somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরবি ভাষা : কোরআনের বুলি

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভাষা হচ্ছে মানুষের ভাবনার প্রতিফলন, মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ, যোগাযোগের একটা মাধ্যম, যার ফলে মানুষ তার মনের ভাব, চিন্তা, অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে। ‌আরবি ভাষা হচ্ছে পৃথিবীর জীবন্ত ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। সেমেটিক ভাষাসমূহের মধ্যে আরবি অন্যতম ভাষা যা খ্রীস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দ থেকে বিশ্ব সংস্কৃতিতে অবদান রাখতে শুরু করে। আধুনিক মানব সভ্যতার সূচনায় আরবরা নিঃসন্দেহে অবদান রেখেছেন, আর এর সবচেয়ে বড় প্রমান হচ্ছে, আরবি ভাষার শত-শত বিজ্ঞানসম্মত বই, যেগুলো ল্যাটিন ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে পড়ানো হয়ে থাকে। তদ্রূপ আধুনিক ইউরোপীয় বিভিন্ন ভাষাসমূহে অনেক আরবী শব্দ বিদ্যমান রয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় কমপক্ষে চার হাজার আরবি শব্দ পাওয়া যাবে, পর্তুগিজ ভাষায় তিন হাজার, তাছাড়া ইউরোপের সকল ভাষায় বহু আরবি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
মধ্যযুগেই আরবি ভাষা থেকে শব্দগ্রহন শুরু হয় এবং তা কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত চলতে থাকে। ইংরেজি ভাষায় বহু আরবি শব্দ সরাসরি প্রবেশ করেছে কিংবা ইউরোপের অন্যান্য ভাষার মাধ্যমে প্রবেশ করেছে যেমন ল্যাটিন, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, ইতালীয় ভাষা।
ইংলিশ গবেষক Walt Taylor একটি গবেষণা তৈরি করেছিলেন যার শিরোনাম দেন, Arabic Words in English, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তা প্রকাশ করে। Sir Taylor বলেন, ইংরেজি ভাষায় আরবি মৌলিক শব্দ প্রায় এক হাজার রয়েছে, আরো হাজার হাজার শব্দ মৌলিক শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, এগুলোর মধ্যে অর্ধেকের বেশি এখন ব্যবহৃত হয় না কিংবা খুব কম ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ২৬০ টি মৌলিক শব্দ রয়েছে যেগুলো এখনো ইংরেজরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে থাকে।
তার উল্লেখিত শব্দসমূহ অক্সফোর্ড পকেট ডিকশনারিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা নিশ্চিত করে যে, ইংরেজরা এই শব্দসমূহ দৈনন্দিন জীবনে অনেক ব্যবহার করে। আরো অনেক আরবি শব্দ ইংরেজিতে অন্য রূপ নিয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে কখনও অনেক আবার কখনও সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। সেগুলোর কতগুলো পুরোপুরি ইংরেজি রূপ নিয়েছে আবার কতগুলো আরবি রুপের কাছাকাছি আছে। এই শব্দসমূহ বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে যেমন, জীবজন্তু , পোশাক, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়ন ও অন্যান্য।
নিম্নে কতিপয় ইংরেজি শব্দ তার মূল শব্দ আরবি ও ইংরেজি ভাষায় গ্রহনের তারিখসহ উল্লেখ করা হলঃ

Admiral ----- ১২০৫ ----- أمير البحر
Azure ----- ১৩৭৪ ----- أزرق
Tariff ----- ১৫৯১ ----- تعريفة
Algebra ----- ১৪৫২ ----- الجبر
Cable ----- ১২০৫ ----- حبل
Giraff ----- ১৫৯৪ ----- زرافة
Zarnich ----- ১৩৮২ ----- زرنيخ
Spinach ----- ১৫৩০ ----- سبانخ
Syrup ----- ১৩৯২ ----- شراب
Chiffon ----- ১৮৭২ ----- شف
Sahara ----- ১৮৬২ ----- صحارى
Fellah ----- ১৫৪৮ ----- فلاح
Cotton ----- ১২৯০ ----- قطن
Coffee ----- ১৫৯৮ ----- قهوة
Lemon ----- ১৪০০ ----- ليمون
Musk ----- ১৩৯৮ ----- مسك
Magazine ----- ১৫৮৩ -----مخزن
Jasmin ----- ১৫৬২ -----ياسمين

আরো বহু সন্দেহসূচক শব্দ রয়েছে , যেগুলো গ্রহণের সাল পাওয়া যায়নি। যেমনঃ earth>أرض، cover> كفر، coffin> كفن , candle > قنديل , mirror>مرآة , yacht> يخت , zigzag> زقاق , abide> أبد , banana> بنان , messiah> المسيح. satan> شيطان. traffic> تغريق , cuff> كف divan> ديوان eden > عدن

পাক - ভারত উপমহাদেশের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য চর্চা অতি প্রাচীন। বিশেষত মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চলে আরবি শিক্ষা ব্যাপকতা লাভ করে বলে প্রতীয়মান হয়। বর্তমানেও বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। এতেও প্রমাণিত হয় যে, অতীতের কোন এক সময় এসব অঞ্চলে আরবি ভাষার ব্যাপক চর্চা ছিল। ধর্মীয় অঙ্গন ব্যতিতও দৈনন্দিন জীবনে অনেক আরবী শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন
আদালত> عدالة, উকিল>وكيل, হাজির>حاضر, কিস্তি >قسط, সনদ >سند ، রায় > رأي, ওজন> وزن, দোকান> دكان, দেনা> دين, দুনিয়া> دنيا, খবর> خبر, কলম>قلم, ، দোয়াত >دواة، আমানত >أمانة، তারিখ>تاريخ, গোসল> غسل، কামিজ> قميص, জরুরি> ضروري, মাল>مال, জমা> جمع, নগদ>نقد, বাকি>باقي, আদায় > أداء, আসল>أصل,নকল >نقل, মুনাফা> منفعة, লোকসান > نقصان, ফায়দা> فائدة, হজম>هضم, মানা > منع، বদল > بدل، জবাব>جواب، ময়দান>ميدان,নাটক > نطق, মজুদ > موجود، বাতিল>باطل, সবর>صبر, ইশারা > إشارة, কেচ্ছা > قصة ، ফ্যাসাদ > فسد, নজর > نظر, সিন্দুক > صندوق ، জালেম > ظالم, আজব>عجب, মজলুম > مظلوم, জুলুম > ظلم, তফসীল > تفسيل সাবেক >سابق, মহল্লা >محل, হালুয়া >حلوى, আসবাব >أسباب, কাবাব > كباب, মোরব্বা >مربى, মুরব্বি > مربي ইত্যাদি আরো অনেক শব্দ আছে। আঞ্চলিক ভাষায় আরবি শব্দের বহুল ব্যবহার লক্ষনীয়।
একইভাবে হিন্দি ভাষাতেও আরবি শব্দের বহুল ব্যবহার রয়েছে। উর্দু ভাষায় হয়ত এমন কোন বাক্য নেই যেখানে আরবি শব্দ অনুপস্থিত। তদ্রূপ ফারসি, কাবুলি, পাঞ্জাবি, পস্তু, তুর্কীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ভাষাগুলোর মাঝেও আরবি শব্দ মিশে একাকার হয়ে গেছে।




সাধারণত যে কোন ভাষার দুটি রূপ থাকে একটি আঞ্চলিক ও একটি শুদ্ধ । এদিক দিয়ে আরবি ভাষারও দুটি রূপ আছে, আঞ্চলিক রূপ ও শুদ্ধ রূপ।

আঞ্চলিক আরবি (العامية) : মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের ভাষা আরবি হলেও অঞ্চলভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার কতিপয় দেশসহ আরো বিভিন্ন দেশেগুলোর রাষ্ট্রীয় ভাষা আরবি হলেও কথ্য ভাষায় বিস্তর পার্থক্য লক্ষনীয়। কিছু দিন কোন অঞ্চলে বসবাস করলে সহজেই listening n speaking পদ্ধতিতে সে অঞ্চলের আরবি ভাষা আয়ত্তে চলে আসে। এজন্য কোন ধরাবাঁধা নিয়ম শিখতে হয় না। কিন্তু এক অঞ্চলের ভাষা আরেক অঞ্চলের মানুষের বোধগম্য নয়।

শুদ্ধ আরবি (الفصحى) : প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রমিত আরবি হচ্ছে( الفصحى) ফুসহা। ফুসহা দুই প্রকার, ধ্রুপদী আরবী ( classical arabic) ও আধুনিক আরবী ( Modern standard arabic - MSA)।
আধুনিক আরবী ( MSA) : বই পুস্তক, কলাম, খবরের কাগজ, বক্তব্য, ভাষণ, সাহিত্যচর্চা, বিজ্ঞানচর্চা, টেলিভিশন, রেডিও ও সকল প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আধুনিক আরবি ভাষায় করা হয়। আরবী ভাষাভাষী দেশসমূহের মাঝে জাতিগত ভিন্নতা, আঞ্চলিক ভাষার বৈষম্য থাকলেও আধুনিক আরবি ভাষা সকল আরবদের একসূত্রে গাঁথে। বিশ্বের যে কোন ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূলত আধুনিক আরবী শিখানো হয়। Listening & Speaking method এর পাশাপাশি আধুনিক আরবি শিখার জন্য Reading & Writing method ও অপরিহার্য।
ধ্রুপদী আরবী (Classical arabic): ধ্রুপদী অর্থ অভিজাত বা সম্ভান্ত্র। ধ্রুপদী ভাষা বলতে এমন সব ভাষাকে বোঝায় যেগুলি অত্যন্ত প্রাচীন (আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বা তারও বেশি বছর পুরনো), যাদের একটি বৃহৎ ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ প্রাচীন সাহিত্য আছে, এবং যাদের প্রাচীন সাহিত্যের ঐতিহ্যটি অপর কোন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের পরম্পরায় নয়, বরং স্বাধীন ও স্বাবলম্বীভাবে, গড়ে উঠেছিল। অর্থাৎ কোন ভাষার আদি রূপ হচ্ছে ধ্রুপদী রূপ । প্রাচীন বেদুঈনদের ব্যবহৃত আরবী হচ্ছে ধ্রুপদী আরবী। বর্তমানে প্রমিত রূপটি ধ্রুপদী আরবির অধিক নিকটবর্তী। অগণিত ভাষার ধ্রুপদী রূপ আজ বিলুপ্ত। যার ফলে প্রতিনিয়ত বিদেশি ভাষার প্রভাবের ফলে যে কোন ভাষা তার মূলরূপ হারিয়ে ফেলে। এতে করে এক সময় সে ভাষার আর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়না। এমন করেই পৃথিবী থেকে বহু ভাষার আজ বিলীন হয়ে গেছে । খুব কম ভাষায় ধ্রুপদী রূপ পাওয়া যায় তার মধ্যে আরবি একটি।

আল কোরআন মূলত ধ্রুপদী আরবীতে অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআনের বদৌলতে আরবির ধ্রুপদী রূপ আজও সগৌরবে টিকে আছে এবং থাকবে। ধ্রুপদী ভাষার পাশাপাশি কোরআন পরিপূর্ণ অলঙ্কারশাস্ত্রে। অলঙ্কারশাস্ত্র হচ্ছে একটি কৌশল যা কোন বিষয় বা বক্তৃতা বা মনোভাবকে শ্রোতা বা পাঠকদের প্রভাবিত কার জন্য সুস্পষ্ট, আকর্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণামূলকভাবে উপস্থাপন করে। তাই এটি ভাষার শৈলী ও সৌন্দর্য বিষয়ক সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। উপযুক্ত শব্দ চয়ন ভাষাশৈলীর একটি বিশেষ গুণ। এটি হতে পারে, আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক, আক্ষরিক বা রূপক, সরল বা অভিজাত, প্রাঞ্জল বা গম্ভীর। বিষয়বস্তুর ধরন ও তাৎপর্য মোতাবেক যথোপযুক্ত শব্দ চয়ন অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত অলঙ্কারে সুস্পষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর আবির্ভাবের সময় ও তার পূর্বে আরব জাতি ভাষা ও সাহিত্যের আলঙ্কারিকতায় একক কৃত্বিতের অধিকারী ছিল। তারা এত অনন্য ভাষাশৈলীর অধিকারী ছিল যে, তাদের মতে অনারবরা ছিল "আজমী" বা বাকশক্তিহীন, সোজা কথায় বোবা। আরবদের বেদুঈন ও যাযাবরী অকৃত্রিম শব্দধ্বনি শহুরে অলঙ্কারপূর্ন ভাষার চাইতেও উন্নততর ছিল। কুরআন এমন একটি গ্রন্থ, যার আয়াতসমূহে রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গভীর মর্ম। বাস্তব ও রূপকের সমাহার। যার সুরাগুলোর প্রারম্ভ ও পরিসমাপ্তির সৌন্দর্যের নজির দূর্লভ, যার বিন্যাসরীতি সুসমন্বিত।এর শব্দাবলী ব্যাপক অর্থবোধক। কুরআনের আলোকিকতা হলো এর অনন্য রচনাশৈলী। কুরআনের গদ্য ও পদ্যের মধ্যবর্তী এমন একটি সুন্দর চিত্তাকর্ষক বাক্য রীতির অনুসরণ করা হয়েছে, যা ছিল আরবের ভাষাবিদদের সম্পূর্ণরূপে চিন্তা বহির্ভূত। কুরআনে যেভাবে ছেদ, অন্তমীল ও চলমান গতি অনুসরণ করা হয়েছে যেভাবে কোন কিছু বর্ণনা শুরু করা হয়েছে, সমাপ্তি টানা হয়েছে এবং যেভাবে একটি আয়াতকে অপর আয়াত হতে পৃথক করা হয়েছে তা আসলেই অলৌকিকতার অন্তর্ভুক্ত।
আল্লামা জালাল উদ্দিন আস্ সুয়ূতী (র) তার আল-ইতকান গ্রন্থে লিখেছেন : 'কুরআনের অলৌকিকতা এই যে, এতে ভাষা সাবলীলতা ও অলংকারিকতা সর্বত্র সমানভাবে বিদ্যমান। গোটা কুরআন খুঁজে এমন একটি আয়াত কোথাও পাওয়া যাবে না যার ভাষা সাবলীল ও আলঙ্কারিক নয়।পক্ষান্তরে কোন মানুষের পক্ষে কখনো এমনটি সম্ভবপর নয় যে, তার রচনা বা বক্তব্যে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সর্বত্র ভাষার সৌকুমার্য , সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতা সমানভাবে বর্তমান।'
কুরআনের উঁচু মানের সাহিত্যিক ব্যঞ্জনা, উপমা, উদাহরণ এক কথায় অতুলনীয়। চিত্তাকর্ষক শব্দ , অভিনব বাচনভঙ্গি, সুন্দর বাক্য বিন্যাস যা কৃতিমতা ও শ্রুতিকটু ভাব থেকে মুক্ত। ড. তাহা হুসাইনের একটি বক্তব্য প্রণিধান যোগ্য। তিনি বলেন, "নিঃসন্দেহে কোরআন আরবি সাহিত্যের আদি গ্রন্থ, কিন্তু তোমরা হয়তো এও জানো যে, কোরআন পদ্য নয় আবার গদ্য নয়, কোরআন কোরআনই,একে অন্য কোন নাম দেয়া যায় না। "
কুরআনের রচনারীতি, বিষয়বস্তুর অলৌকিকতা ও পালনীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণের ফলশ্রুতি হিসেবে সাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে যা ই'জাযুল কুরআন বা কুরআনের আলংকারিক অলৌকিকতা হিসেবে স্বীকৃত। খ্রিস্টীয় নবম ও দশম শতাব্দীতে এ শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে এর উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার কালামের মূল অলৌকিকতা প্রধানত علم البلاغة বা আরবী অলঙ্কার বিজ্ঞানে নিহিত। সুতরাং علم البلاغة এর যথার্থ জ্ঞান ও রুচি অর্জন ছাড়া কোরআনের অলৌকিকতা অনুধাবণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় । আরবি ভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা ব্যতিত অনুবাদের মাধ্যমে তার আলঙ্কারিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব ।

English writer Karen Armstrong এর মতে, 'শেক্সপিয়ার এর সবচেয়ে সুন্দর পঙক্তিগুলো অন্য ভাষায় খুবই নগন্য শোনা যায় কারণ কবিতার ক্ষেত্রে কিঞ্চিৎ বিদেশি বাগধারায় প্রকাশ করা যায়। আর আরবী হচ্ছে এমন একটি ভাষা যা অনুবাদ করা বেশ কঠিন। আরবদের মতে, অন্য ভাষায় অনূদিত মূল আরবি কবিতা ও গল্পগুলো তাদের কাছ অপরিচিত মনে হয়। আরবি ভাষায় এমন কিছু আছে যা অন্য কোন বাগধারা অসংলগ্ন বোধ হয় এমনকি আরবী রাজনীতিবিদদের বক্তৃতা গুলিকে একটি ইংরেজি অনুবাদে কৃত্রিম এবং বিদেশী মনে হয়। এটা যদি পার্থিব কথোপকথন বা প্রচলিত সাহিত্যের সাধারণ আরবীতে সত্য হয়, তাহলে এটি কুরআনের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ সত্য যা অত্যন্ত জটিল, প্রগাঢ় ও সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা। এমনকি আরবরা যারা সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, তারা বলে যে তারা যখন ইংরেজি অনুবাদে কোরআন পড়ে তখন তাদের মনে হয় তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন বই পড়ছে।'



আরবি ভাষার স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা তাকে অন্যান্য ভাষা হতে পৃথক করে।

১. الإعراب ( শব্দের শেষে বর্ণের স্বরধ্বনি নিরূপণ) :
আরবি ভাষায় ই'রাব অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এটি প্রাচীন সভ্যতার ভাষাসমূহের একটি বৈশিষ্ট্য। ই'রাবের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাক্যে শব্দের অবস্থান সনাক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য, বিধেয়, কর্তা, কর্ম নাকি অন্য কিছু তা নির্ধারণ করা হয়। ভাষাবিদ ইবনে ফারিস এর মতে,
" ই'রাব হচ্ছে কোন শব্দের সমতুল্য অর্থসমূহের মধ্যে পার্থক্যকারী, এটি বক্তার অনুভূতি , চিন্তা ও অর্থের সামগ্রিকতা বিবেচনা সাপেক্ষে তার উদ্দেশ্য ও অর্থের মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট করে। "

২. الاشتقاق ( শব্দের ব্যুৎপত্তি) :
শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে অন্যতম দুর্লভ বৈশিষ্ট্য যেখানে আরবি ভাষা বিশ্বের সকল ভাষার উপর শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। এর ফলে কোন শব্দরূপ তার শব্দমূলের দিকে ফিরে. যার একটি নির্দেশিত অর্থ রয়েছে। এটি হচ্ছে মূল উপাদান যা হতে বিভিন্ন শব্দ ও অর্থের শাখা বের হয়। যেমন, কর্তা বিশেষ্য, কর্ম বিশেষ্য, ক্রিয়া, বিশেষণ ছাড়াও আরো নানা শাখা। সাধারণত আরবী শব্দমূল তিন বর্ণ থেকে শুরু হয়, এবং চার থেকে পাঁচ বর্ণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শব্দ মূল س ل م হতে তৈরি হয়েছে سلم ، سلّم. سالم، مسلم، سلمان، سلمی ،سلامة। উল্লেখ্য সব শব্দ তাদের ব্যাখ্যায় "নিরাপত্তা" অর্থ গ্রহণ করে। তদ্রূপ শব্দমূল " سمل" যার রূপান্তর হয় سلم، مسل، ملس، لمس ،لسم, যেগুলো অর্থ কোন না কোনভাবে বন্ধুত্ব ও সহৃদয়তা দাঁড়ায়। একটি শব্দমূল হতে হাজারখানেক শব্দ তৈরি করা যায়।

৩. المترادفات ( সমার্থক শব্দ) :
আরবি ভাষায় সমার্থক শব্দের সংখ্যা প্রচুর। এ প্রতিশব্দ / সমার্থক শব্দগুলো আরবি শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে যার সাথে বিশ্বের অন্য কোন চলমান ভাষার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রতিটি সমার্থক শব্দ সেই বস্তু বা প্রাণীর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি প্রকাশ করে। প্রখ্যাত ভাষাবিদ জুরজি যাইদান এর মতে, " প্রত্যেক ভাষায় সমার্থক শব্দ থাকে, যা কতিপয় শব্দ একই অর্থ বহন করে, কিন্তু আরবরা এক্ষেত্রে বিশ্বের সকল ভাষাকে অতিক্রম করেছে। তাদের ভাষায় বছর শব্দটার জন্য ২৪ টি প্রতিশব্দ রয়েছে, আলোর জন্য ২১ , অন্ধকারের জন্য ৫২ , মধুর জন্য ৮০ , উটের জন্য ২৫৫ , সিংহের জন্য ৩৫০ , মেঘের জন্য ৫০, বৃষ্টির জন্য ৬৪ , পানির জন্য ১৭০ ইত্যাদি কয়েকটি উদাহরণ। আরবরা 'লম্বা ' বিশেষণটি বুঝানোর জন্য ৯১ টি শব্দ ব্যবহার করে, 'খাটো 'বুঝাতে ১৬০ টি, এ ধরনের তালিকা তৈরি বেশ কঠিন। "

৪. الأضداد ( বিরোধার্থক / বিপরীতার্থক শব্দ) :
একটি শব্দ দুটি বিপরীতমুখী অর্থ বহন করে থাকে, যা আরবি ভাষার ব্যতিক্রমধর্মী একটি বৈশিষ্ট্য। যেমন, আরবরা الصريم শব্দটি দিন - রাত উভয়ের জন্য ব্যবহার করে, তদ্রূপ الصارح সাহায্যকারী - সাহায্যপ্রার্থী উভয়কেই বুঝায়, السدفة বুঝায় অন্ধকার - আলো, الزوج নর - নারী, البسل হালাল - হারাম ،الجون সাদা - কালো ইত্যাদি।

৫. الأصوات (স্বর / ধ্বনি) :
আরবি ভাষা তার ধ্বনিগত পরিসরে অলৌকিকতা ও পরিপূর্ণতার শিখরে পৌঁছেছে। আরবি ভাষা তার শব্দতত্ত্ববিষয়ক পরিবর্তন সত্বেও ধ্বনিগত উপাদানগুলো সংরক্ষণে সেমেটিক ভাষাসমূহের মধ্যে একক অধিকার অর্জন করেছে । এই উপাদানগুলো হলো ধ্বনি উচ্চারণের স্থান বা মাখরাজ এবং সেগুলোর সুন্দর গুণাবলি । আরবি শব্দের বৈশিষ্ট্য এমন যে, শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝার জন্য বক্তার স্বরের দিকে বা উচ্চারণে লক্ষ্য রাখতে হয়।

৬. مفردات (শব্দভাণ্ডার) :
শব্দভান্ডারের দিক দিয়ে আরবি ভাষা সবচেয়ে সমৃদ্ধ। যেখানে শব্দকোষে ইংরেজি শব্দ আছে ৫ লাখ, ফরাসি ১ লাখ ৫০ হাজার, রাশিয়ান ১ লাখ ৩০ হাজার, সেখানে আরবি ভাষায় শব্দ সংখ্যা আছে ১২,৩ মিলিয়ন যার ফলে আরবি ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সবচেয়ে ধনী বলা হয়। বিখ্যাত আরবি শব্দকোষ লিসানুল আরব এ মাদ্দাহভিত্তিক শব্দ বা শুধুমাত্র শব্দমূল রয়েছে ৮০ হাজার, যেখান থেকে আরো বহু শব্দ বের হয়।

৭. فصاحة ( ভাষার বিশুদ্ধতা / বাচনভঙ্গি )
আরবি ভাষার বাচনভঙ্গি ভাষাগতভাবে ত্রুটিমুক্ত, যেমনঃ শব্দের মাঝে অসঙ্গতি, শব্দ গঠনে অপারগতা, শব্দগত জটিলতা, অর্থগত জটিলতা ইত্যাদি থেকে মুক্ত। আরবি ভাষা হচ্ছে কোন পরিস্থিতি ও বর্ণনা প্রকাশের সবচেয়ে নির্ভুল একটি ভাষা। আরবি শব্দভাণ্ডার এত বিশাল যে শব্দের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে মনের ভাব ও মন্তব্য সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও সর্বোত্তমভাবে ব্যক্ত করা যায়, যা অন্য ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা দুষ্কর।

৮. التعريب ( আরবিকরণ) :
আরবিকরণ হল একটি বিদেশি শব্দকে আরবি মিটার ও কাঠামো অনুপাতে তৈরি করার প্রক্রিয়া। বিদেশি শব্দকে আরবি বর্ণে রূপান্তর করে শব্দ তৈরি করা হয় যাতে আরবরা তাদের মত করে উচ্চারণ করতে পারে। আরবি ভাষার এক বিশেষ যোগ্যতা আছে বিদেশি শব্দকে বর্ণনা করার এবং নিজস্ব ছাঁচে ঢেলে আরবিকরণ করে গঠন করার, যা আরবি ভাষার এক ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য। যেমন: পাকিস্তান > বাকিস্তান, চীন > সীন।

৯. لغة شاعر: ( কাব্যিক ভাষা) :
আরবি একটি কাব্যিক ভাষা, যা শ্রোতার মনে প্রভাবশালী অনুভূতি রেখে যায় এবং বিভিন্ন কাব্যিক চিত্রের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়, যেমন: উপমা, রূপক, সঙ্কেত, লক্ষণা, সংক্ষেপণ, অধিক প্রতিশব্দের ব্যবহার, শব্দের গাম্ভীর্যতা, কমনীয়তা, সূক্ষ্মতা, অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অক্ষর ও শব্দের উচ্চারণ ইত্যাদি।

১০. الثبات ( স্থিতিশীলতা) :
আরবি ভাষার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার স্থিতিশীলতা। আরবি ভাষা যুগ যুগ জুড়ে তার স্থিতিশীলতা দ্বারা স্বতন্ত্র স্থান বজায় রেখেছে। এটি সকল সময় ও স্থানের জন্য যথোপযুক্ত। যার ফলে আরবরা এখনও হাজার বছর পুরনো সাহিত্য পড়তে ও বুঝতে সক্ষম যা অন্য ভাষায় অসম্ভব।

একজন মুসলিমের জীবনে আরবী ভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. ইসরার আহমেদ এর মতে ( রাহিমাহুল্লাহ), কোরআন বুঝার জন্য প্রয়োজনীয় আরবি ভাষা শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কোরআনের ভাষাকে আল্লাহ সহজ করেছেন যাতে মানুষ স্মরণ করতে পারে, উল্লেখ করতে পারে, উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপি কোরআনের অসংখ্য হাফেজ, আলেম এর জ্বলন্ত প্রমান। সুরা ক্বামারে ১৭, ২২,৩২,৪০ নম্বর চারটি আয়াতে আল্লাহ একই কথা উল্লেখ করেছেন।



আল্লাহ তায়ালা বিশ্বের এত বৈচিত্র্যময় ভাষার মধ্য থেকে আরবীকে বেছে নিয়েছেন কোরআন নাযিল করার জন্য এবং কোরআনের আয়াতেই আরবি ভাষায় কোরআন নাযিলের মর্ম উল্লেখ করেছেন।

সুরা শুআরা: ১৯৫
بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّۢ مُّبِينٍۢ ١٩٥

In a clear Arabic language.
— Saheeh International

অবতীর্ণ করা হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
_ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুরা ইউসুফ : ২
إِنَّآ أَنزَلْنَـٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّۭا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ٢

Indeed, We have sent it down as an Arabic Qur’ān that you might understand.
— Saheeh International
নিশ্চয় আমরা এটা নাযিল করেছি কুরআন হিসেবে আরবি ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝতে পারো ।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

সুরা যুমার : ২৮
قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍۢ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ٢٨

[It is] an Arabic Qur’ān, without any deviance that they might become righteous.
— Saheeh International

বক্রতামুক্ত আরবী কুরআন। যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।
— Rawai Al-bayan

সুরা হা মীম সিজদাহ্ : ৩
كِتَـٰبٌۭ فُصِّلَتْ ءَايَـٰتُهُۥ قُرْءَانًا عَرَبِيًّۭا لِّقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ٣

A Book whose verses have been detailed, an Arabic Qur’ān for a people who know,
— Saheeh International

এক কিতাব, যার আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাকৃত, আরবী ভাষার কুরআন, জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের জন্য।
— Taisirul Quran

সুরা হা মীম সিজদাহ্ :৪৪
وَلَوْ جَعَلْنَـٰهُ قُرْءَانًا أَعْجَمِيًّۭا لَّقَالُوا۟ لَوْلَا فُصِّلَتْ ءَايَـٰتُهُۥٓ ۖ ءَا۬عْجَمِىٌّۭ وَعَرَبِىٌّۭ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ هُدًۭى وَشِفَآءٌۭ ۖ وَٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرٌۭ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍۭ بَعِيدٍۢ ٤٤

And if We had made it a foreign [i.e., non-Arabic] Qur’ān, they would have said, "Why are its verses not explained in detail [in our language]? Is it a foreign [recitation] and an Arab [messenger]?" Say, "It is, for those who believe, a guidance and cure." And those who do not believe - in their ears is deafness, and it is upon them blindness. Those are being called from a distant place.
— Saheeh International

আর যদি আমরা এটাকে অনারবী ভাষায় কুরআন তবে তারা অবশ্যই বলত, 'এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বিবৃত হয়নি কেন? ভাষা অনারবীয়, অথচ রাসূল আরবীয়! বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও আরোগ্য।' আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন এদের (অন্তরের) উপর অন্ধত্ব তৈরী করবে। তাদেরকেই ডাকা হবে দূরবর্তী স্থান থেকে।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria






পরিশেষে একটি উপমা দিয়ে শেষ করতে চাই, আল্লাহ তায়া’লার অসীম কুদরতের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে সমুদ্র জগৎ। এর যত গভীরে যাওয়া যায় ততই যেন রহস্য উন্মোচন করা যায়। হরেক রকমের প্রাণী ও উদ্ভিদ ছাড়াও রয়েছে অফুরন্ত রত্নভান্ডার। অতলস্পর্শী সমুদ্র বক্ষে আরও লুকিয়ে আছে হাজার হাজার বছরের পুরনো ধ্বংসাবশেষ। যেগুলোর রহস্য ভেদ করলে খুঁজে পাওয়া যায় বিশাল বিশাল সভ্যতার ইতিহাস। বৈচিত্র্যময় এই সমুদ্র পৃষ্ঠে বিচরণ করে মানুষ প্রতিনিয়ত তার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । কেউ সমুদ্রের পেট চিড়ে মণি-মুক্তা নিয়ে আসে, কেউ আবার সিন্ধু তালাশ করে, কেউ বা বিশাল প্রাণীজগত নিয়ে গবেষণা করে, কেউ বা পড়ে থাকে বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদজগৎ নিয়ে। কেউ আবার সমুদ্রে পৃষ্ঠে বিচরণ করে মৎস্য শিকার করে, কেউ যানবাহন পারাপার করে, কেউ লবন আহরণ করে, কেউ তীরে বসে সমুদ্রের তরঙ্গ অবলোকন করে, কেউ বা কবিতার শব্দ খুঁজে বেড়ায়। দিনের আলোয় সমুদ্র পৃষ্ঠের এক রূপ দেখা যায় আবার জোছনার আলোয় আরও চিত্তাকর্ষক রূপ ধারণ করে।দৃষ্টি সীমার বাইরে থাকলেও খানিকটা দূর থেকেই সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাওয়া যায়। কতইনা বৈচিত্র্যময় এই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য্য। তেমনি বৈচিত্র্যময় তাতে বিচরণকারীগণ। একজনের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় একযোগে এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির সকল রহস্য উদঘাটন করা। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই সমুদ্রজগতের চেয়েও বৈচিত্র্যময় ও রহস্যময় নিদর্শন হচ্ছে আল্লাহর তায়া’লার প্রেরিত আল কোরআন, যার গভীরতা ও বিস্তৃতির তুলনায় সমুদ্রের বিশালতা অতিক্ষুদ্র, যেটাকে আমরা নিছক পবিত্র বই হিসাবে সসম্মানে আলমারির উঁচু তাকে বা শোকেসে শোপিসের মত সাজিয়ে রাখি। কোরআনের প্রতি আমাদের গাফিলতির অভিযোগ স্বয়ং নবীজী ﷺ আল্লাহর নিকট করবেন।



وَقَالَ ٱلرَّسُولُ يَـٰرَبِّ إِنَّ قَوْمِى ٱتَّخَذُوا۟ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ مَهْجُورًۭا ٣٠

And the Messenger has said, "O my Lord, indeed my people have taken this Qur’ān as [a thing] abandoned."
— Saheeh International

আর রাসূল বলবে, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমার কওম এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে। (২৫:৩০)
— Rawai Al-bayan










তথ্যসূত্রঃ

১. القراءة الميسرة
২. خصائص اللغة العربية : موضوع
৩. خصائص اللغة العربية : Darul Uloom Deoband
৪. Oriental gems in English crown
৫. Fifteen poems
৬. Muhammad : A Biography of the Prophet
৭. আল কুরআনুল কারীমের আলংকারিক বৈশিষ্ট্য
৮. কালের কণ্ঠ
৯.মুসলিম বাংলা অ্যাপ
১০.Quran.com
১১. Wikipedia

বিশেষ কৃতজ্ঞতা : উস্তাদ নোমান আলী খান

ছবি: কাটছাট from google
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১২:০১
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাছ না থাকলে আপনিও টিকবেন না

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:২০

আমাদের বাড়ির ঠিক সামনেই একটা বড় কৃষ্ণচুড়া গাছ ছিল । বিশাল বড় সেই গাছ আমাদের বাড়ির ছাদের অর্ধেকটাই ছায়া দিয়ে রাখত । আর বাড়ির পেছনের দিকে ছিল একটা বড় বাঁশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাছ চাষে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব ও মাছ চাষীর করণীয়

লিখেছেন সুদীপ কুমার, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৫:৫৩


পৃথিবীর উষ্ণায়ন প্রকৃতি এবং আমাদের জীবন যাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।আমরা যদি স্বাদুপানির মাছ চাষীর দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখবো তাদের মাছ উৎপাদন তাপদাহ প্রবাহের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা'র উপর আপডেট দেবেন কেউ।

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:০১






এই বছরের ২১ শে ফেব্রুয়ারী, ব্লগার সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা'র পোষ্ট পড়ে খুবই ভালো লেগেছিলো; আমরা জানি যে, তিনি শারীরিক অসুস্হতাকে কাটিয়ে উঠার প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন; তাঁর দৃঢ় মনোবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ার আলেমগণের সর্ববৃহৎ দল সারা বিশ্বের মুসলিমদের অনুসরনীয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১২:২৩



সূরাঃ ২৯ আনকাবুত, ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৯। যারা আমাদের উদ্দেশ্যে জিহাদ করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়নদের সঙ্গে থাকেন।

সহিহ সুনানে নাসাঈ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহান আল্লাহর সৃষ্ট মানব হিসাবে আত্মপলব্দি। লেখাটি সকল ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মে অবিশ্বাসিদের জন্যও উন্মোক্ত

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৫:২১


১ম অধ্যায়ঃ সকল মানবের আত্মপলব্দি জাগরণে জীবন্ত মুজিযা আল কোরআনের মোহিনী শক্তি

বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম । শুরু করছি পরম করুনাময় আল্লাহর নামে ।

প্রথমেই শোকর গুজার করছি আল্লাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×