somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম শ্রেণীর শরীয়তপুর পৌরসভার নাগরিক হিসাবে গর্বিত ---জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতা, ভাঙ্গা রাস্তা ঘাট, কি সেবা আর বাকি!!

০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে যাত্রা শুরু করে আমাদের শরীয়তপুর পৌরসভা। আস্তে আস্তে ডিমোশন পেয়ে দ্বিতীয় থেকে আজ প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নেমে এসেছে শরীয়তপুর পৌরসভা! এক এর চেয়ে নিরানব্বই অনেক বড় সংখ্যাতত্বের ভিত্তিতে! আবার ক্লাসে নিরানব্বই পাওয়া ছাত্রের রোল হয় এক আর এক নম্বর পাওয়া ছাত্রের রোল হয় একশ বিশ! আসলে সংখ্যার ব্যবহারে রয়েছে নানা জটিলতা। আমরা যারা সাধারণ আম জনতা এসব সংখ্যাতত্বের জটিলতা খুব একটা বুঝি না। ক্লাসের এক রোল যার সে ভাল ছাত্র, প্রথম শ্রেণী পাওয়া ছাত্রকে আমরা বলি মেধাবী আর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নাকি তৃতীয় শ্রেণীর চাইতে ভাল। কিভাবে যে এর মূল্যায়ন করে সেটাই আমার মত আধা পড়ার মাথায় ঢোকে না!

আমি শরীয়তপুর পৌরসভার একজন বাসিন্দা। আমার বসবাস শরীয়তপুর পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার প্রথম নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসাবে নিজেকে গর্বিত মনে করতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে সুযোগ সুবিধা দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্লসে পরীক্ষার খাতায় এক নাম্বার পাওয়া ছাত্রের মত আমিও এক নাম্বার পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসাবে মূল্যায়িত ও সুযোগ সুবিধা ভোগী।
পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে আমরা আদর করে বলি পৌর পিতা। এই পৌর পিতার নয় ঘর মানে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে সংসার। নয় সংসারে তাহার রয়েছে অসংখ্য সন্তান! এই সন্তানদের দেখাশোনা করবে বলেই আমরা তাকে পিতার আসনে বসাই। শরীয়তপুর পৌরসভার জন্ম লগ্ন থেকে একাধিক চেয়ারম্যান, মেয়র দেখার সুযোগ হয়েছে। আমাদের তো আসলে মুড়িতেও (উরুমে) ভরে না!! পূর্বের ওল্ড ম্যান চেয়ারম্যান, মেয়ররা এসে যা করেছে তাতে আমাদের খুশি করতে পারেনি। বৃদ্ধ নগর পিতাদের হয়তো দৃষ্টি শক্তি কমছিল, কারো সুযোগ কম ছিল, কেউ লোভি ছিল, কারো দৃষ্টি শক্তি কম ছিল, এমন নানা কারনে আমাদের ভালভাবে দেখভাল করতে পারেনি। সম্প্রতি আমাদের পৌরসভায় এসেছে এক ইয়াং এনার্জিটিক মেয়র বা নগর পিতা। আমরা সবাই খুশিতে আটখানা হয়ে গেছি। এবার অন্তত একটা পরিবর্তন আসবে! আধুনিক যুগের ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশুনা করে আসা ইয়াং এনার্জিটিক মুক্ত মনা ডিজিটাল চিন্তাধারার মেয়র পেয়ে বেশ পুলকিত আমরা। ভেবেছিলাম নগরির জঞ্জাল দেখে এ মেয়র নিশ্চয়ই নেমে পড়বে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায়, পৌরসভার আনাচে কানাচে হেটে বেড়াবে, নাগরিকদের সুখ দুঃখ দেখবে নিজের চোখে। আর নিজেকে একজন নাগরিকের স্থানে বিবেচনা করে নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করবে। সমস্যার সমাধানে কাউকে না পেলে নিজের পরিষদের কাউন্সিলরদের নিয়ে চেষ্টা করবে। তার পরে কতটুকু করা যায়, কতটুকু করতে পারলো তার মূল্যায়ন করবে জনগন। আসলে মূল্যায়ন করার সুযোগই বা কে দেয়, মূল্যায়ন তারা চায়ইবা কতটুকু?
আমি আগেই বলেছি আমি থাকি শরীয়তপুর পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডে নাগরিক। আমি আমার এলাকার নাগরিক সুবিধাদির কথাই আজ শোনাতে চাই! আমিতো আর পৌর পিতার মত ঘুরে ঘুরে নয় ঘরে লালিত, বসবাসরত সন্তানদের খবর নিতে পারি না। পালং মডেল থানার সামনে দিয়ে একটা রাস্তা চলেগেছে কোতোয়াল বাড়ি পর্যন্ত। রাস্তাটাকে কোতোয়াল বাড়ি রোড বললেই সবাই চিনে। গ্রামের নামের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আশ পাশের অনেকে নিজেদের এলাকার নাম কেউ শান্তি নগর, কেউ নিরালা, কেউ আরালা নানান নাম রেখেছে। আমরা থেকে গেছি সেই আদী নামেই। আমরা এখনও পালংয়েই আছি। পালং বাজার সড়ক থেকে থানার সামনে দিয়ে যে রাস্তাটা পূর্ব দিকে ঢুকে গেছে সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকলে কোতোয়াল বাড়ি হয়ে কালিখোলা পর্যন্ত ওটাকে রাস্তা বললে ভুল হবে। রাস্তা এতটাই খানাখন্দে ভরা যে রিক্সাওয়ালারা এখন আর আমাদের এলাকায় যেতে চায় না, আর গেলেও ভাড়া চার গুন নেয়। একটা ভাড়া নেয় যাত্রীর আর বাকী তিনগুন ভাড়া নেয় ভাঙ্গা রাস্তায় রিক্সার যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরন বাবদ। কিন্তু কি আর করা? যেতে যখন হবেই তো দিতেও তখন হবে। আর রিক্সা চালকদেরই বা কি দোষ! তারা সারাদিন কতটাকাই বা আয় করে? রিক্সার যে ক্ষতি হয় তাতো আর মেয়র মহোদয় দিবে না!! রাস্তাটার প্রয়াত হারুন বেপারীর সাহেবের বাড়ির সামনে বিশাল গর্ত। পনের মিনিট বৃষ্টি হলে গর্তে এক গিড়া পানি জমে যায়। তার পর একটু এগুলে মসজিদ ও এডভোকেট খান মোঃ আসাদ আলী সাহেবের বাড়ি। এখানে সারা বছর পানি জমে থাকে তাতে বৃষ্টি লাগে না। এডভোকেট খান মোঃ আসাদ আলী সাহেবের বাড়ি পার হয়ে মোড় থেকে শুরু যে রাস্তাটুকু আমি তার নাম দিয়েছি বিছানার কান্দি। সিলেটের বিছানা কান্দির অপরূপ দৃশ্য আমাদের জানা আছে। বিছানো পাথরের উপর দিয়ে পরিস্কার পানির প্রবাহ ঝির ঝির করে বয়ে চলেছে। সেটা দেখার জন্য অনেক পর্যটকই যায় টাকা খরচ করে। আমি যাইনি, বাড়ির কাছে বিছানা কান্দি থাকলে টাকা খরচ করে যে যায়? রাস্তা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে হাটু পানি জমে গেছে, দয়াপরবশ হয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর কিছু রাবিশ টাইপের ইটের আধলা ফেলেছিল। সেই ইটের আধলা পানির নিচে ডুবে আছে বারো মাসের প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত। এ অবস্থা চলছে আমার বাড়ি পর্যন্ত। এক ঘন্টা যদি মনোযোগ দিয়ে বৃষ্ট পড়ে তবে মটর সাইকেলের ইঞ্চিন পর্যন্ত ডুবে যায়। চলতে চলতে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, রিক্সার চাকা ফেসে গিয়ে উল্টে যায়, মানুষে হাত পা ভাঙ্গে, সুটেট বুটেট হয়ে বেরহওয়া ব্যক্তির জুতার ভিতর পানি ঢোকে। আমি একাধিক দিন ভিজা জুতা মোজা পায়ে দিয়ে কোর্টে এসেছি। ভিজা জুতা মোজা পায়ে শুকিয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এ রাস্তাটা যদি কেটে দিত তাহলে আমরা কোসা নৌকা কিনে নিতাম। বর্তমান অবস্থা নৌকা চলার মতও না আবার পায়ে হাটার মতও না! কোতোয়াল বাড়ির ব্রিজ থেকে কালিখোলার রাস্তা এতটাই খারাপ যে রিক্সা তো দুরের কথা হেটেও ওয়ায়া যায়না। পিচ ভেঙ্গে সুরকি খসে মাটি পর্যন্ত বের হয়ে গেছে। তাতেও কোন নজর নেই মেয়র নামের নগর পিতার।
সম্প্রতি আমাদের রাস্তার কাজ ধরবে শুনেছি। কাজের নাকি টেন্ডারও হয়ে গেছে। কাজ পেয়েছেন মেয়র মানে নগর পিতার ভাই। সেই সূত্রে ঠিকাদার আমাদের নগর কাকা!! পিতা যেখানে খেয়াল রাখেন না চাচা সেখানে কি খেয়াল রাখবেন। একদিন বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় দেখি রাস্তার দুধার বেশ পরিস্কার। ঘাসগুলো ছেটেছুটে রেখেছে। রাস্তার দুধারের ইটগুলো দেখা যাচ্ছে। দেখে খুব খুশি লাগলো। আনন্দে মনটা ভরে উঠলো। এবার দুঃখের দিন শেষ!! রাস্তার কাজ ধরবে। তার পরে কয়েকদিন গত হলো। আবার এক সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটা নসিমন ভটভট আওয়াজ করে বাড়ির রাস্তার সামনে দাড়িয়ে আছে। নসিমনের উপর কিছু ইট। সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুশ ইট। আমি ভাবলাম কোন লোক হয়তো বাড়ির কাজ ধরেছে। ইটগুলো রাস্তার উপর না ফেলে একটু পাশে ফেলতে বললে নসিমনের ড্রাইভার ও হেলপার বললে, এগুলো রাস্তার কাজে ব্যবহার হবে, দুএকদিনের মধ্যে চলে যাবে। তার পরেও আমি বললাম বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটা রেখে পাশে রাখো। ওরা আমাকে বললো ঠিক আছে। আমি চলে গেলাম আমার কর্মস্থলে। এসে দেখি বাড়িতে ঢোকার রাস্তা অর্ধেকটা ব্লক করে ইটগুলো স্তুপ করে রেখেছে। রাস্তার স্বার্থে আমি মেনে নিলাম। কদিনই বা লাগবে। সেই ইট আজ তিন মাস ধরে পড়ে আছে আমার রাস্তার উপর। বাড়িতে ঢুকতে বেরুতে বেশ কষ্ট হয়। আর নসিমন চালকদেরই বা কি দোষ। সারা রাস্তার মধ্যে আমার বাড়িতে ঢুকার রাস্তাই আছে শুকনা। আর অন্য কেউ তো বাড়ির সামনে একফুটও জায়গা রাখেনি। কোথায় রাখবে? আসলে বাড়ির সামনে ফাকা জায়গা রাখলেও বিপদ, কেউ কেউ গাড়ি এনে ঘুরায় আমার বাড়ির রাস্তা দিয়ে, কেউ ইট রাখে, কেউ বালি রাখে। যে দেশে ঘি আর তেলের দাম সমান সমান সে দেশে চিকন আলীকে সূলে চড়ানোর পর যদি পাছা দিয়ে সূল ওজন স্বল্পতার কারনে না ঢোকে তবে আমার মত মোটা লোকইতো খুজে বের করবে, কারন পর্যাপ্ত ওজনের কারনে সূল ঢুকবে ভাল!! রাস্তার দুধার পরিস্কার আর কয়েক জায়গায় ইট রাখার কারন হিসাবে পরে লোক মুখে শুনেছি এগুলো করে নাকি প্রাথমিক একটা বিল উঠিয়ে নিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বা নগর চাচা। তবে তা কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা আমি জানিনা, ভগা জানে!!
নগরির জলাবদ্ধতার কথা আর কি বলবো নতুন করে। গত তিন চার বছর যাবত আমাদের ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করেছে। ঘর আর ঘরের আশ পাশের দুএক ফুট ভূমি ছাড়া বাকী সব জমি তলিয়ে আছে পানির নিচে। বর্ষা আসে বর্ষা যায়, শীত আসে শীত যায় কিন্তু আমাদের এলাকায় পানি এসেছে পানিতো আর যায় না!! বাড়িতে যত গাছ ছিল তার অর্ধেকের বেশি মরে ভুত হয়ে দাড়িয়ে আছে। বাকী যা আছে তা মরার অপেক্ষায় দিন গুনছে। আমাদের এলাকার এ জলাবদ্ধতা নিয়ে পৌর পিতার কোন নজর নাই। পিতার নজর যদি এতই ঘোলাটে হয় তবে কি আর করা? এলাকার কোথাও কোন ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান নেই। তাই জোড়াভবনের কোনে সকলে ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। একেতো ভাঙ্গা রাস্তা তার উপর ময়লা ফেলতে ফেলতে মানুষ এখন আর ময়লার স্থানে ময়লা ফেলে না। ময়লা রাস্তার উপরই জমা হয়ে আছে। আসতে যেতে সেকি ফ্লেভার!!! পেটের ভিতর থেকে সব বেরিয়ে আসতে চায়।
এলাকায় আরেক যন্ত্রনা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পালং থানা থেকে কুয়েতি মোড় হয়ে শান্তি নগর দিয়ে তুলাসার স্কুল রোড পর্যন্ত ড্রেন তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন আমাদের পৌর মেয়র। কাজ দিয়েছেন কাকে সেটা বড় কথা নয়, কত বছরের জন্য কাজটা দিয়েছেন সেটা কারো জানা নেই। এত ধীর গতিতে কাজ করা যায় এমন ধারনা আমার আগে কখনো হয়নি। ড্রেনের জন্য রাস্তার ধার খুড়ে রেখেছে তাও বছর হয়ে গেলো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একটা কাজ কত বছরের জন্য দেয়া যায় তার হিসাব জানা দরকার। কিন্তু জেনে কি হবে, মেয়র মহোদয় যে দিয়েছেন, বুঝেই তো দিয়েছেন, তাই না?
সড়ক বাতি পৌর এলাকার একটা সেবার মধ্যেই পড়ে। আমাদের সড়ক আছে হোক সে ভাঙ্গাচোরা কিন্তু বাতি কই? বাতি থাকে না। আসলে বাতিগুলো লোহার তৈরী হলে ভাল হতো, একবার কাটলে আর জোড়া লাগে না। তাই আমাদের এলাকায় সড়ক বাতির ব্যবস্থা আছে কিন্তু বাতি কেটে গেলে মেয়র কি করবেন? এ ফলে আমাদের এলাকায় নির্বিঘেœ চলে চুরি চামারি। আর চোরের কি দোষ, বড় বড় লোক গুলোই যেখানে চুরিতে ব্যস্ত সেখানে এলাকার চোরের দোষ ধরে কি লাভ?
শরীয়তপুর পৌরসভা একটা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। ছোট্ট এ নগরী একটু পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠলে নাগরিকরা কতই না সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাবন করতে পারতো। নগরিতে নেই কোন পরিকল্পনা। যে যার মত স্থাপনা করছে। আর বাড়ির সীমানা প্রাচীর এমন ভাবে করছে যে রাস্তা কেটে দুই ফিট ঢুকতে পারলে কেউ পিছাচ্ছে না। রাস্তা ঘেষে সীমানা প্রাচীর, বাড়ির গেট থেকে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত নিজেরাই ঢালাই করে রাস্তা তৈরী করেছে। এসব দেখার দায়িত্ব কি মেয়র মহোদয়ের? সে কি এতটা নিচে নামতে পারে? তাইতো যার যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে।
আমাদের এলাকার এত সমস্যা দেখার জন্য মেয়র আছে যাকে নগর পিতা বলে ডাকি। কিন্তু সে আমাদের এলাকায় কেন আসেনা? পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে মানিক বন্দোপাধ্যায় লিখেছিলেন “ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।” তবে কি লেখকের এই আক্ষেপপূর্ণ উক্তিটিই আমাদের এলাকার জন্য প্রযোজ্য? নগর পিতা কি ভদ্র পল্লীতেই থাকে? আর ভদ্র পল্লীই বা কোনটা? কোন এলাকায়ইতো তিনি যান বলে মনে হয় না। যে এলাকায় যান সেই এলাকাকেই বা ভদ্র পল্লী বলি কিভাবে। ঢাকা তো ভদ্র পল্লীর মধ্যে পড়ে না! সেখানেও তো বাজে অবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে! ওহ! সেখানে ভদ্র পল্লী আছে, গুলশান, বনানী, বাড়িধারা, ধানমন্ডী, উত্তরা সহ নানান ভদ্র পল্লী আছে!! আমাদের এখানে ঘুরে কি লাভ?
শুরুতে তো ওল্ড-ইয়াং এনার্জিটিক চেয়ারম্যান মেয়র সম্পর্কে অনেক বলেছি। এবার একটি গল্প বলি, এক ব্যক্তি সারা জীবন মানুষের বাড়ি বাড়ি চুরি করেছে। চুরিই ছিল তার পেশা। সেই চোর মৃত্যুশয্যায়। শয্যাপাশে তার সন্তানেরা। চোর তার সন্তানদের ডেকে বললো, বাবারা, আমিতো সারা জীবন মানুষের বাড়ি বাড়ি চুরি করেছি যা তোমরা জান এবং তোমরা আমাকে সব সময় সহযোগীতাও করেছো। আমি আর বেশিক্ষণ মনে হয় তোমাদের মাঝে নাই। সময় হয়ে গেছে। তোমরা দুনিয়ায় এমন কাজ করবে যাতে সবাই আমায় ভাল বলে। এই বলে কিছুক্ষণ পর চোর বেটা মারা গেল। শোক কাটিয়ে উঠে চোরের সন্তানেরা চিন্তা করে, কি এমন কাজ আমরা করতে পারি যাতে বাবাকে মানুষ ভাল বলবে! তারা এতদিন বাবার সাথে চুরিতে সহযোগীতা করত। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন তারাও চুরি করা শুরু করেছে। একদিন ভাইয়েরা মিলে আলোচনায় বসল। সবাই মিলে চিন্তা ভাবনা করলো, কি কাজ করলে মানুষ বাবাকে ভাল বলতে পারে। চিন্তা ভাবনা শেষে এবার তারা চুরি ছেড়ে ডাকাতি শুরু করলো। কয়েক দিন ডাকাতি করার পর মানুষের মুখে বাবা সম্পর্কে ভাল কথা শুনতে না পেয়ে এবার কাজের ধরণ পরিবর্তন করলো। সবাই মিলে ডাকাতি করা শেষে বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে দেয় এবং ঘরে যুবতী মেয়ে, বাড়ির বউদের পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করলো। এবার ফল পেল হাতে নাতে, নগদে! সবাই বলাবলি করছে, আহারে! ওদের বাবা কত ভাল মানুষ ছিল! শুধু চুরি করতো! আর তার ঘরে কি কুলাঙ্গার হয়েছে, ডাকাতি করে, ডাকাতি শেষে ঘরে আগুন দেয়, জুয়ান বুড়া মানে না, ধর্ষন করে। ওদের চাইতে ওদের বাবা অনেক ভাল ছিল।
ভূক্তোভূগি নাগরিক হিসাবে অনেক কথাই লিখলাম। নগর পিতা সমস্যার দিকে নজর দিনেব, আমার কথায় রাগ করবেন না আশা করি। আমি একজন ভূক্তোভোগী নাগরিক। আমার মনে অনেক ক্ষোভ আছে, থাকাটাই স্বাভাবিক। এর সমাধান একটাই, পিতা আসুন আমাদের এলাকায়, দেখুন আমাদের দূর্দশা, সমাধানের পথ খুজুন। আপনার প্রতি আমাদের অনেক প্রত্যাশা। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির একটা সমন্বয় করুন, চেষ্টার পর ব্যর্থ হলে আমরা আপনাকে দোষ দিবো না, ভুলেও যাব না। পিতার চেষ্টার মূল্যায়ন করবো। পিতার ব্যর্থ চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হবো না।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৪৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×