
খালি গলায় ‘নয়ন ভরা জল’ নজরুলসংগীত গেয়ে রীতিমতো ভাইরাল ফরিদপুরের লায়লা বাউল। জীর্ণ শাড়ি পরা এই নারীর গাওয়া বাউল ও লোকগান টিকটক, ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত।
ভাইরাল সেই ভিডিও
জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই গান পছন্দ করতেন লায়লা। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মেলা ও ওরসে গান গাইতেন। তবে তখন তাকে খুব বেশি মানুষ চিনত না।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার ডাক পাচ্ছেন লায়লা বাউল। বিশেষ করে গ্রামীণ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাকে দেখতে ভিড় করছেন দর্শকরা। তরুণদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। টিকটকে তার গানের সঙ্গে অনেকেই ভিডিও বানাচ্ছেন।
সংগীতপ্রেমীরা মনে করছেন, লায়লা বাউলের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে মানুষ এখনও লোকগান ভালোবাসে। আধুনিক গানের ভিড়েও বাউলগানের আলাদা আবেদন রয়েছে। এখন মোবাইল ফোন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে গ্রামের শিল্পীরাও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লায়লা বাউল প্রায় ২০ বছর ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর। শৈশবে এলাকার ‘দিলীপের মা’ নামে পরিচিত এক নারীর সান্নিধ্যে আসেন বাবা-মা বিচ্ছিন্ন লায়লা। ওই নারী তাকে কৈশোরে বিয়ে দেন ইসলাম শেখ নামের এক যুবকের সঙ্গে। ৯ বছর আগে সেই ইসলাম শেখ মারা যান।
লায়লার দুই ছেলে দুই মেয়ে। দুই ছেলে আবুত মনা ও টুটুল শেখ বর্তমানে ফরিদপুর শহরতলির হারোকান্দি এলাকায় থাকেন। সন্তানরা বড় হয়ে সংসারী হলেও লায়লা আর সংসারে ফেরেননি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে গান গেয়েই কেটে যাচ্ছে তার জীবন।
কথিত আছে, কোনো ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি হেঁটে আজমির শরিফ পর্যন্ত চলে যান। লোকসংগীতের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিল্পীদের গানও গাইতে পারেন তিনি।
ফরিদপুরের সাধারণ এক নারী থেকে পরিচিত কণ্ঠশিল্পী হয়ে ওঠা লায়লা বাউলের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তার এই পথচলা দেখিয়ে দেয়, প্রতিভা থাকলে একদিন না একদিন মানুষ তাকে চিনবেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



