somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি দিয়ে ওয়ার্ডরোব ভরাবেন না

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলমারির দরজা সামান্য ফাঁক করলেই একরাশ পোশাক ঝাঁপিয়ে পড়ছে আপনার ঘাড়ে? সদ্য কেনা লহেঙ্গা চালান করতে হয়েছে জুতোর বাক্সের আড়ালে? অবস্থা সঙ্গিন। কড়া দাওয়াই চাই। জেনে নিন।

ঈদের কেনাকাটা প্রায় সেরে ফেলেছেন তো? কিন্তু নতুন কেনা জিনিসগুলো ঢোকালেন কোথায়? ঈদের জন্য তো আর রাতারাতি আপনার ওয়ার্ডরোবের খানকয়েক তাক গজাবে না! উপায়? ভাবছেন দেওয়ালজোড়া স্টোরেজ থাকতে জায়গা নিয়ে চিন্তা কী? কিংবা, আলমারিতে না ধরুক, বাড়ির সুটকেসগুলোতেই না হয় এই ক’টা দিনের জন্য নতুন জিনিসের ঠাঁই হবে। কিন্তু এই ভাবে ঠেসেঠুসে রাখতে গিয়ে যে নতুন কেনা চান্দেরিটার ভাঁজ গিয়েছে খুলে আর নতুন-পুরনো অ্যাকসেসরি মিলেমিশে বেশ একখানা খিচুড়ি অবস্থা হয়ে আছে, তার কী হবে! এর জন্যই দরকার ওয়ার্ডরোব ম্যানেজমেন্ট।
কাকে ফেলবেন কাকে রাখবেন
ওয়ার্ডরোব গোছাতে বসে প্রত্যেকটা তাক খালি করে প্রথমেই দেখে নিন কী কী একেবারে ফেলে দেওয়া যায়। ফেলে দিতে গিয়ে আবার অনেক সময় কোনটা ফেলা উচিত, আর কোনটা রাখা উচিত বোঝা যায় না।
তা হলে বাতিল করবেন কী দেখে?
১) স্কুল বা কলেজজীবনের পরীক্ষায় পরে যাওয়ার জন্য জামা যত্ন করে তোলা আছে। অথচ এ জীবনে আর স্কুল-কলেজের পরীক্ষা দিতে হবে না। ফেলে দিন।
২) এক যুগ আগে আপনার যখন ছিপছিপে শরীর ছিল, তখন এই পোশাক ভাল লাগত। কবে ফের রোগা হবেন, তার জন্য রাখা আছে। গুডবাই বলুন।
৩) আউট অব ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে? রাখবেন না।
৪) ছোট্টবেলার অ্যাকসেসরি, এখন মোটেই মানাচ্ছে না। বাড়ির খুদে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন।
এ বার একটা বড় বক্স নিয়ে বাতিল জিনিসগুলো পুরে ফেলুন। তবে পুরনো সুতির শাড়ি, সুতির দোপাট্টা ফেলে দেবেন না। এগুলো দিয়ে দামি জিনিস জড়িয়ে রাখতে পারেন। তাকের ওপর এই নরম কাপড় পেতে দামি জামাকাপড়ও রাখা যায়।

বাড়তি আপহোলস্ট্রি
মাস্টার বেডরুম স্টোরেজ-এই অনেক সময় আমরা অতিরিক্ত বেডকভার, বেডশিট, পিলো বা কুশন কভার, এমনকী শীতের কম্বলও রেখে দিই। ফলে জামাকাপড় রাখার জায়গা যায় কমে। স্টোরেজ-এর জায়গায় টান পড়লে আপাতত যে ঘর একটু কম ব্যবহার হয় (যেমন, স্টাডি রুম) সেখানকার কোনও স্টোরেজ-এ চালান করতে পারেন। কম্বলের কেস সরিয়ে পুরনো বেডকভার বা শাড়ি মুড়ে রাখলে বেশি জায়গা নেবে না। অথবা, একটু শক্তপোক্ত প্যাকিং কেস-এ অতিরিক্ত আপহোলস্ট্রি রাখুন। এক কোণে রেখে ওপরে সুতির দোপাট্টা বা পুরনো পর্দার টুকরো পেতে তার ওপর দু-চারটে শোপিস সাজিয়ে দিতে পারেন। দেখতেও মন্দ হবে না, ধপ করে কেউ বসেও পড়বে না।

গরম পোশাক নাগালের বাইরে
ঈদের পরেই কোনও ঠান্ডার জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে? তা হলে তার জন্য প্রয়োজনীয় সোয়েটার বা চাদর ক’খানা হাতের কাছে রেখে বাকি সব গরম জামা নরম কাপড় আর ন্যাপথলিন বল দিয়ে মুড়ে আলমারির একেবারে ওপরের তাকে তুলে রাখুন।

ভাগ করে নিন
আপনার কেনা পোশাকগুলো কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেলুন। যেমন, শাড়ি,সেলোয়ার কামিজ এবং অন্যান্য (স্কার্ট, লহেঙ্গা, ওয়েস্টার্ন ড্রেস ইত্যাদি)। এ বার ঝপ ঝপ করে বিভাগ অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন। শাড়ির সঙ্গেই থাকবে ম্যাচিং ব্লাউজ আর সায়া। সেলোয়ার-কামিজের পুরো সেট, ফতুয়া, জিনস্ সুন্দর করে সেটা অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন একই ভাবে ছেলেদের ওয়ার্ডরোবও ক্যাজুয়াল, ফর্মাল-এ ভাগ করে নিতে পারেন।

অ্যাকসেসরি’র রকমভেদ
গয়নাগাটি যা কিনেছেন, তাকেও দু’ভাগ করে নিন। এথনিক সাজের সঙ্গে এক রকম আর পশ্চিমি সাজের জন্য অন্য রকম। শাড়ি বা সেলোয়ার কামিজের সঙ্গে যা পরা যেতে পারে, তাদের একটা বক্স-এ পুরে সেই তাকের এক পাশে রেখে দিন। একই ভাবে ওয়েস্টার্ন-এর সঙ্গে পরার অ্যাকসেসরি অন্য বক্স-এ পুরে সেই তাকে রাখুন। এতে খুঁজতে সময় অনেক কম খরচ হবে।


ঠিকঠাক সাজিয়ে নিন
টপ বা শার্ট ঝোলানোর সময় স্লিভ এবং দৈর্ঘ্য অনুযায়ী রাখবেন। অর্থাৎ, পুরো হাতা লম্বা ঝুলের জামা এক ধারে, তার পর কম ঝুল এবং শর্ট স্লিভড। স্লিভলেস থাকবে সারির শেষে। ভাল হয় যদি রং অনুযায়ী সাজাতে পারেন। হালকা রঙের পোশাক থেকে শুরু করে গাঢ় পোশাক বা মাঝে হালকা আর দু’দিকে গাঢ়, এই ভাবে একটা প্যাটার্ন মেনে সাজালে দেখতে পরিচ্ছন্ন লাগে। যদি পারেন হ্যাঙারগুলোও একই রকম রাখার চেষ্টা করুন। হয় কাঠের, নয়তো স্টিলের বা প্লাস্টিকের। এক সঙ্গে মেশালে দেখতে ভাল লাগে না। তাকে রাখার সময় ভারী পোশাক সব সময় নীচে রাখবেন, হালকা ওপরে। ঢাকাইয়ের ওপর ভারী কাঞ্জিভরম সাজিয়ে রাখলে ঢাকাইটির নাভিশ্বাস উঠতে সময় তো লাগবেই না, ভাঁজে ভাঁজে ছিঁড়েও যেতে পারে।

খুরশীদা রহমান চৈতী

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×