হঠাৎ একদিন তাদের বাড়ীতে পুলিশ এসে হাজির, সবাই ভীত স্বরে কি ব্যপার জানতে চাইলে, পুলিশ কর্মকর্তা বড় ছেলেকে চুরির অপরাধে গ্রেপ্তার করতে চাইল। বড় ছেলেটি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে একটু সময় চেয়ে তার মায়ের সাথে কিছু গোপন কথা বলার জন্য অনুমতি চাইলে, অনুমতি পেয়ে ছেলেটি মায়ের কানে কানে কথা বলার জন্য সামনে এগিয়ে গেল এবং সজোড়ে কানে কামড় দিয়ে কানটি ছিড়ে প্রায় রক্তাত্ত করে ফেলল। মা রাগতস্বরে ছেলে হয়ে মায়ের সাথে এমন দুর্বব্যবহারের জন্য যখন ভৎসনা করছিল ছেলেটি তখন তার এ কৃতকর্মের জন্য তার মাকে দায়ী করে শাস্তি স্বরুপ তার কান ছিড়ে দিয়েছিল।
ছেলেটি তখন সবার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করল তার এই করুণ পরিণতির পেছনে কেন দায়ী তার মা
ছেলেটি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে মায়ের কানে কানে যে কথা বলত তা হল, সেদিন সে স্কুল থেকে কতগুলো কলম, পেন্সিল, খাতা, টিফিন ইত্যাদি চুরি করে নিয়ে এসেছে, পরে সেগুলো তার মাকে দিত। মা এগুলো শাষন করার পরিবর্তে বরং খুশিই হত বেশী। এ ব্যপারে তার মা তাকে কখনো নিষেধও পর্যন্ত করেনি। তাই তো দিনের পর দিন সে চুরি করে গিয়েছে। আর তারই প্রতিফল হিসেবে আজ পুলিশ তাকে পাকরাও করে নিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু যদি প্রথম যেদিন চুরি করা জিনিসগুলো তার মাকে দিয়েছে এবং কানে কানে বলেছে সেদিন যদি তার মা সেগুলো গ্রহণ না করে তাকে শাষন করত তাহলে আজ তার এ পরিণতি হতনা। আর তাইত তার এ অবস্থার জন্য দায়ী মা-এর কান ছিড়ে দিয়ে রক্তাত্ত করেছে ।
আমার এ গল্পটি লেখার কারণ বোধ হয় কারও অজানা নয়।
তবুও লিখেছি, যদি প্রথম থেকেই তার মা সতর্ক হতেন তাহলে আজ জেলের হাসাপাতালে শুয়ে দিন কাটাতে হতনা আমাদের কথিত রাজপূত্রের।
এটা কোন রুপকথা নয় কিংবা রুপকথার গল্পও নয়, বাস্তব সত্য, আমরা সত্যি ভাগ্যবান আমরা এক রাজপূত্রের কারাবাসের চিত্র আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।এটা আমাদের একরকম ভিন্নস্বাদের অভিজ্ঞতা।
আমার ভাল লাগবে যদি, গল্পের মতন আমাদের বাস্তবের নায়ককে কি একটা সুযোগ দেয়া হয় তার মায়ের সাথে সাথে কানে কানে কিছু বলার !!!
আমাদের বাস্তবের নায়ক কি কামড় দিবে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




