১. ক)
ক'দিন আগেও তিনি বেজায় শক্তিশালী ছিলেন। তার শক্তির দাপটে আবেদ খান আজ লন্ডন যান তো কাল কলকাতা পালান। আজ ছুটি চান তো কাল রেজিগনেশন। স্কুটির বিজ্ঞাপনের মডেল নারী রিপোর্টার ও তার একান্ত বাধ্যগত টেবিলওয়ার্কার সঙ্গী রিপোর্টার তার দাপটেই হররোজ থাকতেন প্রথমপাতায়। কি ভীষণ শক্তি তার! পত্রিকার প্রথম সারির কারিগরদের অন্যতম মুস্তাফিজ শফিকে ঠেলতে ঠেলতে খাদের কিনারায় নিয়ে যাবার কৃতিত্বও তো তার সেই দাপটই পাবে! এমন দাপুটে অমিত হাবীব কি না এখন আবার ভেজা বেড়াল! বসুন্ধরার মাথারা তার ওপর থেকে আশীর্বাদের হস্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাতেই তিনি কাৎ। আর আবেদ খান? বসুন্ধরার কর্তাদের সবুজ সঙ্কেতেই আবার ক্ষমতায়িত হয়েছেন। তার ক্ষমতার তরঙ্গ ছুঁয়েছে মুস্তাফিজ শফিকেও। তারা ক্ষমতায় ফিরেই স্কুটির মডেল আর তার সঙ্গীকে বদলি করতে চেয়েছিলেন। স্কুটির মডেল সঙ্গীসমেত ইস্তফা দিয়েছেন। আরো ৩ জনকে চিরতরে ঘচাং ফু করা হয়েছে। অমিত হাবীব চেয়ে চেয়ে দেখেন। ইশ্, একদিন এমনি করে তিনিও ক্ষমতায়িত ছিলেন! আচ্ছা, আবেদ খান, মুস্তাফিজ শফিরা আবার চেয়ে চেয়ে দেখতে আর কতোদিন সময় নেবেন?
১. খ)
প্রশ্নটা কি ঠিক হলো? না, বলা উচিত ছিলো, আবেদ খান, মুস্তাফিজ শফিদের আর কতোদিন পর চেয়ে দেখার জায়গায় আবার নিয়ে গিয়ে অমিত হাবীবকে ক্ষমতায়িত করবে বসুন্ধরা? বাহ্, কি মজার খেলা! একবার এপক্ষ আরেকবার ওপক্ষ! এককালের চোর ডাকাতরাও টাকা থাকলেই পত্রিকা করে চাইলেই মহীরুহ সাংবাদিকদের বগলের তলায় নিয়ে ঘুরতে পারেন! চাইলেই রোজ তাদের দিয়ে দাত মাজতে পারেন! ভালোই। সেজন্য তাদের মধ্যে মারামারি বাধিয়ে রাখা ভীষণ দরকারি। কে আর কি বলবে? টাকার পাহাড়ে সবাই আটকা। ছেড়ে দিলে এর চেয়ে কম টাকায় কিভাবে চলবে? গাড়িতে ওঠার অভ্যাস হয়েছে। কিভাবে বাস বা সিএনজিতে চলাচল করবে! কাজেই পশ্চাদ্দেশে শত বেদনায়ও রা হবে না। কি অসীম নিদারুণ ধৈর্য্য! এর ওপর নোবেল দেবে যে কবে? জয়তু বসুন্ধরা।
২.
ভুল করলাম মনে হয়। জয়তু বসুন্ধরা বলে একে আজাদকে খাটো করা হলো যে! বসুন্ধরার নাহয় অনেক মাথা। কিন্তু একে আজাদের বেশি মাথা লাগে না। তিনি নিজে থাকলেই হয়। সে কারণেই এফবিসিসিআই সভাপতির কাগজ সমকালে গোলাম সারওয়ার-মোজাম্মেল হোসেন, মিজানুর রহমান খান-মোজাম্মেল হোসেন, আবেদ খান-মোজাম্মেল হোসেন, সানাউল্লাহ লাভলু-আহমেদ ফারুক হাসান, মোজাম্মেল হোসেন-আলমগীর হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন-আবু সাঈদ খান এমন বহু দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিলো। কাগজের বারোটা বেজেছে। তবে একে আজাদ সাহেবের উন্নতি হয়েছে। যার যার অবস্থান বজায় রাখতে আমাদের মহীরুহ সাংবাদিকরাই তাকে টেনে তুলেছেন। একই কারণে একে আজাদের মুখে ছাই দিয়ে যুগান্তরে গিয়েও গোলাম সারওয়ার আবার সেই কাগজে ফিরতে পেরেছেন! ইটস অল অ্যাবাউট বিজনেস অ্যান্ড পাওয়ার! কাজেই জয়তু পত্রিকার আধুনিক মালিকপক্ষ!
৩.
আচ্ছা, কেউ কি বলতে পারেন, নাইমুল ইসলাম খানের হাতে মোট কটা আংটি আছে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেকেই দিতে পারবেন। তবে যদি বলি, তার ভেতরে কতোগুলো প্যাঁচ আছে? দিতে পারবেন কেউ? আমার ধারনা তার প্যাঁচ জুজুৎসুর জটিল সব প্যাঁচকে তো হার মানাবেই, পৃথিবীর ইতিহাসে জটিল সব প্যাঁচকেও ম্লান করে দেবে! এতো ছলা এবং কলা তার আয়ত্বে। কখন তারেককে মাথায় তুলতে হবে, কখন খালেদাকে আছাড় মারতে হবে, কখন হাসিনাকে তেল দিতে হবে- সব তার নখদর্পণে। তো, হালে তিনি তার কচিকাচার আসর আমাদের সময় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেচতে গিয়েছেন নূর আলীর কাছে। দাম চড়ানোর স্বার্থে খান সাহেব নিজেই কৌশলে ঢাক পেটাচ্ছেন খবরটি। নূর আলীও বেশ আগ্রহী। যদি কিনে ফেলেন তাহলে অধিনায়ক নামের যে পত্রিকাটি মোজাম্মেল হোসেন করার জন্য এক বছর ধরে কসরত করছেন, সেটি দরিয়ায় ভেসে যাবে। অর্থ্যাৎ মোজাম্মেল হোসেন এখানেও ফ্লপ! নাইমুল ইসলাম খান আবার কিছুদিন নতুন উদ্যমে টকশো করে বেড়াতে পারবেন! ওদিক থেকে নূর আলীর টাকায় প্রতিদিন ওয়ানটাইম পত্রিকা আমাদের সময় বের হবে। ব্র্যাভো।
৪.
আমাদের দেশের সংবাদপত্র শিল্প আসলে একরকম ধ্বংসের পথেই যাচ্ছে। নতজানু সাংবাদিক বাড়ছে। মালিকদের পা চাটা প্রাণীতে পরিণত হতে হচ্ছে প্রতিদিন। বিকল্প গণমাধ্যম নিয়ে বহু কাজ এবং অকাজ আমাদের দেশেও হয়েছে। সেগুলোও কাজে আসছে না। টাকার মায়াজালে ঘিরে থাকা সংবাদপত্র শিল্পকে রক্ষা করতে তাই পথ খুঁজি, আসুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


