somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার -১৯০১

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আলফ্রেড নোবেলের উইলঃ ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর আলফ্রেড নোবেল প্যারিসের সুইডিশ-নরওয়েজিয়ান ক্লাবে তাঁর তৃতীয় এবং শেষ উইল স্বাক্ষর করেন । আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পর যখন তাঁর এই উইল পড়া হয় তখন সুইডেনে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল কারণ তিনি নোবেল পুরষ্কারের জন্য প্রচুর অর্থ রেখে গিয়েছিলেন । তাঁর পরিবার নোবেল পুরষ্কার প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল এবং তিনি পুরষ্কারদাতা হিসেবে যাঁদের মনোনীত করেছিলেন তাঁরাও পুরষ্কার প্রদানে অসম্মতি জানিয়েছিলেন । নানা চড়াই উতরাই এর পর ১৯০১ সালে নোবেল পুরষ্কার প্রদান শুরু হয় । শুধুমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় অসলো, নরওয়ে থেকে । বাকি ক্ষেত্রে স্টকহোম, সুইডেনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ।
অর্থনীতি ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে ১৯০১ সাল থেকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে ১৯৬৯ সালে । আলফ্রেদ নোবেল তার উইলে অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেননি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪০ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান বন্ধ ছিল । প্রত্যেক বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদ ও নোবেল ফাউন্ডেশন কর্তৃক কিছু পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন । ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এই অর্থের পরিমান ছিল ৮০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা । নোবেল পুরস্কার মৃত কাউকে দেয়া হয় না । লরিয়েটকে অবশ্যই পুরস্কার প্রদানের সময় জীবিত থাকতে হবে ।

নোবেল পুরষ্কার -১৯০১:
পদার্থবিজ্ঞানঃ



Wilhelm Conrad Röntgen (ভিলহেলম কনরাড র‌ন্টগেন) রঞ্জন রশ্নি আবিষ্কার এবং এ ধরণের রশ্মির যথোপযুক্ত ব্যবহারিক প্রয়োগে সফলতা অর্জনের জন্য তিনি ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । ২০০৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড কেমিস্ট্রি তার নামে ১১১তম মৌলের নামকরণ করে রন্টগেনিয়াম । তিনি মার্চ ২৭, ১৮৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফেব্রুয়ারি ১০, ১৯২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।

রসায়নঃ



Jacobus Henricus van't Hoff (ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ, জুনি.) ছিলেন একজন ডাচ জৈব রসায়নবিদ এবং রসায়নে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী । তিনি রাসায়নিক গতিবিদ্যা, অভিস্রবণ চাপ প্রভৃতি সংশ্লিষ্ট গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত । তিনি ৩০ আগস্ট ১৮৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১ মার্চ ১৯১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।

চিকিৎসাঃ



Emil Adolf von Behring (এমিল ভন বেহরিং) নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান জীব বিজ্ঞানী । তিনি জার্মানির মারবার্গের অধিবাসি ছিলেন । সিরাম থেরাপি (serum therapy) আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান । তাঁর জন্ম মার্চ ১৫, ১৮৫৪ সালে এবং মার্চ ৩১, ১৯১৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।

সাহিত্যঃ



Sully Prudhomme (রনে ফ্রাঁসোয়া আরমঁ সুলি প্রুদোম) একজন ফরাসি সাহিত্যিক । ১৮৩৯ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন । তার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পিছনে কবিতার মান ও বিষয়বস্তু বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে । ১৯০১ সালের ডিসেম্বর ১০ তারিখে নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে প্রুদোম উপস্থিত থাকতে পারেননি অসুস্থতার জন্য । ১৯০৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত নিজ বাসভবন Chatenay Malabry-তে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ দিয়ে একটি অনুদানমূলক পুরস্কারের ব্যবস্থা করে যান। এটি নবীন লেখকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য প্রদান করা হয়। এখনও ফ্রান্সে এই পুরস্কারের রীতি চালু আছে ।

শান্তিঃ



Jean Henri Dunant (জীন হেনরি ডুনান্ট) জন্ম: ৮ মে, ১৮২৮- মৃত্যু: ৩০ অক্টোবর, ১৯১০) একজন সুইস ব্যবসায়ী এবং সমাজকর্মী । ১৮৫৯ সালে তার একটি ব্যবসায়িক সফরে, তিনি ইতালির সলফেরিনো যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন । “সলফেরিনোর স্মৃতি” নামক বইয়ে তিনি তার সকল স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষন করেছিলেন । যা পরবর্তীতে তাকে ১৮৬৩ সালে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরনা দিয়েছে । ডুনান্টের ধারনার উপর ভিত্তি করে ১৮৬৪ সালে জেনেভা কনভেনশন তৈরি হয়। ১৯০১ সালে ফ্রেদেরীক পাসীর সাথে মিলিত ভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।



Frédéric Passy (ফ্রেদেরিক পাসি) জন্ম: ২০ মে, ১৮২২ – মৃত্যু: ১২ জুন ১৯১২ ছিলেন একজন ফরাসী অর্থনীতিবিদ এবং শান্তিকর্মী ।

তথ্যসূত্রঃ http://www.wikipedia.org এবং http://www.nobelprize.org
আগামী পর্বে আসছেঃ নোবেল পুরষ্কার -১৯০২
আগের পর্ব দেখতে Click This Link
ফেসবুকে আমিঃ http://www.facebook.com/roysulomar
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×