
কয়েকদিন আগে “বাদ যাচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, জাতি নির্বিকার, নিলিপ্ত” শিরোনামে ফেসবুকে ও সামহোয়্যারইন ব্লগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। সেখানে পাঠকদের অনেকেই বিষয়টির পক্ষে থাকলেও বিপক্ষের পার্টিরও অভাব ছিলনা। নাস্তিক বা সেক্যুলাররা যে যেভাবে পারে মনের খেদ ঝাড়লো ব্লগের ঐ পোস্টে। সেখানে ইসলামকে নিয়ে তীর্যক মন্তব্যকারিদের মধ্যে কিছু জন্মসূত্রে মুসলমানও ছিল। নাস্তিক বা সেক্যুলাররা চায়না রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকুক কারন এটা তাদের নীতি বিরুদ্ধ কিন্তু ঐ মুসলমানরা কি করে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের সমর্থন করতে পারে তা বোধগম্য হলোনা। যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের সমর্থন করছে, তারা আসলে এটা করছে তাদের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অবহেলার কারনে।
তারা আসলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের গুরত্বটা অনুধাবন করতে পারছেনা যে, যদি “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাতিল হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলিমদের উপর এর রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাদের অনেকেই যুক্তি দেখাচ্ছে যে, “যেখানে সংবিধানে ইসলামের কোন নামগন্ধই নাই সেখানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম থাকলেই কি আর না থাকলেই কি” আবার আরেকজন বলছে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম শব্দটা সংবিধানে এরশাদ ঢুকিয়ে দিয়ে সংবিধানটাকে কলুষিত করেছে! তাই ওটাকে ছুড়ে ফেলে দেবার এখনই সময়” অন্য আরেকজন বলেছে যে, “রাষ্ট্রধর্ম কি দেশকে উন্নত করবে? যদি না করে তাহলে বাদ দিলে ক্ষতি কি?” নাস্তিক, সেক্যুলারদের বলে লাভ নাই কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সম্পর্কে মনে এমন ধারনা পোষন করছেন আমি তাদেরকে বলতে চাই যে, আপনারা সত্যিই এখনো বোকার স্বর্গেই আছেন।
অনেক কথাই হলো এবারে আসুন মুল প্রসঙ্গে। বলছিলাম সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” না থাকলে কি সমস্যা হবে এবং এটা থাকার প্রয়োজনীয়তাটা কি? সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” থাকা এবং না থাকাটা যদি একই বিষয় হতো তাহলে নাস্তিক সেক্যুলাররা সংবিধান থেকে এটা অপসারন করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতো না, আদালতে রিট দায়ের করতো না, দেশ-বিদেশে এতো প্রচার প্রচারনা চালাতো না। অবশ্যই এর গুরুত্ব আছে, যেটা আমরা বুঝতে না পারলেও ওরা ঠিকই বুঝতে পারছে। কারন ওরা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশী দূরদৃষ্টি সম্পন্ন।
বাংলাদেশে এখনো বিটিভি কিংবা বেতারে নামাজের ওয়াক্তে ৫ বার আযান প্রচার করা হয়, এখনো এদেশে প্রশাসনের কোন কাজ শুরুর পূর্বে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, এখনো স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ইউনিফর্মে ওড়না রাখা অনেকটা বাধ্যতামূলক আছে, এখনো অনেক আইন-কানুন বা বিধি বিধান তৈরীর সময় কোরআনের বিধি নিষেধ বিবেচনায় নিতে হয়, এই এতো সব সম্ভব হয়েছে কেন জানেন? এই এতোসব সম্ভব হয়েছে শুধুমাএ “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” থাকার কারনে। সংবিধানে শুধুমাএ “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” থাকার কারনেই নাস্তিক সেক্যুলাররা বাধ্য হয় এসব মানতে, তা-না হলে আযানের সময়টাতেও নাচ-গান-সিনেমা দেখানো হতো, দেশের সবখানে হিজাব নিষিদ্ধ হতো, কোরআনের বিরোধীসব আইনকানুনন প্রনয়ন হতো, রাষ্ট্রীয় কাজের আগে কোরআন তেলাওয়াত হতোনা ইত্যাদি।
এখন অনেকেই হয়তো বলবেন এদেশের অনেক আইনকানুনই তো পুরোপুরি ইসলামসম্মত নয়, সেখানে শুধু রাষ্ট্রধর্ম কি সব ঠেকাতে পারবে? জ্বি, আমিও জানি শুধু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দিয়েই নাস্তিকদের সব প্রচেস্টা ঠেকানো যাবেনা তবে এই ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে যেটুকু আছে সেটুকুও বিসর্জন দিতে হবে এমন যুক্তির পক্ষপাতি আমি কখনোই হতে পারবোনা। শুধু এটুকুই বলবো নাই মামার চেয়ে আপাতত(!) কানা মামাই ভাল। তাহলে এই কানা মামাকে অন্তত একদিন সুস্থ মামায় পরিণত করার আশাটা থাকে। অনেকেই হয়তো জানেন, একটা সময় তুরস্কে আরবীতে আযান দেয়া নিষিদ্ধ ছিল। এই আইনটা জারী করার পূর্বে সবার আগে কিন্তু ঐদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দিতে হয়েছিল। এখন বুঝতে পারছেন সমস্যাটা আসলে কোথায়?
সংবিধানের এই একটা পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরো অসংখ্য ইসলামবিদ্বেষী আইন জারীর পথ খুলে দিবে। নাস্তিক সেক্যুলাররা আসলে ইসলামকে নিয়ে একটা গেম খেলছে। এটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা এক ধাপ এগোতে চাইছে, এতে সফল হলেই চলে যাবে পরবর্তী ধাপে চলে যাবে। নাস্তিকরা দেখতে চাইছে দেশের মানুষ এটাকে কিভাবে নেয়। এখন আমরা যদি এর প্রতিবাদ না করি তাহলে নিশ্চিত তারা এটা অপসারন করেই ছাড়বে! আর তারা এতে সফল হলে আরো বেশি মাত্রার ইসলামবিদ্বেষী আইন জারী করার উদ্যোগ নিবে। তাই এই ষড়যন্ত্র ঠেকানোর এখনই উপযুক্ত সময়। দেরী হয়ে গেলে আর কিছুই করার থাকবে না হায় হায় করা ছাড়া!
আমি মনে করি, সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” থাকার এই ইস্যুটা তাসকিন-সানি বা আট’শো কোটির ইস্যুর চেয়ে হাজারগুন বেশি গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, এমনকি রাষ্ট্রের সমস্ত রিজার্ভ চুরি গেলেও এতোটা ক্ষতি হবে না যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' তুলে দিলে। তাই আমাদের সকলেরই উচিৎ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এর প্রতিবাদ জানানো, যাতে করে নাস্তিক সেক্যুলাররা ভবিষ্যতে সংখ্যাগরীষ্ঠ মানুষের ধর্ম নিয়ে এমন দুঃসাহস দেখানোর সাহস না পায়। ধন্যবাদ সবাইকে।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




