
মোল্লা সাহেবের কাঁচা ঘর। যাদের পয়সা আছে তারা সকলেই প্রায় পাকা বাড়ি করে নিয়েছে। কী উপায়ে পাকা বাড়ি করা যায় এই চিন্তাই দিনরাত মোল্লা সাহেবের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ তাঁর মাথায় এক চমৎকার বুদ্ধি খেলে গেল।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। খোশামোদেই আমি কিছু রোজগার করতে চাই " - এই ভেবে চিন্তে নাসিরুদ্দিন একদিন বাদশাহর দরবারে গিয়ে হাজির হলেন, মাথায় এক বিচিত্র বাহারের বিশাল পাগড়ি পরে। তাঁর একমাত্র মতলব যে, বাদশাহকে খোশামোদ করে পাগড়িটা বিক্রি করবেন।
" তোমার ওই আশ্চর্য পাগড়িটা কত দিয়ে কিনলে মোল্লা সাহেব " বাদশাহ হেসে প্রশ্ন করলেন।
" এক সহস্র স্বর্ণমুদ্রা, শাহেন শাহ। "
এক উজির মোল্লার মতলব ধরতে পেরে বাদশাহর কানে কানে ফিসফিস করে বললেন, " মূর্খ না হলে কেউ ওই পাগড়ি অত দাম দিয়ে কিনতে পারে জাঁহাপনা ! মোল্লা সাহেব একেবারে আকাট মূর্খ হুজুর ! "
ওর কথায় কান না দিয়ে বাদশাহ মোল্লাকে বললেন, " অত দাম কেন ? একটা পাগড়ির জন্য এক সহস্র স্বর্ণমুদ্রা আমার কাছে অবিশ্বাস্য বলেই মনে হচ্ছে ! "
" ভালো লাগাটাই বড়, মূল্যের ব্যাপারটা যারা রসিক, তাঁদের কাছে কিছুই না, জাঁহাপনা। আর আমি ভালোভাবে জানি, দুনিয়ার কেবল একজন সমঝদার বাদশাহই আছেন, যিনি এই পাগড়ি কিনতে পারেন। তিনি ছাড়া আর কার এমন দিল আছে, জাঁহাপনা ?"
তোষামোদে খুশি হয়ে বাদশাহ তৎক্ষণাৎ মোল্লাকে ডাবল স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার ব্যবস্থা করে নিজেই সেই পাগড়িটা কিনে নিলেন মোল্লা সাহেবের কাছ থেকে।
পরে সেই উজিরকে ডেকে মোল্লা বললেন, " আপনি পাগড়ির কত মূল্য হয়তো জানতে পারেন। কিন্তু আমি জানি বাদশাহদের দুর্বলতা কোথায় । এ কথা আপনার আগেই জানা উচিত ছিল।
আমার কথা :
এই গল্পটা কি এখনও অপ্রাসঙ্গিক ? এখনও নেতানেত্রীরা তোষামোদ পছন্দ করেন না ? এখনও কি তোষামোদকারীরাই সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পায় না ?
মোল্লা নাসিরুদ্দিন সম্পর্কে
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


