somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোজা আঙুল ভাল না - আঙুল বাঁকাতে শিখুন।

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিজ্ঞাপন নির্মাণের সাথে সামান্য হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানেন, কায়েন্টের চাপ কি ভয়াবহ!

না, সেরকম কোনো চাপের গল্প করব না। উদ্ভূত চাপের ক্রিয়ায় আমার প্রতিক্রিয়ার গল্পটা শোনাব।

গতকাল রাতে হুট করে কায়েন্টের ফোন - কাল সকালের মধ্যে গুড়া মসলার এ্যাডের একটা স্ক্রিপট চাই। আপনারা আবার ভেবে বসবেন না যে - স্ক্রীপট হাতে পেলেই তারা পরদিন আমাকে শু্যটিংয়ে যেতে বলবেন। দেখা যাবে 3 মাস পরে কোনো একদিন খবর হয়েছে। যাহোক, ধান ভাঙতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে।

হোলনাইট ফাইট দিয়ে একটা স্ক্রীপট দাঁড় করালাম। ভোরে ন্যাচারালি উঠতে দেরী। ঘুম থেকে উঠে দেখি 10.30। 12 টার মধ্যে যেতে হবে। ব্রেকফাস্টের গুলি্ল মারি। দ্রুত পোশাক পরে ছুটলাম। মো:পুর টু মতিঝিল। বাসের কাউন্টারের লাইন দেখে আঁতকে উঠলো প্রাণ। সমস্ত শহরই তিন দিনের অবরোধ শেষে বোধহয় আজ জেগে উঠেছে। না, কোনোভাবেই বাসে যাওয়া যাবে না। উপায়?

উপায় সিএনজি। সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে নেই। মাঝে মাঝে একটা দুটো হুশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশই ভরা। 10 মিনিট কেটে গেল। ঘড়িতে 11টা । আমার ইতিমধ্যে মেজাজ খারাপ হতে শুরু করেছে। দূর থেকে একটা কালো ক্যাব এসে থামলো। হুড়মুড় করে তাতে এক মহিলা উঠলেন। আমি কোনো কথা বলারই সুযোগ পেলাম না। মহিলাটা জিতে গেল । মেয়েরা সবসময় এমন করে জিতে যায়।

বার বার ঘড়ি দেখছি। সেকেণ্ডের কাঁটা কি আগেও এত দ্রুত চলত? না কি আজই হুট করে ঘড়ির তিনটি কাঁটা কমপিটিশনে নেমেছে।

এবার এলো একটা ইয়েলো ক্যাব। এবার আর কোনো মহিলাকে সুযোগ দেয়া হবে না। প্রায় দৌড়ে গিয়ে ধরে ফেললাম। কিন্তু তিনি মতিঝিল যাবেন না। রাস্তার মধ্যে হুট করে একজন মানুষের পাদুটো চেপে ধরলে খুব লজ্জার ব্যাপার হবে কি না- একবার ভেবে দেখলাম। প্রেস্টিজে বাঁধছে। তারচেয়ে বরং টাকার অফার করি।

বললাম, 10 টাকা বাড়িয়ে দেব। ক্যাবওয়ালা আমার দিকে এমনভাবে তাকালো - মনে হলো আমার মত ফকির সে এই জীবনে দেখেনি। ইচ্ছে হলো, শালার কানের ঠিক দুআঙুল নীচে বসাই একটা ঘুষি। আর আমার ঘুষি মানে বুঝতেই পারছেন - ছোটবেলায় ডিম দুধ কম খাই নাই।

কিন্তু, পারলাম না। এবার ঠিক করলাম - শালাকে নীলামে চড়াই। বাড়াতে লাগলাম মিটারের ওপরে টাকার পরিমাণ। 20 টাকা, 30 টাকা ------ 50 টাকা। শেষ পর্যন্ত মিটারের ডবল। রাজী হয় না। এরমধ্যে ফিট বাবুটি সেজে এক সু্যট পরা ভদ্রলোক এলেন বারিধারা যাবেন। ক্যাবওয়ালা একটা কথা না বলে তাকে নিয়ে হুশ করে বেরিয়ে গেল। আমাকে নিলো না কেন? সু্যট পরে ভদ্রলোক সাজিনি - এজন্য। নাহ, ফরম্যাল ড্রেস পরব না - বিষয়টা নিয়ে আর মৌলবাদি আচরণ করব না। মাই ক্যাজুয়াল ড্রেস সাকস্।

ঘড়িতে 11.20। সহ্যের শেষ সীমায় আমি। হাঁটতে শুরু করলাম। মাথা কাজ করছে না। বাসের লাইনে দাঁড়ালে এতণে উঠে যেতে পারতাম হয়ত। গলির শেষ মাথায় একটা সি এন জি। ইউরেকা, ইউরেকা। দে দৌড়। তার কাছে যেয়ে অত্যন্ত বিনীতভাবে বুঝিয়ে বললাম আমার সমস্যাটুকু। তিনি ততোধিক বিনীতভাবে আমাকে বললেন, তিনি এখন চা খাবেন। চা খাওয়া শেষে উত্তরার খেপ মারার চেষ্টা করবেন। মতিঝলের প্রশ্নই ওঠে না। এবার আমার বিদ্রোহের পালা।

একপশলা গালির বৃষ্টি। আমি সিএনজির ভেতরে উঠে গাট হয়ে বসলাম। বললাম, 'আমাকে মতিঝিল না নামায়ে আপনি উত্তরা তো উত্তরা - জাহান্নামের খেপও মারতে পারবেন না। এই আমি বসলাম। বাসায়ও আইজ যাইতে পারবেন না।' ইতিমধ্যে আমার গালাগালির ফোয়ারায় লোক জমে গেছে। মানুষগুলি আওয়ামীলীগ বিএনপির মত দুভাগ না হয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমার পক্ষ নিল। সিএনজিওয়ালা কোনো উপায় না দেখে আমাকে নিয়ে রওয়ানা দিল।

মরাল: সোজা আঙুলে ঘি ওঠানোর দিন শেষ - ভবিষ্যতের মায়েদের কাছে একটা পারসোনাল রিকোয়েষ্ট, তারা যেন আঙুল বাঁকা সন্তানের জন্ম দেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×