ছোট্টবেলায় "অ" কেন সোজা করে লিখতে পারছি না সেটার চাপ। সারাক্ষণ ভয় থাকতো এই বুঝি এল বেতের বাড়ি। এরপর স্কুলের বাড়ির কাজের ভয় কিংবা কিছু বজ্জাত ছেলেদের কাছ থেকে বুলি হওয়ার ভয়। কষ্ট-মষ্ট করে এসএসসি পার করলাম, এইচএসসি পাস করলাম, বিবিএ পাস করলাম। চাকুরী নামক সোনার হরিণ জুটলো কিন্তু সুখ নামক পাখি যে কোথায় লুকালো কে জানে। বেতনের টাকার সাথে খরচের হিসাব মেলানোর নতুন চাপ। দ্রব্যমূল্যের দাম যে অদৃশ্য চাপে বাড়ুকনা কেন, বেতন বৃদ্ধিতে কোন চাপাচাপিই যেন কাজ করে না।
রাস্তায় বের হলে সারাক্ষণ যেন কেমন একটা ভীতি লেগে থাকে। বাসটা ধরতে পারবোতো? অফিসে সময়মতো যেতে পারবোতো? জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারবোতো কিংবা দেশের অধপতনের অংশীদার হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবোতো? এই সব সংঙ্কা সারাক্ষণ উকি মারে মনের মাঝে।
যখন বাসের লাইনে দাড়িয়ে থাকি ঘন্টার পর ঘন্টা আর দেখি বেশ জুতসই্ গাড়ি হাকিয়ে জোরে জোরে হিন্দী গান বাজিয়ে মাথা দুলাতে দুলাতে আমার বয়সী কেউ যাচ্চে, তখন ক্ষণিকের জন্য মনে হয় "আহারে! দেশটা বুঝি তোদের জন্যই". পরক্ষণেই উপলব্ধি করি "আরে! তা কেন হবে? আমি বেচেঁ থাকার জন্য, ভালভাবে থাকার জন্য শ্রম দিচ্ছি, আমি চেষ্টা করছি এই দেশে টিকে থাকার, আমি আশা করে যাচ্ছি একটি সোনালী দিনের। আমি বড়মাপের দেশপ্রেমিক নই, কিন্তু চেষ্টাতো করি দেশটার পাশে থাকতে।
এত চাপ, এত দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমরা যারা এখনো হাল ছাড়ি নাই, সেই আমরা কি কোন সুপারহিরো থেকে কম কিছু।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

