somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনির্বান শিখা
আমি এক ফেরিওয়ালা ভাই।স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াই । লাইফ ইজ এ গেম । এখানে জেতাটাই বড় কথা,কিভাবে জিতলেন সেটা নয় । https://www.facebook.com/Dr.Obaydullah

হাবিজাবি ৩

২০ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুরাইন বাজার থেকে রেল লাইন ধরে সামনে হেটে চলেছি। কানে হেডফোন গান বাজছে "তুমি আসবে বলেই " । মাঝ রাত বলা চলে । পাশেই একটা গার্মেন্টস ছুটি হলো । বের হবার রাস্তাটা খুব সরু । আমি তাকিয়ে দেখলাম তারাহুরা করে বের হবার সময় একটা ছেলে খুব সহজেই সামনের একটা মেয়ের স্পর্শকাতর যায়গায় হাত দিলো । মেয়েটা কিছু বলতে না পারলেও মুখের অংগভঙ্গিতে ঘৃনা প্রকাশ করে বের হল । এটা এখানকার প্রতিদিনের চিত্র । এটা মেয়েটার প্রতিটি সময়ের হিসাব । খুব দ্রুত পায়ে মেয়েটি হেটে চলেছে । সারে এগারোটায় তার ছুটি হয় । খুব দ্রুত হাটলে তার বাসায় যেতে লাগে দশ মিনিট । তবুও বাড়িওয়ালা তার দিকে খারাপ নজরে তাকায় । অফিসের বস , সুপারভাইজার চাইলে খুব সহজেই তার শরীরে হাত দিতে পারে । সে আসলে তথাকথিত সমাজের ভোগের বস্তু হিসেবেই বিবেচিত । সারাদিন খাটুনির পর যখন ক্লান্তি জড়ানো পায়ে হেটে চলে ,রাস্তার পাশের মানুষগুলোও যেন কিভাবে তাকায় ।
যে মেয়েটির কথা বলছিলাম, মেয়েটি বের হয়েই চায়না একটা মোবাইল বের করে টাইম দেখে খুব দ্রুত হেটে চলেছে ঘরের পানে । ঘর ঠিক নয় কোনো মতে মাথা গোজার ঠাই । বস্তির একঝুপরির মধ্যে কয়েকজন মিলে ঠাসাঠাসি করে থাকে । এটাতেই প্রশান্তি । মেয়েটি হেটে চলেছে । কেউ একজন তার ভালবাসার মানুষ আছে । চায়না মোবাইলটি বের করে টাকে ফোন দেয় । " আপনের ছুটি অইছে ? আমি বাসায় যাইতাছি । হুনেন আমার আর ভাল লাগেনা । আপনে কবে ভাল একটা চাকরি পাইবেন ? আমারে ঘরে তুলবেন ? হ মারে কল দিসিলাম । বাজানের শরীলডা বালানা । আচ্ছা রাখি। বালো থাইকেন । " মেয়েটি ফোন রেখে হেটে চলে । ঘরে ঢুকতেই বাড়িওয়ালার রুম থেকে ভেসে আছে " মাগীর যা চলন, কই এতো রাইতে কি করে কে জানে । আরোতো মাইয়া আছে তারাতো এতো রাইতে ফিরে না । " মেয়েটি মুখ বুঝে সব শুনে হাতমুখ ধুয়ে আস্তে করে শুয়ে পড়ে । সকালে উঠে আবার কাজ । দেরি হলে যে বেতন কাটা । এমনেই সকালে উঠে বাথরুম থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সিরিয়াল ধরতে হয় । বাথরুম বলা যায় কিনা জানিনা , বস্তির একপাশে ডোবার উপর বাশের সাকোর মত করে দেয়া, চারপাশে চটের বেড়া দেয়া ।
এভাবেই চলে এই সব মানুষের জীবন । মানুষনা । মানুষ আর গার্মেন্টসের মেয়েরা কি এক ! ?

জুরাইন বাজার রেললাইন ধরে নারায়নগঞ্জের দিকে একটু হাটলে যে বঊ বাজার তা থেকে আরেকটু সামনে একটা খোলা যায়গায় রেললাইনের উপর বসে আছি । কানে ফুল ভলিউমে বাজছে আজম খানের গান রেল লাইনের ওই বস্তিতে জন্মেছিল একটি ছেলে । কাছের মানুষদের কাছ থেকে যখন কষ্ট পাই তখন এভাবেই আমি রেল লাইনে বসে গান শুনি । মন খুব খারাপ থাকলে ইংরেজীতে স্ট্যাটাস দেই । কষ্ট কিংবা মন খারাপ কিনা জানিনা । সেই মেয়েটির কথা ভাবছি । জেমসের সেই সেলাই দিদিমনি । যে এই শহরে আমাদের পাশেই বাস করে , অথচ আমরা তার খোজ রাখিনা । সেই মেয়েটি যে ঘরে বৃদ্ধ বাবা আর অসুস্থ মায়ের চিন্তায় শত অপমান সয়ে কাজ করে যাচ্ছে । সেই মেয়েটি , যার খোজ মুক্তিযুদ্ধজীবি বা জাতীয়তাবাদজীবি কেউ ই খোজ রাখেনা।
খুব ইচ্ছে করছে কাছে গিয়ে বলি , তুমি আমাদেরই বোন ,আমাদেরই মত কেউ । তুমি পোশাক শিল্পি । তোমাকে স্যালুট । কিন্তু যাচ্ছিনা । বিবেকে বাধছে । ওদের কাছে ছোট হয়ে যাবো এই ভয় ।বসে বসে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছি । নিজেকে দেশপ্রেমিক বানানোর এর চেয়ে ভাল উপায় আর কি হতে পারে ।

বিঃদ্রঃ প্রতিটি পেশার প্রতিটি মানুষই সম্মানিত । আসুন আমরা তাদের সম্মান দিতে শিখি । সম্মান দিতে না পারি , অন্তত তাদের যেন মানুষ ভাবতে শিখি ।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×