somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিনব প্রতারণা

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন গাজীপুরের এপেক্স গার্মেন্টস এ চাকরিরত।রমজান মাস, অপিসে যাবার সময় খেয়াল করলাম অপিস গেটে একজন মাঝ বয়সী মহিলা সাথে ১৮/১৯ বছরের একটি মেয়ে সহ দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেরই হিজাব পড়া। চোখে পড়লো কিন্তু এটা নিয়ে ভাববার কোনো যুক্তি পেলাম না। কারন কত লোকই তো প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যার পর যখন তারাবি নামাজ পড়তে যাবো তখন দেখি ১০/১৫ জনের একটা জটলা আর মাঝখানে সেই দুই মহিলা। এবার আগ্রহী হয়ে কাছে গিয়ে জানতে পারলাম “ মহিলার একমাত্র ছেলে যে বছর খানি আগে বাড়ি থেকে রাগ করে বের হয়ে গেছে। কোন এক মাধ্যমে খবর পেয়েছে যে তার সেই ছেলে এই এপেক্সে চাকরি নিয়েছে। মহিলার ধারনা সে নিজে আসলে তার ছেলে আর রাগ করে থাকতে পারবে না তাই অন্য কোনো অভিবাবক না থাকায় তার ছোট মেয়েকে নিয়ে এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে।“

গল্পটা নিখুঁত, যে কেউই গলে যেতে পারে অন্য আরো ৫/৭ জনের সাথে আমিও মহিলার বিপদে বিচলিত হয়ে গেলাম বিশেষ করে তার সাথে ঐ বয়সী একটা মেয়ে থাকার জন্য। মহিলা শুধু তার ছেলের নাম বলতে পারে কিন্তু যেখানে প্রায় ১০ হাজার কর্মী সেখানে কোন সেকশনে বা ছবি ছাড়া চিনতে পারা কঠিন। আমার মত সেখানে যারা ছিলো কেউই তার ছেলেকে আইডেন্টি করতে পারলাম না।

যাই হোক পরবর্তী করনিয় কি ঠিক করতে গিয়ে মহিলা বললো – তার বাড়ি বরিশাল, একমাত্র ছেলেকে খুঁজতে প্রায় খালি হাতে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এখন লঞ্চ এর ভাড়াটা হলে আবার বড়িতে ফেরত যেতে পারে। সেখানে যারা নরম হৃদয়ের ছিলো সবাই সাধ্যমত দিলো আমিও আবার মেসে এসে হিসাব করে ১৫০ টাকা বের করে মহিলাকে দিলাম। ততখনে তারাবি নামাজ প্রায় শুরু হয়ে যাবে কিন্তু আমার কাছে তখন নামাজের চেয়ে মহিলাকে বিপদ কে বেশি বড় মনে হলো।

আমাদের অপিসের একজন মহিলাকে বললো “ আজ তে রাত হয়ে গেছে আমার বাসায় আমার ফ্যামিলির সাথে আজ রাত থাকেন, কাল সকালে দিনের বেলায় আস্তে ধীরে যাবেন” আমরা সবাই তার কথায় সায় দিলাম কিন্তু মহিলা থাকতে নারাজ সে বললো “ আমাদের বাড়ির যে লঞ্চ সেটা শুধু রাত ২টায় যায়, আজ থাকলেও কালকে তাকে আবার সেই রাতের জন্যই বসে থাকতে হবে” আমাদের তখনও কিছু সন্দেহ হয় নাই। লোকটা বললো ঠিক আছে আপনারা সারাদিন কিছু খান নাই আমার বাসায় চলেন কিছু খেয়ে তারপর রওনা হয়েন। মহিলা প্রথমে একবার না করলেও সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ করাতে রাজি হয়ে গেলো।

আমারও চললাম তার সাথে। মহিলার এই ধরনের বিপদ শুনে সবাই সাধ্য মত দান করেছিলো তাই টাকার এমাউন্ট ভালোই হয়েছিলো। মহিলাটা খুব তাড়াতাড়ি করতে ছিলো এবং ভাত খাচ্ছিলো খুব তাড়াতাড়ি। এবং পরের দিকে তার ছেলেকে নিয়ে আর কোনো কথা বলছিলো না। খাওয়া শেষ এখন মহিলা যাবর জন্য অস্থির। সবাই আমকে বললো তুমি তাদের গাড়িতে তুলে দিয়ে এসো, নতুন জায়গা তাদের একলা চিনতে সমস্যা হবে। আমি বিনা বাক্যে রাজি হলাম।

বাসস্ট্যন্ডে যেতে যেতে মহিলা আমাকে কয়েকবার অনুরোধ করলো যে তারা একা একা চিনে নিতে পারবে। আমি বললাম একা একা হয়তো চিনতে পারবেন কিন্তু তাতে সময় নষ্ট হবে তাতে লঞ্চ ফেল কারতে পারেন। মহিলা চুপ থাকলো। চান্দরা বাস স্টপ থেকে গাজিপুর চৌরাস্তা প্রায় ১ ঘন্টার পথ। চৌরাস্তা থেকে সদরঘাটের সরাসরি বাস আছে। এই রাতে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাবো কিনা ভাবছিলাম। মহিলাকে বললাম এখান থেকে আপনাদের যদি চৌরাস্তার বাসে তুলে দেই সেখান থেকে টিকেট কেটে সদরঘাট যেতে পারবেন তো? মহিলা রাজি হলো। চৌরাস্তার বাস আসলে বাসে তুলে দিয়ে শেষ বারের মত বললাম যেতে পারবেনতো? মহিলা হাসি মুখে বললো “ পারবো বাবা তুমি যাও, চৌরাস্তা থেকে আমি সব রাস্তাই চিনি”

বাস ছেড়ে দিচ্ছে বলে নেমে দাঁড়ালাম কিন্তু শেষ কথাটা কানের মাঝে আবার বাজলো “চৌরাস্তা থেকে আমি সব রাস্তাই চিনি” এর আগে মহিলা কথা প্রসঙ্গে বলেছিলো সে গাজীপুর-ঢাকা তো দূরের কথা বরিশালই নাকি ভালো করে চনে না। আমার যখন হুশ এলো ততখনে বাস অনেক দূরে চলে গেছে। মনের মধ্যে খুব রাগ হচ্ছিলো। একে তো তারাবি নামাজটা গেলো তার চেয়ে বড় কথা এতো গুলি মানুষের সরলতা নিয়ে ব্যবসা করলো। একা একা মসজিদে নামাজ শেষ করে বাকিদের আর প্রকৃত ঘটনা বললাম না। অন্তত তারা একটি অসহায় মহিলাকে সাহায্য করতে পেরেছে এই শান্তিটুকু তাদের অন্তরে থাকুক।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×