একটি বিতর্কিত নিক নিয়ে গত ক'দিন ব্লগে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। মডারেটররা নিকটি প্রত্যাহার করে সেই অবস্থার অবসান ঘটিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন "আমি রাজাকার" নিটকি বিতর্কিত? যেখানে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ বিশেষ শ্রেণীর একদল paid ব্লগার দলবেধে তাদের মতের বিরোধীদের স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে রাজাকার প্রমাণের বৃথা চেষ্টায় নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োজিত করেন, সেখানে একজন ব্লগার যদি তাদের এই সকল অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে নিজেই নিজেকে "রাজাকার" বলে বসেন - তখন কার কী বলার থাকতে পারে? প্রতিদিন তারে রাজাকার বলেন আপনারা, আর আজ সে নিজেরে রাজকার বললে সমস্যা কী? তার বলা আর আপনাদের বলার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? সে কি আপনাদের চাইতে বেশি সত্যবাদী? after all, রাজাকারের পিন্ডি চটকানোই হচ্ছে কারো কারো জীবনের ব্রত - সেখানে আপনারা এমন একজনকে পেয়ে গেলেন যাকে কষ্ট করে অতীত খুড়ে রাজাকার প্রমাণের দরকার নেই। বরং পোস্ট আর কমেন্ট খুজে তার রাজাকারি-মনোভাব-প্রকাশ-পায়-এমন-বক্তব্য বের করার কষ্টটা কমিয়ে দেয়ার জন্য "আমি রাজাকার"কে ধন্যবাদ দেয়া যেতে পারে।
নিকটি অবশ্যই বিতর্কিত, আমার মতে। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে দাড়িয়ে, এদেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠে কেউ যদি চিৎকার করে বলে "আমি রাজাকার", তাহলে জাতি হিসেবে সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। প্রশ্ন হচ্ছে, কোথায় এত সাহস পায় এই "আমি রাজাকার"?
আমি তো মনে করি এখানে যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে একে ওকে রাজাকার বানানোর চেষ্টা করেন (and shame on us যে এখনও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের ধোঁয়া তুলে জাতিকে বিভক্ত করা হয়), ব্যক্তি আক্রমন করেন, গালাগালি করেন, সেক্সিস্ট মন্তব্য করেন, বিকৃত যৌনবাসনার বহিঃপ্রকাশ ঘটান তারাই এই "আমি রাজাকার"-এর মন্ত্রণাদাতা। তলে তলে তারাই "আমি রাজাকার"দের উস্কে দিয়ে একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরির প্রাণ-পণ চেষ্টা চালিয়ে যান। কেন যে তারা এটা করেন সেটাও খুব দুর্বোধ্য না। এরকম অস্থির পরিস্থিতির সুবিধা আদায় করতে করতে তারা সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছেন। তাদের এইসব কর্মকান্ড এতটাই typical হয়ে উঠছে দিন দিন যে তিলকে তাল বানানোর এই অপচেষ্টাগুলো সাধারণ ব্লগাররাও এখন খালি চোখে দেখতে পারছেন।
একশ্রেণীর ব্লগার আছেন এখানে যাদেরকে রীতিমতো ধর্ষকামী বলা চলে। তাদের-বিবেচনায়-রাজাকার কোনো ব্লগারকে পেলে তারা প্রথমে বাবা-মা তুলে গালিগালাজ শুরু করেন। তারপর সেই "রাজাকার" ব্লগারের মা-বোনদের কোথায় কিভাবে কত প্রকারে ধর্ষণ করবেন সেই ফিরিস্তি দিয়ে যান। অনেক সাহসী ব্লগার আছেন যারা স্বনামেই তাদের এই বিকৃত যৌনবাসনার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। বস্তুতঃ তারা যে অপরাধে একজন অরিজিনাল রাজাকারকে অভিযুক্ত করেন, ৩৬ বছর পর সেই একই অপরাধ সংঘটনে তারা বিন্দুমাত্র বিচলিত হন না। ভাবতে অবাক লাগে যে সেই মুখেই তারা '৭১ এর পাক হানাদার বাহীনি এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে ৩ লক্ষ বা তারও বেশী নারীর সম্ভ্রমহানির বিচার চান (অবশ্যই এই বিচারের দাবী, বিচার দাবীকারীর নৈতিক স্খলনের কারণে অগুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে না)। আমি শুধু দেখি যেই লালসা থেকে পাক হানাদার বাহীনির সদস্যরা হামলে পড়েছিলেন বাঙালী নারীর উপর, সেই একই লালসায় বা রিপুর তাড়নায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক যুবক হামলে পড়ছেন তাদের ভাষায় রাজাকার মনোভাবসম্পন্ন (its the ideology that matters - Omi R. Pial) কোনো নারীর উপর। অর্থাৎ নারীর ধর্ষন এবং সম্ভ্রমহানিও একটি মহৎ কাজ হতে পারে যদি একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাজটি করা হয়। ঠিক যেমন ইটিভি প্রমাণ করেছে মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মিথ্যা বলাও জায়েজ। ঠিক যেমন লাদেন এবং জেএমবি প্রমাণ করেছে মহৎ উদ্দেশ্যকে (ইসলাম কায়েম) সামনে রেখে বোমাবাজি করা, নিরস্ত্র মানুষ হত্যা জায়েজ। এরা সবাই কি একই দলভূক্ত নয়?
যারা মনে করেন যে তারা খুব আদর্শবাদী অবস্থানে আছেন (সেটা "ভুল" আদর্শের জন্যও হতে পারে), গালাগালি করে সম্ভবত তাদের বিচলিত করা যায় না। তাই গালাগালির কামানটা এবার একটু অন্যদিকে ঘুরে যায়। কামানটা তাক করা হয় মডারেটর, কর্তৃপক্ষ, এবং ক্ষেত্রবিশেষে ডেভেলপারদের দিকে। এই মডারেটররা কিছুক্ষণ আগেই ধর্ষকামীদের ভার্চুয়াল তান্ডবলীলা দেখেছেন এবং নিশ্চিতভাবে সেই তান্ডবের শিকার হবার কোন ইচ্ছেই তাদের নেই। সংঘবদ্ধ কামুকরা এটা ভালো করেই জানে। আর জানে বলেই তারা নিষ্পাপ হৃদয়গুলোকে ভার্চুয়ালি ধর্ষণ করতে থাকে - যতক্ষণ না তারা বলে "ছেড়ে দাও বাবা। তোমরা যা চাও তাই হবে।" (পরবর্তীতে তাদের এই স্বীকারোক্তি পোস্ট করে দুনিয়াকে জানানো হয়, দেখ কিভাবে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।)
এইভাবে তারা অপরাধ করেও পার পেয়ে যান। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধকে তারা ব্যবহার করেন তাদের সকল অপকর্মকে জায়েজ করতে, সেহেতু মডারেটর/কর্তৃপক্ষও খুব একটা ঘাটাতে সাহস করেন না তাদের। এমন কি সামহোয়্যার ইনের কর্ণধারকেও তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে শিওর হতে হয় যে সে রাজাকার কি না! কোন সন্দেহ নাই যে এক আজব দেশে (সামহোয়্যার ইন ব্লগ, ভার্চুয়াল দেশ) বাস করি আমরা। এই দেশের মানুষের মাঝে শুভ বুদ্ধির উত্তরণ ঘটবে এমনটা আশা করা কি গর্হিত অপরাধ হবে বা মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার শামিল হবে? কে জানে ... হতেও পারে! কিছু লোক তো আবার সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র খোজেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


