আসলে 'বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ' একটি জটিল খেলা। ছেলে যদি বউয়ের কথায় চলেন তবে বউয়ের মা অথ্যর্াৎ ছেলের শাশুড়ী খুশী হন । অন্যদিকে ছেলের মা হন অখুশী। আবার ছেলে যদি তার নিজের মায়ের কথায় চলেন তবে বউ হন অখুশী, সাথে বউয়ের মাও। আসলে বিয়ের পরে পুরুষটা হয়ে পড়েন দু পক্ষের খেলার পুতুল। বউ এবং শাশুড়ী দুপক্ষই চান নিজের মত করে চালাতে! তবে এক্ষেত্র শাশুড়ীরা মনে হয় একটু বাড়াবাড়ি বেশীই করেন। তারা যেন ভুলেই যান যে তারা একসময় বউ ছিলেন কিংবা তাদের মেয়েটাও অন্যবাড়ির বউ হয়েছে কিংবা হবে। কিন্তু বউ যে একেবারে নিস্পাপ সে রকমটা নয়। তবে উভয়পক্ষেরই জানা উচিত একটা গাড়ী একই সাথে দু'জন ড্রাইভার চালাতে পারেন না। তাতে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।
বউ-শাশুড়ীর যুদ্ধের কারনে সংসারে ঝামেলা দেখা যায়, সংসার ভাঙ্গে। আর সংসার ভেঙ্গে গেলে কিংবা সংসারে অশান্তি স্মৃষ্টি হলে আবার শুরু হয় কাদাছোড়াছুড়ির খেলা। তারা এর জন্য একে অপরকে দায়ী করেন। বউ দায়ী করেন শাশুড়ীকে আর শাশুড়ী দায়ী করেন বউকে। কেউই কিন্তু ছেলে কিংবা জামাইকে দায়ী করেন না। তবে এক্ষেত্রে মনে হয় মিসেস জেনিফার একটু ব্যতিক্রম। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসকারী এ মহিলা হতে চেয়েছিলেন পৃথিবীর মধুরতম শাশুড়ি । তাই সিদ্ধান্তনিয়েছিলেন যে, তিনি ভুলে যাবেন না যা সব শাশুড়ীরা ভুলে যায়। প্রথমে ছেলে উইলিয়ামকে বিয়ে করালেন। ব্যস! শুরু হয়ে গেলো বিপত্তি। পুত্রবধূর অতি মিষ্টি(!) ব্যবহার তাকে আলাদা হতে বাধ্য করল। তিন মাসের মাথায় তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে ভিন্ন এ্যাপার্টমেন্টে উঠলেন। তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু হতাশ হননি। আশায় বুক বেঁধে তারপর বিয়ে করালেন ছোট ছেলেকে । এখানেও বিধি বাম! ছোট বউয়ের তোপের মুখে এবারও বেশিদিন টিকতে পারলেন না মিসেস জেনিফার। দু'মাসের মাথায় গিয়ে তাকে উঠতে হলো ওল্ড হোমে। আহা বেচারী! মধুরতম শাশুড়ি হতে গিয়ে সংসার থেকে নির্বাসনে যেতে হলো তাকে। এ প্রসঙ্গে অবশ্য তার মন্তব্যটা মনে রাখার মতো। তার মতে-'আমি মধুরতম শাশুড়ি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাপারটা সম্ভব হলো না আমি দুটো ভেড়া প্রসব করেছিলাম বলে।'
জামাইরা অথ্যর্াৎ বিবাহিত ছেলেরা কিন্তু বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ' কখনোই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনা। মা আর বউয়ের দ্বন্ধের মাঝখানে কেবল কষ্ট পায়। আর যখন একা থাকে তখন স্মৃষ্টিকতর্ার কাছে গানের সুরে সুরে প্রার্থণা করে -
'এমন একটা শাশুড়ী দে না যে শাশুড়ী বউকে বুঝে আবার ছেলেকে বুঝে! কিংবা 'এমন একটা বউ দে না যে জামাই বুঝে আবার শাশুড়ী বুঝে '।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




