর থাকাটা মনে হয় অনেক ভালো। কারণ সে প্রেমিকতো ইতোমধ্যে ত্রিদিব দস্তিদারের কথা অনুযায়ী 'ভালবাসতে বাসতে ফতুর করে দেব' দর্শনে বিশ্বাস করে সে নিজেই ফতুর হয়ে গিয়েছে। অন্যকে আর নতুন করে ফতুর করে লাভটা কী? সম্রাট শাহজাহান যদি মমতাজকে ভালবেসে একটা তাজমহল গড়তে পারেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যদি বরুনাকে ভালবেসে দুরন্ত ষাড়ের চোখে বাধতে পারেন লাল কাপড়, বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুজে আনতে পারেন 108টি নীলপদ্ম। তবে একজন খাটি প্রেমিক না হয় কাউকে ভালবেসে আজীবন ব্যাচেলরই থাকলেন! এটাই মনে হয় একজন খাটি প্রেমিকের পক্ষে একটি বিশাল তাজমহল বানানো, দুরন্ত ষাড়ের চোখে লাল কাপড় বাধা কিংবা বিশ্ব সংসার তন্ন তন্নকরে 108টি নীলপদ্ম খুজে আনার চেয়ে সহজ !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




