একজন বিদেশী এসে এ নোট হাতে নিলে জাতি হিসেবে আমাদের সম্মান কি থাকে ? যে লোকটি আমাদের দেশ দেখতে এসেছে সে এই দেশ সম্পর্কে কী ভাবে ? আমাদের রুচি সম্পর্কে কী ভাবে ?
বলছিলাম ময়লা ছেড়া নোটের কথা। দু টাকার নোট তো হাতে নেয়ার পর জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুতে হয়। টয়লেটে যাওয়া আর টাকা হাতে নেয়া এখন প্রায় সমার্থক।
দু টাকার নোট ছেড়া এবং নোংরা। যারা টাকা ছাপানোর দায়িত্বে আছেন তারা কি এই নোট হাতে নেন না ? (আদৌ কি উনারা জীবিত আছেন ?) তাদের এই ভয়ংকর নোংরা নোট হাতে নিতে শরম লাগে না ? তাদের সন্তানদের হাতে এই টাকা দিতে শরম লাগে না ?
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মাঝে মাঝে টেলিভিশনে দেখি। উনার ঝকঝকে পোশাকের দিকে তাকিয়ে থাকি। উনার ভালো ভালো কথা শুনি। উনি যখন এসব ভালো ভালো কথা বলেন, তখন উনার পকেটে কি ছেঁড়া ময়লা নোট থাকে না ?
মন্ত্রীদের টেলিভিশনে দেখি। মনে মনে হাসি, বলি- তোমরা যতই ফিটফাট হও না কেন তোমাদের পকেটে যে নোংরা নোটে ভর্তি সেটা আমরা জানি। উনাদের পকেট ভর্তি ময়লা টাকা নিয়ে দিন বদলের কথা শুনতে ভালো লাগে। আমরা জাতি হিসেবে কথার জাতি, কাজের না - এটা তো পুরোনো কথা।
প্রধানমন্ত্রী কি কখনও টাকা হাতে নেন না ? উনার হাতে কি ময়লা নোট পড়ে না ? নাকি উনার কাছে টাকা দেয়ার আগে ধুযে দেয়া হয় ?
দিনের পর দিন এই ময়লা নোট ও ছেঁড়া নোট চলছে। স্কচ টেপ মারতে মারতে পুরো টাকাই স্কচ টেপের। তবু সেই টাকা সচল। আজিব।
শিশুদের এই টাকা দিতে ইচ্ছে করে না। ভয়ংকর নোংরা টাকার মধ্যে ভয়াবহ জীবাণু আছে এটা নিশ্চিত। ময়লা নোট জনস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে - বিশেষত শিশু স্বাস্থ্যের জন্য। নিজের সন্তানকে কে আর ঝুকির মধ্যে ফেলতে চায় ?
টাকা ছাপানোর ব্যাপারটা তো অনেক পুরোনো। আইনও আছে একটা। সমস্যাটা বেশি দিনের না। আমি মুখস্থ বলে দিতে পারি, এই সমস্যা অব্যবস্থাপনার, অন্য কোন কারণে নয়। নাকি টাকা ছাপানোর টাকা নাই ?
যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ছাপানোর টাকা না থাকে, তবে আসেন, আমরা সবাই টাকা ছাপানোর জন্য টাকা দান করি। যারা এসব বড় বড় দায়িত্বে আছেন তাদের শরম না থাকতে পারে, আমাদের তো শরম আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


