
ফুটবল, ক্রিকেট খেলা আমিও দেখি, দেশের খেলোয়ারদের জয়ে যেমন উল্লসিত হই তেমনি তাদের পরাজয়ে হই বেদনাভারাক্রান্ত কিন্তু তাই বলে এইসব তুচ্ছ, অর্থহীন খেলাধুলাকে কখনোই ধর্মের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন মনে করিনা। যার জন্য ক্রিকেট বিতর্ক বা টাকা লুটের খবরটা আমার কাছে যতটা না উদ্বেগের তার সহস্রগুন বেশী উদ্বিগ্ন করেছে সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়টি। সেকারনেই দুলাইন লেখার এই ক্ষুদ্র প্রয়াশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট আর তাসকিন-সানির এ্যাকশন বিতর্ক, বিষয় দুটি নিয়ে এই মুহুর্তে গোটা বাঙ্গালি জাতি যার পর নাই গভীর উদ্বিগ্ন এবং বিস্মিত। এরই ফাঁকে বাংলাদেশকে একটা নিরেট (অ)ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানানোর জন্য ২৮ বছরের পুরনো ফাইলবন্দি মামলা চালু করে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে “রাষ্টধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে সে সম্পর্কে হয়তো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কোন ধারনাও নাই কোন মাথাব্যাথাও নাই। আবার অনেকেই জেনেও নির্বিকার লির্লিপ্ত এবং উদাসীন যেন কিছুই হয়নি?
ধরেই নিলাম রাষ্ট্র যা করে তা রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যই করে কিন্তু রাষ্ট্র যখন কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তখন যদি সকলেই নিরবতার নীতি পালন করে তাহলে তো সকলের নিরবতাই রাষ্ট্র জনগনের সম্মতি বিবেচনা করে আরো উৎসাহের সাথে সেই ভুলটাই করবে তাই নয় কি? আর যেহেতু তথাকথিত সেই সব মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা যেহেতু নিরব তাই একজন মুসলিম হিসাবে এর প্রতিবাদ করা আপনার ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। আর সেই আপনি কি করে এটা বাদ দিয়ে ক্রিকেট নিয়ে মেতে আছেন? মনে প্রশ্ন জাগে আমরা জন্মসূত্রে মুসলিম হলেও আদৌ কি মুসলিম হতে পেরেছি?
অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে, ফেসবুকে খেলাধুলা বা চুমাচুমি কিংবা পিঠা খাওয়া নিয়ে কোন ইভেন্ট খুললে কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাজার হাজার লোকজন যোগ দেয় সেই ইভেন্টে কিন্তু ইসলাম নিয়ে কোন ইভেন্ট করলে সেখানে ইনভাইট করেও লোকজনকে এ্যাড করানো যায়না। এই হলো আমাদের ফেসবুকিয় ঈমানদার আলেমদের অবস্থা! সবাই যেন আজকাল ধর্মটাকে ফোর সাবজেক্ট বানিয়ে ফেলেছে, মন চাইলে কিছু করলো, না করলে নাই। কোথায় গেলো মুসলিমদের ঈমানের শক্তি?
বাংলাদেশের সংবিধান থেকে “বিসমিল্লাহ” বাদ দিতে যেদিন বিসমিল্লাহ নিয়ে টানা ছেড়া শুরু হলো সেদিনও এই ফেসবুকিয় আলেমরা এভাবেই চুপ করে ছিল। আমাদের সেই নীরবতাই আজ তাদের সাহস আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থহীন এই খেলাধুলা নিয়ে আমরা যে মাত্রাতিরিক্ত আবেগ দেখাচ্ছি তার একশো ভাগের এক ভাগও কি আমাদের পৈতৃক(!) ধর্ম ইসলামের জন্য দেখাতে পারি না? তাহলে তো ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দুঃসাহসও কেউ এদেশে আর দেখাতে পারতো না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




