somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেকাল একাল

১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কনকনে শীতে দিনাজপুরের গ্রামের বাড়ি এলাম। বাড়িতেও নেট পাচ্ছি। আমেরিকায় ভাইবারে কথা হল। এখন গ্রামেও আছে চল্লিশ টা চ্যানেল সহ ক্যাবল টিভি। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত। তবু এক মিশ্র অনুভূতি।
আগে বাড়িতে এলেই সভ্যতার ভড়ংগুলো সব ঝেড়ে ফেলতাম বা ফেলতে বাধ্য হতাম। শহর থেকে ট্রেনে আসতাম। নির্দ্রিষ্ট স্টেশনে নেমেই গরুর গাড়িতে চড়তে হতো। তখন থেকেই আদিম জীবন, মোষের গাড়িতে হেলতে দুলতে ,হর্নের বদলে গাড়োয়ানের বিচিত্র সব বুলি, হর্ হর্ হট হট- মোষের সাথে মানুষের মত কথাবলা ।পশু হলেও সব ঠিকঠাক বুঝত যেন।
একসময় তৈলতৃষিত চাকার আর্তনাদ ছন্দে ছন্দে অনি:শেষ পথ শেষ হত। বাড়ি আসতে আসতে কখনো সন্ধ্যে হয়ে গেলে হারিকেন হাতে বাবা দাঁড়িয়ে থাকতেন, কদমবুসি করেই মা'র কাছে দৌড়। আদর নিয়েই বলতাম- 'মা ভোগ লেগেছে। সারা দিন কিছু খাইনি।
রাজ্যের খিদে নিয়ে রান্নাঘরেই বসে মা'র পোলাওযের শেষ রেসিপি বেরেস্তা -ভাঁজা পেয়াজের সাথে চিনি-সাবার হতো। তারপর খাবার ঘরের পাশেই দাওয়ায় মাদুর বিছিয়ে হারিকেনের মৃদু আলোয় সবাই মিলে একসাথে, মা বাদে-,খেতে বসা। বাড়ির কুকুর আর বিড়ালটাও পাশে বসে খেত এঁটোকাঁটা। মা খেতে বসতো তাদেরও পরে।
ততক্ষনে বড় ঘরের পেছনের বিশাল 'ঠাকুরভোগ' আমগাছের ফোকরের ভেতর থেকে ডেকে উঠতো লক্ষীপেঁচা, প্রথম প্রহরের ডাক। ওরা ঠিক ঘড়ির কাঁটার মত চার প্রহরে ডাকে। আর আমরা উঠোনের মধ্যেখানে জ্বালানো আগুন পোহান শেষে শরীরটা তাতিয়ে লেপের ভেতর।
তখন গ্রামে রেডিও ছিলনা, খবরের কাগজ না, অনুরোধের আসর শোনাও না। একবার 'বিনাকা গীতমালা' শোনার জন্য, পাড়ার চেয়ারম্যান এর ই-কাউন্সিলের সরকারি রেডিও এনে কত বিচিত্র কায়দায় রেডিও সিলোন (তখনও শ্রীলঙ্কা চালু হয় নি) ধরার চেষ্টা। তারপর যখন ঠিক ঠিক রেডিও ষ্টেশনটা পেলাম,আমিন সায়ানি কেবল বলা শুরু করছেন- ঠিক তখনই রেডিও টা ফেরত দিতে হয়েছিল,আর শোনা হয় নি। সেদিন গান শুনতে না পারার কষ্টটা বহুদিন ছিল।
আজ বাড়িতে এলাম গাড়িতে, একা। বাড়ির পাশ দিয়েই ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের পাকা রাস্তা। বাড়িতে বিজলি বাতি। হারিকেন হাতে বাবা নেই, মা'র রান্নাঘরটা ফাঁকা, টেবিলচেয়ারে বসে খাচ্ছি, টিভিতে জি-বাঙলার সারেগামাপা । পিছনের আমগাছটা নেই, লক্ষীপেঁচাগুলোও কোথায় যেন উধাও।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১১
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×