শমিতা বসেছিল আমার ঠিক মুখোমুখি ।
একটা টেবিল -
দুদিকে আমরা দুজন।
মাঝখানে কিছু খাবার - যেমনটি সবসময় থাকে।
খাবারটা ছিল বরাবরের মত উপলক্ষ্য।
আসলে আমরা যাচাই করে নিচ্ছিলাম পরস্পরকে।
যেন টেবিলে খাবার নয় -
মাঝখানে সাজানো দাবার ঘুঁটি।
এর আগে ওর সাথে আমার দেখা হয়নি -
কথা হয়েছে শুধু -
মেসেঞ্জারে, টেলিফোনে ।
হয়েছে ছবি বিনিময়।
অবশ্য ছবি বিনিময়ের তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না ।
কথায় কথায় পার করা রাতগুলোতে দুজন দুজনকে এত ভাল চিনে গেছি যে
ছবিটা ছিল বাহুল্য - শুধুই বাহুল্য।
সচেতনভাবে নয় -
অনেকটা অগোচরেই মিলিয়ে নিচ্ছিলাম মনে আঁকা ছবিটাকে।
সেই চোখ -
যে চোখ ছিল বনলতা সেনের,
সেই হাসি -
যে হাসি দেখেননি বলে বোদলেয়ার বিষণ্নতার কবিতা লিখেছেন ভুরি ভুরি,
সেই জীবনের ইংগিত মাখা আবির্ভাব -
যে আবিভর্াবের জন্য পুরুষ ভালবাসে নারীকে।
আবেগ, সৌন্দর্য এবং জ্ঞানের এমন অপরূপ ককটেল আমি আগে আর খাইনি।
ফোনে অনেক কথাই বলা যায় -
যেগুলো বাস্তবে খুব হাস্যকর শোনায়।
ফোনে খুব সহজেই কাউকে চুমুখেতে চাওয়া যায় -
সামনাসামনি এলে চেনা কথার মাঝে অচেনা শংকা আসে।
মুখোমুখি বসে-
আমার একটু যেন লজ্জা লাগছিল।
একই সাথে হচ্ছিল ভয় - নিজেকে ভয়।
ভয় পাবার কারণ আমার অক্ষমতা,
আমি ভালবাসতে অক্ষম।
যখনই মনে করি কারো হৃদয়ের ইঞ্চিদুয়েক দূরত্বে চলে এসেছি-
তখন সিন্দবাদের ভুতের মত আমার ঘাড়ে চেপে বসে কিছু স্মৃতি -
অনেককাল আগে দেখা একটি নিষ্পাপ মুখ,
যে মুখের দিকে কারণ ছাড়া তাকিয়ে থেকেছি ঘন্টার পর ঘন্টা-
যার সাইনো সয়ডাল ওয়েভের মত বাঁকানো ঠোঁটের হাসি
আমাকে ভালবাসার শীর্ষেতোলে খুব সহজেই।
না থেকেও মানুষ থাকে মানুষের মাঝে-
কত তীব্রভাবেই না থাকে !
আমি বসে আছি - কফিশপে।
সামনে খাবার - এক মগ কফি।
টেবিলের ওধারে এখন আর শমিতা একা নেই-
সাথে আছে আমার স্মৃতির ভূত।
আমি শমিতাকে যেন ঠকাচ্ছি ------
নিজের কাছে নিজে বড্ড ছোট হয়ে যাই।
আমি সত্যিকারের পুরুষ ----
ঠগ, বাটপার এবং স্বভাব ভন্ড,
স্বপ্ন দেখতে আর দেখাতে জানি,
সফল করার তপস্যা জানি না।
[ হয়তবা কথাগুলো বানিয়ে বলেছি -
হয়তবা বোঝাতে পারিনি যা বোঝানোর কথা -
হয়তবা এই আমি আমি নই -
আসল আমি'র ছিন্নভিন্ন কোনো উচ্ছিষ্ট ]
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


