somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[গাঢ়]অনুগ্রহ করে জুতা খুলে প্রবেশ করুন [/গাঢ়]

এক.
প্রতিদিন সকালে অফিসে পা দেয়ার আগেই নোটিশটি আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে আপনিও। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে অপলক...।

আজ তিন বছর পূর্ণ হলো; আপনি জুতা খুলছেন, অফিস করছেন নিয়মিত। অথচ আপনি বসে আছেন সে-ই একই চেয়ারে। এক বছর - দুই বছর করে তিন বছর কেটে গেছে...।

আবার কাজ শুরু করলেন আজ...।

সাইলেন্স প্লিজ!
চুপ করুন।
সবাই চুপ থাকুন, প্লিজ!


দুই.
কাজ করতে বসে কেবলই নোটিশটির দিকে চোখ যায়।
নোটিশটিও তাকিয়ে থাকে আপনার দিকে।
অন্য দিকে চোখ সরিয়ে, ঘাঁড় ফিরিয়ে আবার কাজে মন দেয়ার চেষ্টা...।

আজ সকালে অফিস আসার আগে আপনি গোসল করেননি। গত রাতে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল, খানিকটা শীত শীত ভাব ছিল। চাদর গায়ে সারারাত নাক ডেকে ঘুমিয়েছেন। আলসেমি করে ফ্যান বন্ধ করা হয়নি...।

অফিসের সিদ্ধান্তগুলো আপনি একা একা নিতে পারেন। মাঝে মাঝে এর ওর উপর খবরদারি করতেও ভালো লাগে। চেয়ারের হাতলে ভার দিয়ে আস্তে করে মাথাটা তুলে চারপাশে তাকিয়ে দেখেন - সবাই কাজে মগ্ন।


তিন.
কাজ শেষে আজ মু্যভি দেখতে যাবেন।
তারও আগে - ঠিক বারোটায় লাঞ্চে যেতে হবে।
কিন্তু এখনো অনেকটা সময় বাকী...।

"বেসিনে টিস্যু পেপার ফেলবেন না।
আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।"


চার.
জলত্যাগে যেতে হবে।
আজ সকালে কয় গ্লাস পানি খেয়েছিলেন?
তিন গ্লাস!

আপনি সোজা টয়লেটের দরজা বরাবর হেঁটে গেলেন। সারা অফিস যেন আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। এই তাকানোর মুখোমুখি হতে ইচ্ছে করে না, একটুও...।


পাঁচ.
জুতা পরার দরকার নেই।
মাত্র কয়েক মিনিটই তো থাকবেন ওখানে!
টয়লেটে ঢুকলেন। দরজাটা ধাককা দিয়ে রাখলেন কেবল, হুক লাগানো হলো না। ...খানিকটা স্বস্তি বোধ করলেন।

ছোটখাটো ঘরটায় কিছুটা কসরত, কিছুটা অ্যাডজাস্টমেন্ট। তারপর টান মেরে অন্তর্বাস উপরে তোলা। ইলাস্টিকটা বোধ হয় ঢিলে হয়ে এলো...।

জিপার টেনে বেলট ঠিক করলেন। হাত ধুয়ে আয়নায় তাকালেন - মাথার চুলগুলো হাল্কা হয়ে আসছে!
...নি:শব্দে দরজা বন্ধ করলেন।

পরপর কয়েকবার লম্বা লম্বা শ্বাস নিলেন, ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়লেন। কেন জানি একটু আগের স্বস্তিবোধটা কাটতে শুরু করেছে। কেন?


ছয়.
আবার অফিসে ঢুকলেন।


সাত.
অনুগ্রহ করে জুতা খুলে প্রবেশ করুন।
সাইলেন্স প্লিজ!
বেসিনে টিস্যু পেপার ফেলবেন না।
আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।
প্লিজ কিপ দ্য ডোর ক্লোজড।
বিকেল পাঁচটায় অফিস ছুটি হয় - অকারণে অফিসে বসে থাকবেন না।
টাইম ফর অ্যা মু্যভি!


*********
থাই ছোট গল্পকার Sakchai Lakkhanarwichien এর Following instructions অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:৩৪
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×