প্রায় দুই লাখ বছর আগে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বিলুপ্তির মুখে পড়া পৃথিবীর অবশিষ্ট সামান্য কিছু মানুষ সম্ভবত ছোট্ট একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা করেছিল। আর এভাবেই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় মানবজাতি। কয়েকজন বিজ্ঞানী জায়গাটিকে ডাকছেন ‘গার্ডেন অব ইডেন’ বা স্বর্গোদ্যান নামে।
নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, গুটিকয়েক মানুষ যে অনুকূল জায়গাটিতে আশ্রয় নিয়ে বরফ যুগের প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বেঁচে যায়, তার অবস্থান আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূলে, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনে বিশ্বের অন্যত্র নানা প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাদের ধারণা, অন্য প্রজাতির প্রাণীর তুলনায় মানুষের জেনেটিক বৈচিত্র্য কম হওয়ার এটি একটি সম্ভাব্য কারণ। কয়েকজন বিজ্ঞানীর ধারণা, ওই সময় পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা মাত্র কয়েক শতে নেমে এসেছিল। পৃথিবীতে পালা করে সর্বব্যাপী শৈত্যের বরফ যুগ এসেছে, যার সর্বশেষটি ঘটেছিল আজ থেকে হাজার দশেক বছর আগে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির দ্য ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান অরিজিনসের অধ্যাপক কার্টিস মারিয়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ‘পিনাকল পয়েন্ট’ নামে পরিচিত সমুদ্র উপকূলবর্তী ওই প্রত্যন্ত জায়গায় গুহার মধ্যে প্রাচীন মানুষের ব্যবহূত কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছেন।
অধ্যাপক মারিয়েন বলেন, ‘হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতির মানুষের বিকাশ শুরু হওয়ার কিছু সময় পরই বিরূপ জলবায়ু মানবজাতিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পাওয়া কিছু তথ্যে এ ইঙ্গিত মিলছে যে টিকে যাওয়া ক্ষুদ্র একটি জনগোষ্ঠী থেকেই বর্তমান মনুষ্য জাতির উদ্ভব। তারা আফ্রিকার ওই ক্ষুদ্র জায়গাটিরই সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে বেঁচে ছিল। নিকটস্থ সাগর এবং এলাকাটির সমৃদ্ধ উদ্ভিদজগৎ ছিল তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের একটি বড় উৎস।
মারিয়েন বলেন, গুহাগুলোতে কমপক্ষে এক লাখ ৬৪ হাজার বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মানবজাতির উদ্ভব-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ক্রিস স্ট্রিঙ্গার বলেন, প্রাচীন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ সম্পর্কে অধ্যাপক মারিয়েনের তত্ত্বের সঙ্গে তিনি একমত। তবে ক্ষুদ্র একদল মানুষ আধুনিক মানবজাতির উৎস—এই বক্তব্য তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
অনেক গবেষকেরই ধারণা, প্রায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় আধুনিক মানুষের উদ্ভব ঘটে। ৫০ হাজার বছরের মধ্যেই তারা মহাদেশের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।
ধারণা করা হয়, ৭০ হাজার বছর আগে এক শুষ্ক যুগে লোহিত সাগরের পানির স্তর নেমে গিয়েছিল। সাগরের মুখ সংকুচিত হয়ে ১৮ মাইল থেকে আট মাইলে নেমে আসে। আর এ সুযোগে একটি জনগোষ্ঠী সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকা থেকে আরবে প্রবেশ করে। ডেইলি মেইল।
সুত্রঃ প্রথম আলো
‘গার্ডেন অব ইডেনে’ আশ্রয় নিয়ে টিকে ছিল মানবজাতি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

যে আয়না আর প্রতিচ্ছবি রাখে না

আমাদের ভালোবাসা ছিল এক গোপন সন্ধ্যার মতো,
জোনাকিরা তখন শব্দহীন কবিতা হয়ে বসত সিঁথির পাশে,
হাত ধরলেই হৃদয় জেগে উঠত,
বুকের ভেতর গুনগুন করত অনন্ত প্রতিশ্রুতির গান।
তুমি তখন আমার দেহে নয়,
আমার সত্তার স্পর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন
ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।