somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধই দেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন।

বিষয়টা খুব ভালো লাগল। বোঝা গেল একাত্তর আসলেই তাদের হাতে মূল্যায়িত হচ্ছ! অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় জামায়াতের সাথে মিলে এমন কোনো কথা নেই বিএনপি বলেনি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের কথা বললে ‘চেতনা ব্যবসা’ বলে টিটকারি মেরেছে বিএনপির লোকজন। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশপন্থি সবার।

বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, একদলীয় শাসন থেকে উত্তরণ এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি পুনর্গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে।

ভূমিকা আছে বৈকি! পঁচাত্তর পরবর্তীতে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন, পরবর্তীতে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। সম্পত্তি ভাগাভাগি হলে যেমন ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব হয়, এখন তেমনই হচ্ছে। দু’জনার দ‍ু’টি পথ দু’দিকে গেছে বেঁকে। আওয়ামী লীগের পতন না হলে হয়তো একই ধারায় থাকত।

গত ১৬ বছর শুনে এলাম আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃত করেছে, যার যা প্র‍াপ্য তা দেয়নি। আর এখন সত্যি ইতিহাস জানতে পারছি যে জিয়া ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান পুরুষ! অথচ জিয়া ছিলেন আর সব সেক্টর কমান্ডারের মতোই একজন সেক্টর কমান্ডার। কর্নেল তাহের বা খালেদ মোশাররফের অবদান তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মুক্তিবাহিনীর প্রধান ওসমানীর ধারকাছেও তার স্থান হওয়ার কথা না, অথচ তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের সাথে। হায় সেলুকাস! বিচিত্র এ দেশ!

ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে তাই দিতে হবে। একজনকে বাতিল করে দিলে বরং নিজেই খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ উপলব্ধি না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই বেশিদূর এগোতে পারবে না। বিএনপির পেজে গিয়ে দেখুন জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বা স্বাধীনতার ঘোষক বলায় হা হা’র ঝড় বয়ে গেছে। লোকজন তো বুঝে কার অবদান কতটুকু, সবাই তো মূর্খ না; সুবিধার জন্য কেউ কেউ চুপ করে থাকলেও সবার মুখ তো বন্ধ করা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×