somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জবাব: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জায়গা সম্পর্কে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি মিথ্যা।

১০ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতমাসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, তাদের এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে যে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রমনা কালী মন্দিরের জায়গা দখল করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ তাদের মতে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখানে আছে সেটা তাদের জায়গা!



আমার মনে হয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা সেদিন কিঞ্চিত শুরা পান করেছিলেন যার ফলে ঘটেছিল মস্তিষ্ক্য বিভ্রম, আর সেকারনেই সেদিন রমনার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জায়গা তাদের বলে দাবি করে ফেলেছেন। তাছাড়া এমন উদ্ভট অযৌক্তিক মিথ্যাকথা’টা আদৌ কোন সুস্থ মস্তিষ্ক্যের মানুষের পক্ষে বলাটা সম্ভব ছিলনা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বরং এটা বলা যায় যে, মুসলমানদের করুনা প্রাপ্ত হয়েই মুসলমানদের জায়গা দখল করেই আজকে হিন্দুরা অবৈধভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে অবৈধ মন্দির বানিয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার দাবির প্রেক্ষিতে অবশ্যই বলা প্রয়োজন যে সেটা আসলে হিন্দুদের জায়গা কোন কালেই ছিলনা এবং তাদের দাবি সম্পূর্ন মিথ্যা ও উস্কানীমুলক। তাহলে এবারে আসুন দেখি বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জায়গাটি কাদের ছিল? ইতিহাস এব্যাপারে কি বলে সেটা একটু যাচাই করে দেখি। উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ এর পূর্ন ইতিহাস আমি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয় বরং পুরো রমনা এলাকার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সহ) গোড়াপত্তন করেছিলেন মুসলমানরা। মোঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের শাসন আমলে ১৬১০ সালে রমনা এলাকার গোড়াপত্তন শুরু করেন সুবেদার ইসলাম খা, তিনি সেখানে দুটো চমৎকার আবাসিক এলাকা নির্মাণ করেছিলেন। একটি এলাকার নাম ‘মহল্লা চিশতিয়া’ এবং অপরটির নাম ‘মহল্লা সুজাতপুর’। এ এলাকাগুলোতে বাস করতেন ইসলাম খাঁ চিশতির বংশধরের লোকজন।

মোগল আমলের পুরো সময়টা বর্তমান রমনা এলাকা বাগ-ই বাদশাহী বা বাদশাহী বাগান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তখন থেকে ঢাকার নবাব আমল পর্যন্ত রমনা বাগানে সাধারণ জনসাধারণের প্রবেশ অধিকার ছিল না। মহল্লা সুজাতপুর ও মহল্লা চিশতিয়ার তৎকালে ঢাকার নাম করা জ্ঞানী-গুণী,শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, ডাক্তার প্রমুখ বসবাস করতেন। কলা ভবন, কার্জন হল, শাহবাগ, সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ী, রমনা থানা সকলই ছিল ১৮৩২ সাল ওয়াল্টারের তথ্য অনুসারে বাগ-ই-বাদশাহী রমনা বাগানের মধ্যবর্তী এলাকা। কালক্রমে সুজাতপুর, চিশতিয়া, বাগ-ই-বাদশাহী এলাকার নামকরণ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং জনসাধারণের নিকট পরিচিতি পায় উক্ত এলাকাটি রমনা হিসেবে। উল্লেখ্য রমনা শব্দটি ফার্সী শব্দ এবং এ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন সেনাপতি ইসলাম খাঁ-ই।

বর্তমানে রমনা কালী মন্দির বলে যেটি দাবি করা হচ্ছে সেটিও বানানো হয়েছিলো তৎকালীন মোঘল বাদশাহ’র পৃষ্ঠপোষকতায়। ইতিহাস বলে, মোঘল আমলের শেষ দিকে বাদশাহ’র পৃষ্ঠপোষকতায়, মোঘল সেনাপতি মান সিংহের সহযোগিতা ও বার ভূঁইয়ার অন্যতম কেদার রায় এর অর্থে শাহবাজ মসজিদের উত্তর দিকে হরিচরণ গিরি অতিক্ষুদ্র পরিসরে ভিত্তি স্থাপন করেছিলো ‘কৃপা সিদ্ধির আখড়া’ যা পরবর্তীতে ‘ভদ্রাকালী বাড়ী’ এবং পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয় ‘রমনা কালী মন্দির’ হিসেবে। আর মন্দিরের সাথে যে আনন্দময়ী আশ্রম নির্মিত হয়েছে সেটা হচ্ছে আনন্দময়ী নামক এক মহিলার নাম অনুসারে। ঐ মহিলা রমনা এলাকার মালিক ছিলো না। ঐ মহিলা ছিলো রমণীমোহন চক্রবর্তী নামক এক ব্যক্তির স্ত্রী। রমণীমোহন চক্রবর্তী ছিলো ঢাকার শেষ নবাব, খাজা হাবীবুল্লাহ বাহাদুরের কর্মচারী, যে ১৯২৪ স্ত্রী আনন্দময়ীসহ নবাবের শাহবাগ বাগান দেখাশোনার জন্য ঢাকায় এসেছিলো।

উল্লেখ্য কর্মচারির স্ত্রী আনন্দময়ী গিয়েছিলো ঐ রমনাকালী মন্দিরে, আর তাতেই হিন্দুরা ঐ মহিলাকে পূজনীয় ভাবতে শুরু করে, তার ভক্তরাই মন্দিরের পাশে ছোট্ট করে পূজারি আশ্রম, যা পরবর্তীতে নামকরণ হয় ‘মা আনন্দময়ী আশ্রম’। অথচ এখন হিন্দু উদ্ভট দাবি করে বলে- ঐ আনন্দময়ী নাকি পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মালিক। যাই হোক, ঐ সময়কার ছবিগুলোতে রমনা কালী মন্দির ও আশ্রমের যে আয়তন দেখা যায়, তাতে সব মিলিয়ে আয়তন ১০-১৫ কাঠা হয় নাকি সন্দেহ। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী মন্দিরটিকে ভেঙ্গে দিলে মন্দিরটির সঠিক আয়তন নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো শুরু করে দখলবাজ হিন্দুরা। তারা দাবি করতে থাকে পুরো এলাকাটাই নাকি তাদের। যুদ্ধ উত্তর সময় হিন্দুদের একাধিক বার ঐ মন্দিরের বদলে নতুন জমি দেওয়া হয়।

কিন্তু সেটা তারা বিক্রি করে ফের সেখানে ফিরে আসে। এক পর্যায়ে জোর করে প্রায় ১৩৩ কাঠা যায়গাকে মন্দির হিসেবে দখল করে নেয় তারা, দেয় বাউন্ডারী ওয়াল। অতিরিক্ত তৈরী করে লোকনাথ মন্দির, দূর্গা মন্দির। বলাবাহুল্য এ দখল সম্ভব হয়েছে শুধু ঢাবির জগন্নাথ হলের সাম্প্রদায়িক হিন্দু ছাত্রদের অপতৎপরতায়। এলাকাবাসী জানায়, রাতের আধারে জগন্নাথ হলের শত শত ছাত্র এসে বেড়া দিয়ে দখল করেছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল এলাকা, যা বাউন্ডারী দিয়ে বানানো হয় ‘রমনা কালী মন্দিরের নিজস্ব এলাকা’। অর্থাৎ ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে- মুসলমানরা হিন্দুদের জায়গা দখল করেনি, বরং হিন্দুরাই মুসলমানদের যায়গা দখল করে মন্দির বানিয়েছে।

আমার মনে হয়, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্ত হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সৃষ্টির যে ইতিহাস রচিত হয়েছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে সে স্থান কারো দখলবাজীর যায়গা হতে পারে না। তাই দখলদার মন্দিরটিকে প্রাপ্য যায়গা দিয়ে সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে ঐতিহাসিক স্থানটিকে মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

প্রয়োজনীয় লিঙ্ক:
১। উইকিপিডিয়া।
২। উইকিপিডিয়া
৩। কয়েকটি ব্লগ সাইট।।।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×