somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবেদ খান প্রসঙ্গ : একটু তলিয়ে দেখা

০২ রা জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবেদ খান কালের কণ্ঠ থেকে পদত্যাগ করেছেন। খবরটা দেখছি বেশ আলোচনার খোরাকই যুগিয়েছে। ভালোই। বোঝা যায়, দেশের গণমাধ্যম নিয়ে মানুষ এখন অনেক সচেতন। নানাজন নানাভাবে দেখছেন। কেউ আবেদ খানের পিঠ চাপড়াচ্ছেন, কেউ গুষ্ঠি উদ্ধার করছেন। আমি একটু ভিন্নভাবে বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করছি। আরেকটু তলিয়ে। তার আগে ব্লগারদের অনুরোধ করবো আমার আগের এই লেখাটি একটু পড়ে আসতে।

পদত্যাগের পর সব থেকে বড় যে প্রশ্নটি উঠেছে সেটি হলো, আবেদ খান এই দেড় বছর কি বুঝতে পারেননি যে তিনি কোন সর্বনাশের পথে রয়েছেন? তাহলে এই দেড় বছর পর সিদ্ধান্ত কেন?
একটু পেছন ফিরে তলিয়ে দেখি। আবেদ খান তার সম্পাদক হিসেবে কাজ করার জীবনে কোনোদিনই কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়, যুগান্তর ছাড়ার পর তিনি একটি চমৎকার লেখা লিখেছিলেন। সেখানে তিনি বর্ণনা দিয়েছিলেন, কীভাবে গোলাম সারওয়ার বাবুলের হাত পা ধরে আবার যুগান্তরে ঢোকার পথ করে নিলেন। আর আবেদ খানকে বেরিয়ে আসতে হলো। সেই সময় আবেদ খানের ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছিলেন, ভদ্র মালিকা ছাড়া মিডিয়ার মালিক হলে এমনই হয়। এরপর তিনি সমকালের সম্পাদক হলেন। মজার ব্যাপারটি হলো, যুগান্তরে থাকা অবস্থাতেই আবেদ খানের সঙ্গে সমকালের প্রকাশক এখনকার এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়। আবেদ খান সেই ভরসাতেই যুগান্তর ছাড়েন। এরপর সমকালে দীর্ঘদিন তিনি ভালোই ছিলেন। কিন্তু টিম লিডার হিসেবে অযোগ্য হলে সম্পাদককে যে অসৎ মানুষদের ওপর নির্ভর করতে হয়, সে কথার প্রমাণ তিনি দিয়েছিলেন সমকালেই। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত একে আজাদের সঙ্গে তার আর বনিবনা হলো না। মজার ব্যাপারটি এখানেও। সমকালে তাকে নিয়ে টানাহেচড়া অনেক দিন ধরে চললেও যখন তিনি একটা কাগজ করবেন বলে নিশ্চিত হলেন, তখনই বেরিয়ে এলেন। সমকাল ছাড়ার পরের দিন তিনি তার ঘনিষ্ঠদের বলেই দিয়েছিলেন, কালের কণ্ঠ নামের একটি পত্রিকা তিনি বের করতে যাচ্ছেন। পরে দেখা গেলো সেই ইনভেস্টরই বসুন্ধরা। কাজেই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আবেদ খান কালের কণ্ঠ ছাড়ার আগেই একটি নতুন পত্রিকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন। বাজারে ফিসফাসও আছে, ওরিয়নের কাগজ করতে যাচ্ছেন তিনি।

এবার আসুন বারবার কাগজ বদলের কারণটা কী? ভোরের কাগজ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি যে কটি কাগজে সম্পাদক ছিলেন, সবগুলোতেই তিনি অন্ধভাবে কিছু অযোগ্য মানুষকে সঙ্গে রাখতেন। এই অংশটিই সব সময় তাকে পথভ্রষ্ট করতে বড় ভূমিকা রাখে। বসুন্ধরার মতো ভূমিদস্যু গ্রুপের কাগজ বের করার জন্যও এরাই ছিলো আবেদ খানের প্রধান উস্কানিদাতা। এদের মধ্যে কেউ দুদিন আগের হেলথ বিটের রিপোর্টার থেকে নির্বাহী সম্পাদক হয়ে গাড়ি হাঁকান, কেউ ঢাকার বাজার থেকে ইলিশ কিনে আবেদ খানের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার গ্রাম থেকে পাঠানো ইলিশ বলে ভুল বুঝিয়ে তার হৃদয়ে স্থান করে নেন। এইসব মানুষগুলোর আচরণ আর ভাবভঙ্গির কারণেই প্রতিটি হাইজেই প্রথম সংকটটা তৈরি হয়। এরপর তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একসময় আবেদ খান নিজেও তা আর সামাল দিতে পারেন না।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রে আবেদ খানের পদত্যাগের এই ঘটনাটিকে অনেকে মাইলফলক বলছেন। আমি একমত নই। কারণ তার এই পদত্যাগ কেবলমাত্র নৈতিকতা থেকে উৎসরিত নয়। যদি তা হতো তাহলে, প্রথমত তিনি তাদের সঙ্গে কাগজ করতে যেতেন না। দ্বিতীয়ত, গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই মোহভঙ্গ হতো। কাজেই ব্যাপারটি আরো গভীরে। মনে আছে নিশ্চয়, বসুন্ধরার সঙ্গেই গোলাম সারওয়ার নবযুগ নামের একটি পত্রিকা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর গোলাম সারোয়ার পালিয়ে বেঁচেছেন। সেই গোলাম সারোয়ার, যিনি বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে প্রথম মালিককে উলঙ্গ হতে শিখিয়েছেন। যুগান্তরে যিনি বাবুলের জন্য যা তা ছেপেছেন। সেই গোলাম সারোয়ার যখন টিকতে পারেনি, তখন আবেদ খান তো কোন ছাড়! কাজেই আমি মনে করি না যে, আবেদ খানদের এমন নাটকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ইতিবাচক কোন ফল আসবে। বরং আমি মনে করি, সাংবাদিকতায় এই টাউট জেনারেশনটাকেই আউট করে দিয়ে তরুণদের মধ্য থেকে টিম লিডার বের করে আনলেই কিছু হলেও হতে পারে।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×