আমার দেশ এখন হটকেক।
বংশপরম্পরার রাজনীতিতে সম্ভাব্য নেতা জয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এই পত্রিকাটির কল্যাণেই এখন মানুষের মুখে মুখে।
ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে কাগজও হিট!
এই ব্লগেই দেখলাম একজন জানতে চেয়েছেন, আসলে আমার দেশ 'মোটামুটি' নিষিদ্ধ কি না। জানতে তো চান নি, জানতে চাওয়ার ভাব ধরে আসলে উনি জানাতেই চেয়েছেন। ইস্যু এবং কাগজ নিয়ে চারপাশে যেমন হুক্কাহুয়া চলছে, ওই পোস্টেও তেমনি আমরা হুয়াধ্বনি দিয়ে চলেছি। ব্লগারের টার্গেট কতো চমৎকারভাবে ফুলফিল!
হালফিল এই বিতর্কটাকে এগিয়ে নেয়ার মধ্যে নতুনত্ব কিছু আছে বলে মনে হয় না। তবে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আবার সেই পুরনো প্রশ্ন সামনে আনতেই হয়, আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো কি আসলেই গণমানুষের স্বার্থে কাজ করছে?
প্রশ্নটি আমজনতাকে করুন, দেখবেন, তারা কেমন মুখ বাঁকিয়ে কথা পেঁচিয়ে দু'চারটা গালিগালাজ করে বলে দেবেন, সবগুলো মিডিয়া চোর! তা সেইসব 'চোর মিডিয়া' যখন একেকটা ইস্যুকে সামনে আনে, তখন কিন্তু আমজনতা সেগুলো যথাযথভাবে গিলে ফেলে আবার নিয়ম মাফিক বুদ্বুদও তোলেন। আর আমজনতার 'চোর মিডিয়া'র ইস্যুগ্রহণ কিন্তু ত্বরান্বিত করেন কিছু এজেন্ট। যখন যার স্বার্থের প্রতিবেদন হয়, তখন তারা তা নিয়েই লাফালাফি করেন!
আমার দেশ যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, তার সত্যতা কতোখানি রয়েছে তা বিচার সাপেক্ষ। আর এই দেশে এক যুবরাজের যে কাহিনী আমরা দেখেছি, তাতে প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না। তবে প্রশ্নটা থাকবে যে, আমার দেশ কি পুরনো যুবরাজের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশের সৎসাহস কোনদিন দেখাবে? উত্তরটা না'র ঘরেই আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। কারণ আমার দেশসমেত আমাদের দেশের কাগজগুলো বাঁচে জনগণের টাকায় কিন্তু কাজ করে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে। কাজেই অন্য বেশিরভাগ কাগজের মতো আমার দেশের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণেই তারা অতীত যুবরাজের কোন আ-কাম ছাপতে উৎসাহী হবে না। একই কারণে জয়ের ঘুষ গ্রহণের প্রতিবেদন ছাপতে তাদের বেশি উৎসাহই যোক্তিক।
খবরের কাগজে যা ছাপা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেহেতু আমজনতা খুঁজে আর দেখতে যান না যে, এর কতোটা সত্য আর কতোটা মিথ্যা, তাই যা ছাপা হয় সেটাকে ঘিরেই সব বুদ্বুদ উঠতে থাকে। তাই গণমাধ্যমের দায়টা অনেক বেশি। একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়েই তাই প্রতিবেদককে প্রমাণ করতে হয় ঘটনাটি। একটি মাইনর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মেজর সিদ্ধান্তে আসার প্রচেষ্টা কখনোই ভালো সাংবাদিকতা বলা যায় না। সেই হিসাব করলে ও ধরলে আমার দেশ ভালো সাংবাদিকতা করে নি। জয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি যার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, আমরা প্রতিবেদনে তার পরিচয় ও পূর্বাপর প্রেক্ষাপট প্রত্যাশা করতেই পারি। আমার দেশ সেই প্রত্যাশা পুরণ করে নি।
অবশ্য আমার দেশের কাছ থেকে সেই প্রত্যাশাটা কতোখানি যৌক্তিক তা ভেবে দেখা দরকার। কারণ এই কাগজটির সম্পাদক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন অপেশাদার মানুষ। আমার যদি জানার ভুল না থাকে, তাহলে আমাদের দেশে এখনো খবরের কাগজের সম্পাদক হতে হলে আইনত তাকে ন্যূনতম ১০ বছরের পেশাদার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মাহমুদুর রহমানের তা নেই বলাই বাহুল্য। তারপরেও তিনি সম্পাদক! প্রাক্তন আমলা সম্পাদক তার পদটি ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর পক্ষেই কেবল কাজ করে যাবেন- এ তো স্বাভাবিক। কারণ আমাদের দেশে অনেক নামি দামি কথিত পেশাদার সম্পাদকেরাও সব আমলে ঘি মাখন খেয়ে কৃতজ্ঞতায় গদগদ থাকতে কুণ্ঠা বোধ করেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


