
ইরানের মোল্লাতন্ত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও একটা বিষয় কিন্তু ঠিক, ওরা ভাঙে, তবে মচকায় না। পৃথিবীর কত কত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কাপড়চোপড় নষ্ট করে ফেলে, অথচ ইরান সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও বিষয়টাকে গোয়ার্তমিই মনে করা হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষ যায় আধুনিক জীবনযাপন, আর তারা নিজ দেশের মানুষের ওপর চড়াও হয়েও ক্ষমতা ধরে রাখবে। তাদের মোরাল পুলিশিং তো সর্বাধিক নিন্দিত। যার সাথে পারবে না তার সাথে লাগতে যাওয়া মানে তো লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। তারা তাই করবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব এ মুহূর্তে সবচেয়ে গরম খবর। ট্রাম্প যখন ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিল, সবাই ভয় পাচ্ছে পাগলটা কি আসলেই এই কাজ করবে? করলে তো অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাপান যখন আত্মসমর্পণ করতে রাজি হচ্ছিল না, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। মোটামুটি তিনটা কারণ ছিল-
১। যদি স্থলযুদ্ধ করা হয়, তাহলে লাখ লাখ আমেরিকান সৈন্য মারা যাবে।
২। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিজেদের সামরিক শক্তি দেখাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—যাতে পরবর্তী বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব বাড়ানো যায়।
৩। জাপানের “শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ” নীতির কারণে তাদের মনোবল ভাঙা কঠিন ছিল। পারমাণবিক বোমা সেই মনোবল ভেঙে দেবে এমন বিশ্বাস ছিল আমেরিকার।
যে ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল-
১। হিরোশিমা: Little Boy (ইউরেনিয়াম ভিত্তিক)
২। নাগাসাকি: Fat Man (প্লুটোনিয়াম ভিত্তিক)
বিস্ফোরণে মুহূর্তেই হাজার হাজার মানুষ পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়। ভবন, রাস্তাঘাট, গাছপালা—সবকিছু মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তাপমাত্রা প্রায় সূর্যের পৃষ্ঠের মতো (মিলিয়ন ডিগ্রি) হয়ে উঠে।
হিরোশিমায় প্রায় ১,৪০,০০০ মানুষের (১৯৪৫ সালের শেষ পর্যন্ত) মৃত্যু হয়। আর নাগাসাকিতে প্রায় ৭০,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে অনেক মানুষ তৎক্ষণাৎ না মরে পরে ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগে মারা যান। শিশুদের মধ্যে জন্মগত বিকলাঙ্গতা দেখা দেয় এবং বহু বছর ধরে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি চলতে থাকে।
এই দুই বোমা নিক্ষেপের পর জাপান ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে আত্মসমর্পণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ইরানি সভ্যতার আজ রাতে মৃত্যু ঘটবে যদি ইরান তার কথা মতো আপস না করে। এছাড়া কিছুদিন আগে তিনি পরমাণু হামলার হুমকিও দিয়েছেন ইরানকে। জাপানের ঘটনা দেখে কি মনে হয়, ট্রাম্প পরমাণু হামলা বেছে নেবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


