হিন্দুদের কেউ মারা গেলে তারা মৃতের নামে শ্রাদ্ধ করে থাকে। ছোট্ট একটা ঘটনা বললে বুঝতে সুবিধা হবে। আমার বাড়ির পাশের বাটুল কাকা এবং তার বড় ছেলে বাসক দাদা মারা গেছে বেশ কিছু দিন পূর্বে। তাদের শ্রাদ্ধ করা হয় নাই কারন বাটুল কাকার দুই ছেলে কোলকাতা থাকে। সময়ের অভাবে তারা বাংলাদেশে আসতে পারে নাই তাই কিছু দিন আগে বাবা এবং ভাইয়ের শ্রাদ্ধ সম্পান্ন করার জন্য তারা দুই ভাই একত্রে দেশে আসে। যথারীতি শ্রাদ্ধের দিন রান্না বান্না করে আশ পাশের মানুষ জনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হল। আশ্চার্যের বিষয় হল, তাদের বিশ্বাস শ্রাদ্ধের দিন মৃতের আত্মা বাড়িতে আসে এবং তারা যা ভাল খেত তাই তাদের খেতে দেওয়া হয়। মৃত মানুষের আত্মা সেই খাবার খেয়ে যায়। সেই মোতাবেক বাগানের একটা বিশেষ জায়গা পরিষ্কার করে সেখানে কলাপাতা দিয়ে রান্না করা খাবার গুলো ঢেকে রাখার ব্যবস্থা হল। সকাল বেলা দেখা গেল প্রত্যেক খাবার থেকে কিছু কিছু খাবার তারা খেয়ে নিয়েছে এবং চাটনির বাটি একদম ফাঁকা। বাসক দাদার মা আমাদের বাড়িতে এসে গল্প করছেন যে বাসক চাটনি যা ভাল খেত;; তাই সবটুকু সাবাড় করে দিয়েছে আর অন্যান্য খাবার তেমন মুখে দেয় নাই। আত্না না খেয়ে যদি কুকুর বা বিড়ালে খেত তাহলেতো সব খাবারই খেয়ে ফেলত সুতরাং আত্মাই এসেছিল। এখন আমার প্রশ্ন হল আত্মাকি রান্না ঘরে প্রবেশ করতে পারে না? বাগানে না খেয়ে রান্না ঘরে ঢেকে রাখলেইতো হত; বাগানে রাখার দরকার কি? এমন বিশ্বাস অলিক কল্পনা বই কিছু নয়।
দুঃখ লাগে যখন দেখি কোন মুসলমান তার পিতা-মাতা বা ভাই বোন কেউ মারা গেলে একই কায়দায় চল্লিশা করে থাকে। হাদীস বিরোধী এসকল কাজ কোথা থেকে আবির্ভাব হয়েছে তা সহজে বুঝা যায়। একদিন মুসলমানরাও বিশ্বাস করবে যে মৃতের আত্মা তাদের প্রিয় মেজবানের খাবার খেতে হাজির হয়ে যাবে। হয়তো একদিন তাদের জন্য প্লেটে করে বাগানে খাবার রাখার ব্যবস্থা হবে। দিনে দিন এভাবে ইসলামকে বিকৃত করার জন্য একদল হুজুর আটঘাট বেঁধে নামবেন। ডাঃ জাকির নায়েকের মতো কেউ এসে বাঁধা দেবার জন্য চেষ্টা করলে তাকে কাফের বলে ফতোয়া দেওয়া হবে। বিচিত্র সেলুকাস আমাদের জীবন।
মূফতী কাজী ইব্রাহীম কে প্রশ্ন করা হয়েছিল মৃতের নামে চল্লিশা করা যাবে কি? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, হ্যা যাবে। এর পর বললেন আপনি যদি চান যে মৃত লোকটা কবরে আরো একটু আযাব ভোগ করুক তাহলে অবশ্যই চল্লিশা বা শ্রাদ্ধ করবেন আর যদি তা না চান তাহলে তার জন্য শুধু দোয়া করবেন। তার নেক সন্তান দোয়া করলে অবশ্যই তা কাজে আসবে। হাজার হাজার হুজুর দিয়ে দোয়া করালেও কোন লাভ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




