somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন পরাজিত বাবার এক সকাল (একটি সিরিয়াস হাস্যকর নাটক)

১১ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছুটির দিনের ভোরবেলা- মানে সকাল ১১টা। কামরুল সাহেব সোফায় বসে আছেন। মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজ পড়ার চেষ্টায় নিয়োজিত করেছেন নিজেকে। আরেক হাতে চায়ের কাপ। মুখে দিতে ভয় পাচ্ছেন। ভয়েভয়ে মুখে দিয়ে মুখ বিকৃত হয়ে গেল। অনেকটা জেনেশুনে বিষ পান করার মত।

বাবা (কামরুল সাহেব) : ওরে, তোরা আমার সব সম্পত্তি নিয়ে যাস। তবু এরকম চা খাওয়াস নে....
(এরপর পত্রিকার দিকে চোখ বুলাবে আর আপন মনেই বলবে)
পত্রিকা খুললেই খালি আলু আর আলু। আল্লাহই জানে, শেস বয়সে কিনা আলু খেয়েই পটল তুলতে হয়......

(এই সময় কলিং বেল বাজবে...)

বাবা: মা সামিয়া, দেখতো কে আসল।

(সামিয়া হেলতে দুলতে আসবে। কানে গান শোনার যন্ত্র(না)।)
সামিয়া: (বাবার কছে এসে) ঞ্যাঁ পাপস্, কিছু বললে?
বাবা: (বিরক্তি সহকারে) শুনবি কিভাবে, কানে ওটা কি ঢুকিয়েছিস সাতসকালে? (সামিয়া এক কান থেকে খুলবে। আবার কলিং বেল বাজবে).... দেখ, কে আসল বাইরে।

সামিয়া: যাচ্ছি... আর তোমাকে বলেছি না আমাকে স্যাম বলে ডাকতে। উফ বাবা, আধুনিক হও..... (সামিয়া ডান দিকে(দর্শকদের) দরজার দিকে যেতে শুরু করবে)

বাবা: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) কত সখ ছিল মেয়ে ডাক্তারি পড়বে। কানে থাকবে স্টেথেস্কোপ.... আর এখন......

(সামিয়া দরজা খুলবে। বাইরে দাড়িয়ে আছে রাজীব। সামিয়ার বড় ভাই রুহীর বন্ধু। হাতে একটা বই।)
সামিয়া: আররে... রাযিব ভাইয়া.... কেমন আছ?
রাজিব: এইতো। তোর খবর কি?
সামিয়া: আমিতো জোস আছি। তোমারে তো আর দেখাই যায় না। ব্যাপার কি?
রাজিব: (ঠোটে বাঁকা হাসি) আমিতো তোকে প্রায়ই দেখি..... কালকেও তো দেখলাম রমনা পার্কে.... এক ছেলের সাথে...
সামিয়া: ওহ ভাইয়া, কি আর বলব.... একচুয়ালি, ইউ নো, গ্রুপ স্টাডি করতে হয়তো..... তা ডাক দিলে না কেন....
রাজিব: রমনা পার্কে গ্রুপ স্টাডি? ... ভাল ভাল... আসলে ডাকিনি কারন আমি কনফিউজড ছিলাম ওটা তুইই নাকি? গত পরশুও তোকে দেখছি তো.... আরেক ছেলের সাথে। তুই কয়টার সাথে চলাসরে.....
সামিয়া: উফ ভাইয়া.... একজন দিয়ে আজকাল হয় নাকি.....

(বাবা ডাকবে।): সামিয়া, কে আসছে?
সামিয়া: রাজিব ভাইয়া, বাবা।
বাবা: ও রাজিব। ভিতরে নিয়ে আয়।
(রাজিব ভিতরে যেতে যেতে সামিয়ার দিকে ফিরবে হঠাৎ)
রাজিব: আর শোন.... তোর এই হাফ বাঙলা অর্ধেক ইংলিশ কথা আমি একদম সহ্য করতে পারি না। আর কেউ মনে হয় ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে না। (সামিয়া ভেঙচি কাটবে)

রাজিব: আসসালামু আলাইকুম আঙকেল।
বাবা: ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা। তুমি কেমন আছ?
রাজিব: এইতো আঙ্কেল, ভালই। আপনার শরীর কেমন এখন?
বাবা: খুব ভাল আছি বাবা। বেশিদিন বাঁচবো না মনে হয়। তো তোমার বাবার কি অবস্থা এখন?
রাজিব: এখন মোটামোটি ভালই। আমার বোনটা সারাদিনই থাকে বাবার সাথে।
বাবা: হুম। বাবার যত্ন নেবা।
রাজিব: আঙ্কেল, রুহি আছে না?
বাবা: ওতো মনে হয় এখনও ঘুমায়।.... বাবা, রুহিতো পড়াশোনা একদম করে না। ... তুমি তো ভাল ছাত্র। একটু দেইখোতো সমস্যাটা কি।....
রাজিব: জ্বী আঙ্কেল। আজকে ম্যাথ করতেই আসছি....
(রুহি ঘুম জড়ানো চোখে ঢুকবে বামদিকের দরজা দিয়ে)বাবা: ...ঐযে আসছে নবাবজাদা....
রুহি: কিরে দোস্ত.... (হ্যান্ডশেক করবে রাজিবের সাথে)
বাবা: (রাজিবকে) শোন বাবা, ছেলে আমার গত সেমিস্টারে খারাপ কইরা এইবার আবার একটা সাবজেক্ট বেশি নিছে। আগে আগে পাশ করবে নাকি....
রুহি: (ভয়ংকর উচ্চস্বরে) আব্বা যা বুঝোনা তা নিয়া কথা বইল না তো.... (রাজিবের দিকে তাকিয়ে) কিরে তুই এত সকালে কেন? তোর না দশটায় আসার কথা?
রাজিব: আরে ব্যাটা ঘড়ি দেখ। এগারোটা বাজে....
রুহি: (দেয়ালের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) বলিস কি.... এত দেরী করলি কেন? চল চল......
(দুই জনে বাম দরজা দিয়েই অদৃশ্য হয়ে যাবে।)

(এই সময় বড় ছেলে গা চুলকাতে চুলকাতে বাম দিক দিয়ে ঢুকবে। তার হাব ভাবে চরম বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। বাবার বাম পাশে গিয়ে দাড়াবে)
বড় ছেলে: আব্বা, কিছু টাকা লাগবে.... এক হাজার টাকা দাও তো।
বাবা: আচ্ছা তোর লজ্জ্বা করে না, রোজ রোজ টাকা নিতে?
ছেলে: উফ বেশি কথা বইল না তো, টাকা দিলে দাও।
বাবা: আর কতকাল এভাবে টাকা নিবি? চাকরি টাকরি খুঁজ....
ছেলে: ডেইলি ডেইলি এক প্যাঁচাল পাইরো না তো। টাকা দাও, যাইগা....। (বাবা বুক পকেট থেকে টাকা বের করতে থাকবে) আর আমি তো বলছিই, ঐসব চাকরী টাকরী আমার ভাল্লাগে না। টাকা দাও, ব্যবসা করি।
বাবা: তোকে এত টাকা দিয়ে টেলিকম ইন্জ্ঞিনিয়ারিঙে পড়াইলাম, আর তুই কি না এখন ফোন ফ্যাক্সের দোকান দিবি....
ছেলে: আরে বাবা আধুনিক হও। (টাকা নিয়ে ছেলে ডান দিক দিয়ে বের হয়ে যেতে থাকবে। বাবা পিছন থেকে ডাক দিবে)বাবা: শোন..... আজকে একটু বাজার করে দে না.... শরীর টা ভাল লাগছে না....
ছেলে: ধুর... ঐসব আমি পারি না। তুমি কর গিয়া..... (ছেলে বের হয়ে যাবে। বাবা উদাস মনে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবে)

(একটু পর আবার কলিং বেল বাজবে।)
বাবা: সামিয়া, দেখতো কে এল।
(সামিয়া একহাতে আয়না আরেক হাতে লিপস্টিক ঠোঁটে মাখতে মাখতে ডান দিকে দরজার দিকে যাবে)
বাবা: হায়রে, কি দিন আসলো। দরজা খুলতেও সাজা লাগে।
(দরজা খুলবে। আসছে সামিয়ার বন্ধু নিক্সন। মাথায় উল্টা করে ক্যাপ। প্যান্ট কোনরকমে ঝুলে আছে। আধুনিকতার চুড়ান্ত নিদর্শন সে)
নিক্সন: হাইই... হাও আর ইউ? তুমি রেডী?
(বাইরে চেঁচামেচি শুনে বাবাও দরজার কাছে আসবে)
সামিয়া: ড্যাডি, এ হল আমার বন্ধু.... নিক্সন......
নিক্সন: হ্যালো আঙ্কেল, হাও আর ইউ?
বাবা: (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে) এ্যাঁ? হ্যাঁ ভাল..... সামিয়া কোথাও যাচ্ছিস নাকি?
সামিয়া: হ্যাঁ বাবা। গ্রুপস্টাডি করতে হবে।
বাবা: ও আচ্ছা। রাতে ফিরবি তো মা?
সামিয়া: (ভ্রু কুঞ্চিত করে) উফ বাবা। বাই...
নিক্সন: আঙ্কেল, বাই....
(ওদের চলে যাওয়া দেখবে বাবা উদাসমনে। তারপর দরজা লাগিয়ে দিবে।)
বাবা: (আপনমনে) হে খোদা, এমন সন্তান আর যেন কোন বাবার পেটে না ধরে.....
(বাবা চশমা খুলে মুছবে। তারপর চশমা পড়ে ঘড়ির দিকে তাকাবে)
বাবা: কটা বাজল? হুম..... ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে..... টিক টিক টিক টিক....
কিন্তু এটা ওদের ঘড়ি। আমার ঘড়ি থেমে আছে। আামি পুরান হয়ে গেছি। আমি ওদের পুরান বাবা।...... আমি ঐ সময়ের কাছেই পরাজিত আজ......
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:১১
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×