somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না........."

২৩ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বাইরে আকাশ কাঁপিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। আকাশ থেকে বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো টপটপ শব্দে পড়ছে, যেন এক কোমল মাধূর্যে ভরা অভূতপূর্ব কোন গানের সুর। চারদিক বারিধারার কোমল পরশে যেন জেগে উঠছে ধ্বংসস্তুপ থেকে। বরষার প্রথম ছোঁয়ার যেন প্রকৃতি বিচলিত। বৃষ্টির ভেজা স্বাদ আর মৃদুমন্দ হিমশীতল বাতাস মনকে টেনে নিয়ে যায় যেন ঐ দূরে কোথাও, মনে করিয়ে দের হরিয়ে যাওয়া দিনের কথা, ফিরিয়ে নিয়ে আসে হারানোর বেদনা।

আজ শ্রাবণ বৃষ্টি দেখছে। জানালার পাশে বসে সে তার দৃষ্টি বাইরে মেলে ধরে। অন্ধকারে ছেয়ে আছে চারদিক। আলো বলতে রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টের সাদা আলো রাস্তাটাকে যা একটু আলোকিত করে রেখেছে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় অন্ধকারের বুক চিড়ে বৃষ্টির অনিয়মিত ফোঁটাগুলো চোখে পড়ছে।

শ্রাবণের কখনোই বৃষ্টি ভাল লাগতো না। তবে কোন এক কারনে আজ বৃষ্টির এই অনবরত ধারা তাকে টানছে। সম্মহিতের মত সে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে, কিসের যেন এক অব্যক্ত ব্যাকুলতা তার নিকষ কালো চোখজোড়াকে টেনে ধরে রেখেছে বাইরে গভীর শূণ্যতার দিকে।

শ্রাবণ বাইরে তাকিয়ে আছে, এমন সময় তার কাঁধে কে যেন হাত রাখল। শ্রাবণ ঘুরে তাকালো, দেখলো তার বাবা দাড়িয়ে আছেন। শ্রাবণের বাবা চিন্তিত ভাবে প্রশ্ন করলেন,"কি রে মা? কি করছিস একা একা? তোর কি শরীর খারাপ?" "না বাবা", শ্রাবণ ছোট করে উত্তর দেয়।
শ্রাবনের বাবা বলেন,"তাহলে নিশ্চই তোর মন খারাপ, না হলে তুই এভাবে জানালার পাশে বসে আছিস কেন?"
"না বাবা, আমি ঠিক আছি।"
"কাল তোর ক্লাস আছে না?"
"হ্যা বাবা"
"ঘুমিয়ে পড় তাহলে, রাত করিস না মা।" বলে শ্রাবণের বাবা প্রস্থান করেন।
"ঠিক আছে বাবা", বলে শ্রাবণ হালকা করে মাথা নাড়ে।

বাইরে এবার ঝম ঝম শব্দে বৃষ্টি নেমেছে। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছিটাফোঁটা ভেতরে এসে শ্রাবণকে ভিজিয়ে দিচ্ছে, শ্রাবণের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। বাইরের এই মাতাল হাওয়ার হিমশীতল পরশ তার স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলছে। শ্রাবণ স্মৃতির খাতা খুলে বসে, ডুব দেয় সময়ের স্রোতের অতীতে.......

শ্রাবণ রাস্তার পাশ ঘেঁষে হাটছে, এমন সময় ডাক শুনে সে পেছনে ঘুরে তাকায়। একটা ছেলে, পরিচিত মুখ, ঘন চুল, হাস্যজ্জল চোখ। ছেলেটা শ্রাবনের কাছে এসে বলে," তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?" " করো, সমস্যা কি? প্রয়োজনে দুইটা প্রশ্নও করতে পারো।" বলে শ্রাবণ হেসে ফেলে। ছেলেটাকে বিব্রত দেখায়। তারপর সময় নিয়ে বলে,"তোমার কি বৃষ্টি পছন্দ?" শ্রাবণ আবার শব্দ করে হেসে ফেলে। তারপর কঠিন গলায় বলে,"নাহ! একদম না! বৃষ্টি আমার একদমই পছন্দ না। বর্ষাকাল তো নয়ই, সারাদিন কি খালি পানি পানি আর পানি! কি বিশ্রি!" ছেলেটাকে কিছুটা অপ্রস্তুত দেখায়, হয়তো সে এমন উত্তর আশা করে নি। শ্রাবণ বলে,"তোমার কি বৃষ্টি পছন্দ?" ছেলেটা কিছু না বলে একটু হেসে মাথা নাড়ে।

বাইরে বৃষ্টির সাথে সাথে দমকা বাতাস খেলা করতে শুরু করেছে। শ্রাবণের একটা গানের কলি মনে পড়ছে,"বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না........." কেন এই গানটা মনে আসছে তা সে জানে না। শ্রাবণের আজ চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে,"আমি বৃষ্টি ভালবাসি, আমি বৃষ্টি ভালবাসি, আমি বৃষ্টি ভালবাসি..........." এ কথা শোনার জন্য যে কেউ নেই এখন।
শ্রাবণ আবার স্মৃতির অতল সাগরে ডুব দেয়।

রাত প্রায় একটা বাজে, মোবাইলের বাজনায় তার ঘুম ভেঙে যায়। শ্রবণ মোবাইলটা কানের পাশে ধরে ঘুম জড়ানো গলায় বলে,"হ্যালো?"
অপর দিক থেকে ছেলেটার গলা শোনা যায়,"ঘুমিয়ে পড়েছ?"
শ্রাবণ বলে,"নাহ, এইতো চোখ লেগে এসছিলো আর কি! কি ব্যাপার? তুমি এত রাতে?"
ছেলেটা বলে,"বাইরে দেখ কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে! হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পানি ধরে দেখ, সব দুঃখ ধুয়ে যাবে।"
শ্রাবণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়, তাই তো বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। শ্রাবণ ফোনে বলে," এই কথা বলার জন্য তুমি এত রাতে কল দিয়েছো?"
ছেলেটার কিছু বলে না।
"যত সব পাগলামী, তুমি থাকো তোমার পঁচা বৃষ্টি নিয়ে, আমি ঘুম দিলাম" বলে শ্রাবণ লাইনটা কেটে দেয়, তারপর সে বৃষ্টি দেখতে বসে।

শ্রাবণ বাস্তবে ফিরে আসে। শ্রাবণের অনেক সময় কেটেছে ছেলেটার সাথে। সুখের স্মৃতি, দুঃখের সৃতি, কত স্মৃতি। অতীতের স্মৃতিগুলো তার এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে। বাইরে বৃষ্টিটা ধরে এসেছে। শ্রাবণ উঠে দাড়িয়ে জানালার গ্রিল দুই হাতে আকড়ে ধরে। না বলা কথা গুলো মনে ভীড় করছে। অভিমানে মনটা ভারী হয়ে পড়ছে। এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠে। শ্রাবণ হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা নেয়, রিসিভ করে কানে দিতেই অপর দিক শ্রাবণের বান্ধবী তান্নির গলা শোনা যার," শ্রাবণ শোন, কালকে ক্লাস ক্যানসেল বুঝলি? আসলে এমন একটা ঘটনার পর কি ক্লাস হয় বল? কাল আমরা সবাই শোক পালন করব, সকাল সকাল আসিস কিন্তু।" শ্রাবণ ক্ষিণ স্বরে বলে,"ঠিক আছে" বলতে গিয়ে তার গলাটা ধরে আসে। তান্নি বলে,"তোর কি মন খারাপ রে শ্রাবণ?" শ্রাবণ ধরা গলায় বলে,"নাহ" তান্নি বলে,"মন খারাপ করিস না রে। মানুষর জীবনটাই এমন, কে কখন চলে যাবে ................"

বাইরের বৃষ্টিটা ধরে আসা বৃষ্টির তোড়টা আবার বাড়তে শুরু করেছে। হু হু শব্দে বয়ে চলা বাতাস বৃষ্টির সাথে মিলে গিয়েছে। শ্রাবণ আবার ভাবনায় তলিয়ে যায়। অনেক কথা বলার ছিল তার, অনেক কথা........ কথা গুলো কি তবে না বলাই রয়ে গেল? বৃষ্টির অঝড় ধারাটা শ্রাবণের কাছে কেন যেন কান্নার মত ঠেকে। শ্রাবণ হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পানির পরশ নেয়। আশা করে বৃষ্টি তার দুঃখ ধুয়ে নিয়ে যাক। জানালার গ্রিলে শ্রাবণ মুখ রাখে। তার মুখে বৃষ্টির ফোটা এসে পরতে থাকে। শ্রাবণের অশ্রুধারা আর বর্ষার জল এক হয়ে মিশে যায়। অশ্রুমালা আর অঝোর ধারা, দুটো এক হয়ে ঝরতে থাকে।
আজ বাইরে বৃষ্টি নেমেছে অঝোর ধারায়। তারও কি কোন না বলা কথা রয়ে গেছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:৪৭
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×