বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের একটি অংশ ভীষণ স্বার্থপর। দল জিতলে খেলোয়াড়দের মাথায় তুলে নাচে আর হারলে হয় এর উল্টাে। মাথা থেকে খেলোয়াড়দের ছুড়ে ফেলতে দর্শক এক মুহুর্ত দ্বিধা করে না। এমনকি বাপ-দাদা থেকে শুরু করে চেৌদ্দগুস্টি পর্যন্ত দর্শকদের হাত থেকে রেহাই পান না।
কবরে শুয়ে বেচারারা চিন্তা করে ঘটনাটি কি? আমিত কিছুই করি নাই, তো পাবলিক গালি দিচ্ছে কেন?
জয়পরাজয়ের পর দর্শকদের আরো ম্যাচিউরড আচরণ করা উচিত। জিতলে তাদের অধিক বন্দনার দরকার নেই, হারলে উত্তেজিত হয়ে দুয়োধ্বনি দেয়ার প্রয়োজন নাই।
গণমাধ্যমগুলাের উচিত এসব নিয়ে আরো সতর্ক হয়ে সংবাদ প্রকাশ করা। প্লেয়াররা তারা তাদের মত খেলবে। গণমাধ্যমের উচিত দর্শক এবং খেলেয়াড়দের মাঝে পরাজয়ের পর সৃষ্ট জটিল অবস্থাটি কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় সেদিকে চিন্তা করে সংবাদ প্রকাশ করা।
অথচ তারা সেটি না করে কিভাবে পত্রিকার কাটতি বাড়ানো যায় কিংবা টিভির রেংকিং বাড়ানো যায় শুধু সেদিকটাই চিন্তা করে সংবাদ করে। খেলেয়াড়র বা দেশের ক্ষতি হচ্ছে তারা এ বিষয়গুলো মাথায় আনে না।
হ্যাপি রুবেলের কথাই চিন্তা করেন। রুবেল ইংল্যান্ডের সঙ্গে এতো ভাল বোলিং করল, আর গণমাধ্যম একই দিন হ্যাপিকে স্থান করে দিল ফ্রন্ট কিংবা ব্যাকপেজে। এর যেৌক্তিকতা কি আমার মাথায় আসে না।
বাবা-মা যেমন সন্তানদের সাফল্যে আনন্দে আত্নহারা হন, একইসঙ্গে নিজেদের লাগাম টেনে ধরেন, যাতে সন্তান অহংকারী না হয়ে পড়েন। সন্তান এটা না ভেবে বসে সব কিছু অর্জন হয়ে গেছে।
আবার সন্তান খারাপ কিছু করলে তাকে মারধর কিংবা বকাঝকা না করে এই বার্তাটিই দেয়া উচিত যে আমরা তোমার উপর ভরসা হরাইনি। তাকে এটা বোঝানো উচিত যে, তুমি অমন না। ভাল কিছু করার যোগ্যতা তোমার আছে।
উনিশে মার্চকে সামনে রেখে বলব আমাদের সকলের প্রত্যাশা বাংলাদেশ জিতবে। যদি না জিতে খেলোয়াড়দের গালমন্দ করার দরকার নেই। বাংলাদেশ দলের সাপোর্টার হলে মুখ বন্ধ রেখে পাশে থাকুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




