মারুফ: চল দোস্ত, অন্য কোথাও যাই।
নয়ন: অন্য কোথাও যাব কেন? এইখানে আমরা খেতে এসেছি। খাব। ব্যস।
মারুফ: কিন্তু ওদের আমি সহ্য করতে পারছি না।
নয়ন: ওরাতো এখন কেউ না আমাদের। তোর সমস্যা কোথায়? আমার তো কোন অনুভূতি হচ্ছে না। সবকিছু অতীত।
শাহীন: আচ্ছা কথা না বাড়ায়ে বসলে বস। দাড়ায়ে থেকে লাভ কি? ওদিকে তাকাসই না।
ওরা বসবে
পুলক: কি খাবি তোরা?
শাহীন: (নয়নের দিকে তাকিয়ে, ঠোঁটে বাঁকা হাসি) এই রেস্টুরেন্টেইতো তোরা বসতি মাঝে মাঝে।..... হায়রে, মেয়ে মানুষটার লজ্জ্বা শরম কিছু নাই।
(নয়নের কোন ভাবান্তর হবে না)
পুলক: ওফ.... আবার শুরু করলি......
মারুফ: (উত্তেজিত হয়ে)..... আরে এই মেয়েটা হচেছ একটা বেশ্যা। (পুলক চোখের ইশারায় ওকে থামতে বলবে। কাঁধে হাত রাখবে। ছোটখাটো ছেলে মাহরুফ উত্তেজিত হলে ওকে বেশ হাস্যকর দেখায়).... আমি নয়নকে আগেই বলছিলাম এই মেয়ে তোকে ব্যবহার করছে। ও তখন আমার কথা পাত্তাই দেয় নাই। ..... এই মেয়েকে আমি নিজের চোখে আরও দুইটা ছেলের সাথে দেখছি। আরও কয়টারে ঘুরাইছে কে জানে?
শাহীন: আরে মেয়ে মানুষের কাছে বয়ফ্রেন্ড হইল স্রেফ বাজারের ব্যাগ। সাথে নিয়া ঘুর, ইচ্ছামত আইটেম ভর........(শাহীনের মোবাইল বেজে উঠবে) এইরে, 'ও' ফোন দিছে (বোকা বোকা হাসি দিবে।) দ্যাখ কিভাবে ফোনটা রাখি। মেয়ে মানুষের উপর সবসময় ডোমিনেট করতে হয়।
(ফোন ধরে) হ্যালো শায়লা... হ্যা.. হ্যাঁ.... আচ্ছা শোন, আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলি। (ফোন কেটে দিয়ে) দেখেছিস, এরকমই করতে হয়।..... এইরে আবার ফোন দিছে। .... আচ্ছা তোরা একটু বস। আমি একটু কথা বলে আসতেছি। জরুরি মনে হয়। (শাহীন বাইরে যাবে)
মারুফ: হায়রে মেয়ে মানুষ। ..... একশটা শাহীনও পারবে না একটা শায়লাকে ডোমিনেট করতে। ব্যাটাকে নিশ্চয়ই এখন ঝাড়ি মারতেছে।
পুলক: (নয়নের দিকে তাকিয়ে) কি দোস্ত? তুই এরকম চুপ কেন? তারচেয়ে চল আমরা অন্যকোথাও যাই। ওরা এখনও আমাদের দেখে নাই।
নয়ন: না, অন্যকোথাও যাব কেন? ওয়েটার শালা অর্ডার নিতে আসে না কেন।
পুলক: দোস্ত.... আমি বুঝি.... তুই যতই বলছ নীলার জন্য তোর কোন অনুভূতি নাই এখন.... আসলে আছে....
নয়ন: (দূরে ওর বাম দিকে নীলার দিকে তাকিয়ে) হুম.... মিথ্যা না..... চোখ বন্ধ করলে এখনও আমি ওর কন্ঠ শুনি, যেন সুর করে গান গাইছে;ওর ঘ্রাণ পাই, ওর নিষ্পাপ হাসি, বাতাসে আমার মুখে ওর চুলের পরশ, ওর হাতের স্পর্শ........ আমার নিজেরও অবাক লাগে এই মেয়ে মানুষটার জন্য আমার এখনও অনুভূতি অবশিষ্টআছে.... তবে.... তবে সেটা ঘৃণা আর ক্রোধ ছাড়া কিছু না।
মারূফ: এই মেয়ে কয়টা ছেলের লাইফ নষ্ট করছে কে জানে। এখন যেই ছেলেটা বসে আছে এরও জীবন টা হয়তো নষ্ট হবে। তারচেয়ে চল যাই ওই ছেলেটার সামনে সত্যটা উন্মোচন করে আসি।
পুলক: ধুর... আমাদের কি ঠেকা পড়ছে?
(এই সময় নীলা ও ঐ ছেলে অনেক ক্লোজ হবে। পরস্পরের হাত ধরবে।)
(নয়ন উঠে দাড়াবে)
পুলক: ওহ .... সত্যি সত্যি যাস নাকি?
নয়ন: হ্যাঁ.... তোদের পুরান ভাবির সাথে একটু কুশলাদি বিনিময় করে আসি। (ঠোটে বাঁকা হাসি)
মারূফ: (উঠে দাড়িয়ে) চল।
পুলক: পাগলামো করিস না তো....
নয়ন: তোরা বস। আমি সাক্ষাৎ করেই চলে আসতেছি।
(নয়ন ওদের টেবিলের কাছে যাবে। নীলা ওকে দেখে চমকে উঠবে।)
নয়ন: কি খবর নীলা? কেমন আছ?
নীলা: তুমি...!?
নয়ন: হ্যাঁ... আবার দেখা হয়ে গেল।
বয়ফ্রেন্ড: ও কে?
নীলা: আরে.... (সামলে নিয়ে) এই ছেলেটা অনেকদিন ধরে আমার পিছে ঘুরছে। বিরক্ত করছে।.... (নীলার মধুমাখা কন্ঠ, বড় বড় টানা টানা চোখ নয়নকে এখনও মুগ্ধ করছে। ও নীলার দিকে তাকিয়েই আছে)
(বয়ফ্রেন্ড উঠে দাঁড়াবে। পুলক ও মারুফ দেখছিল। ওরাও দাড়াবে।)
বয়ফ্রেন্ড: আপনি ওকে ডিস্টার্ব করেন কেন? আপনার লজ্জ্বা করে না?
(মারুফ এবং পুলক নয়নের পাশে এসে দাঁড়াবে)
পুলক: লজ্জ্বা তো আপনার করা উচিত.....
(নীলা উঠে দাড়িয়ে বয়ফ্রেন্ডের হাতধরে টানবে)
নীলা: হাসান চল.... ঝামেলা করে লাভ নাই.....
হাসান: (নয়নের দিকে তাকিয়ে) তুই সাবধানে থাকিস.........
মারূফ: সাবধানে তুই থাকিস ব্যাটা..... নষ্ট মেয়ে মানুষ ভয়ংকর জিনিস.....
হাসান: ইউ বাস্টার্ড..... তোর হাড্ডি আমি গুড়া করব.....
নীলা: উফ.... ওদের কথা শুন না.... আসতো..... (বিব্রত ভঙ্গিতে হাত টেনে নিয়ে যাবে। অন্যান্য মানুষ ওদের দিকেই তাকিয়ে আছে।)
(এই সময় শাহীন ঢুকবে।)
শাহীন: (নীলার দিকে তাকিয়ে তার বিখ্যাত মুচকি হাসি দিয়ে)কি খবর ভাবি? কেমন আছেন? (হাসানকে দেখিয়ে) এটা কয় নম্বর?
(হাসানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নীলা ওকে টেনে নিয়ে যাবে)
শাহীন: (ওদের কাছে যেয়ে) আমি কি কিছু মিস করেছি?
পুলক: না, এখনও অর্ডার দেয়া হয় নাই.....
মারূফ: ছেলেগুলা সব গাধা...... প্রেমে পড়লে স্মার্ট গাধা হয়ে যায়। (শাহীনের দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে)
শাহীন: ও... তোরা তাহলে ছেলেকে সাবধান করতে গেছিলি?
পুলক: হ্যাঁ...... বলতে গিয়েছিলাম, সুরঞ্জনার কাছে যেও না কো তুমি.....
শাহীন: কি দরকার ছিল বাবা?..... আর এমনওতো হতে পারে যে, ওদের এবারের প্রেম অরিজিনাল।
নয়ন: হুম...... তা ঠিক..... একজন বেশ্যাও তো প্রেমে পড়তে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


