somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমন একটা শাশুড়ী দে না

২৩ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ' নামে বাংলা ছবি আছে। এ বিষয়ের উপর আছে হিন্দী ছবিও! বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ একটি অতি পরিচিত সামাজিক সঙ্কট। তবে এ সংকটটি সেখানটাতেই বেশী যেখানে যৌথপরিবারের বসবাস রয়েছে। বিশেষ করে এ উপমহাদেশে এটি সংসার ভাঙ্গা কিংবা যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবারে রুপান্তর হবার পিছনের অন্যতম কারণ। বউ-শাশুড়ির যুদ্ধের ব্যপারটা গ্রিক মিথলজিতেও পাওয়া যায়। প্রেমের দেবতা কিউপিডের সাথে বিয়ে হয়েছিলো প্রেমের দেবী সাইকীর। কিনতু কিউপিডের মা দেবী ভেনাস ছিলেন একটু অন্যরকমের। তিনি সাইকীকে সহ্যই করতে পারতেন না। সাইকীকে বিয়ে করার কারণেই তিনি কিউপিডকে আহত, যন্ত্রণাদ্্বগ্ধ দেখেও প্রস্থান করেছিলেন। তার সেবায় এগিয়ে আসেননি। কিউপিডকে হারিয়ে পুত্রবধু সাইকী যখন প্রায় উম্মাদ তখন দেবী ভেনাস তাকে যন্ত্রণা দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি একটি ঝুড়িতে গম, ভুট্টা, পপি সহ অন্যান্য বীজ এনে সাইকীকে দিলেন সেখান থেকে বীজগুলোকে আলাদা করতে। সেটা ছিল একটা কঠিন কাজ। তবে সাইকীকে এ কাজ থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছিল পিপড়ার দল। তারা একটি একটি করে জাতভেদে বীজগুলো সাজিয়ে রেখেছিল। সাইকীর সৌন্দযর্্যহানি ঘটাতে তাকে খেতে দিয়েছিল আধাপেট করে। শুতে দিতেন মাটিতে, আরো অনেক কিছু। কিন্তু কিউপিডের প্রতি সাইকীর ভালবাসায় কোন খেদ ধরাতে পারেননি।
আসলে 'বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ' একটি জটিল খেলা। ছেলে যদি বউয়ের কথায় চলেন তবে বউয়ের মা অথ্যর্াৎ ছেলের শাশুড়ী খুশী হন । অন্যদিকে ছেলের মা হন অখুশী। আবার ছেলে যদি তার নিজের মায়ের কথায় চলেন তবে বউ হন অখুশী, সাথে বউয়ের মাও। আসলে বিয়ের পরে পুরুষটা হয়ে পড়েন দু পক্ষের খেলার পুতুল। বউ এবং শাশুড়ী দুপক্ষই চান নিজের মত করে চালাতে! তবে এক্ষেত্র শাশুড়ীরা মনে হয় একটু বাড়াবাড়ি বেশীই করেন। তারা যেন ভুলেই যান যে তারা একসময় বউ ছিলেন কিংবা তাদের মেয়েটাও অন্যবাড়ির বউ হয়েছে কিংবা হবে। কিন্তু বউ যে একেবারে নিস্পাপ সে রকমটা নয়। তবে উভয়পক্ষেরই জানা উচিত একটা গাড়ী একই সাথে দু'জন ড্রাইভার চালাতে পারেন না। তাতে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।
বউ-শাশুড়ীর যুদ্ধের কারনে সংসারে ঝামেলা দেখা যায়, সংসার ভাঙ্গে। আর সংসার ভেঙ্গে গেলে কিংবা সংসারে অশান্তি স্মৃষ্টি হলে আবার শুরু হয় কাদাছোড়াছুড়ির খেলা। তারা এর জন্য একে অপরকে দায়ী করেন। বউ দায়ী করেন শাশুড়ীকে আর শাশুড়ী দায়ী করেন বউকে। কেউই কিন্তু ছেলে কিংবা জামাইকে দায়ী করেন না। তবে এক্ষেত্রে মনে হয় মিসেস জেনিফার একটু ব্যতিক্রম। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসকারী এ মহিলা হতে চেয়েছিলেন পৃথিবীর মধুরতম শাশুড়ি । তাই সিদ্ধান্তনিয়েছিলেন যে, তিনি ভুলে যাবেন না যা সব শাশুড়ীরা ভুলে যায়। প্রথমে ছেলে উইলিয়ামকে বিয়ে করালেন। ব্যস! শুরু হয়ে গেলো বিপত্তি। পুত্রবধূর অতি মিষ্টি(!) ব্যবহার তাকে আলাদা হতে বাধ্য করল। তিন মাসের মাথায় তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে ভিন্ন এ্যাপার্টমেন্টে উঠলেন। তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু হতাশ হননি। আশায় বুক বেঁধে তারপর বিয়ে করালেন ছোট ছেলেকে । এখানেও বিধি বাম! ছোট বউয়ের তোপের মুখে এবারও বেশিদিন টিকতে পারলেন না মিসেস জেনিফার। দু'মাসের মাথায় গিয়ে তাকে উঠতে হলো ওল্ড হোমে। আহা বেচারী! মধুরতম শাশুড়ি হতে গিয়ে সংসার থেকে নির্বাসনে যেতে হলো তাকে। এ প্রসঙ্গে অবশ্য তার মন্তব্যটা মনে রাখার মতো। তার মতে-'আমি মধুরতম শাশুড়ি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাপারটা সম্ভব হলো না আমি দুটো ভেড়া প্রসব করেছিলাম বলে।'
জামাইরা অথ্যর্াৎ বিবাহিত ছেলেরা কিন্তু বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ' কখনোই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনা। মা আর বউয়ের দ্বন্ধের মাঝখানে কেবল কষ্ট পায়। আর যখন একা থাকে তখন স্মৃষ্টিকতর্ার কাছে গানের সুরে সুরে প্রার্থণা করে -
'এমন একটা শাশুড়ী দে না যে শাশুড়ী বউকে বুঝে আবার ছেলেকে বুঝে! কিংবা 'এমন একটা বউ দে না যে জামাই বুঝে আবার শাশুড়ী বুঝে '।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×