
''মেয়াদ উত্তীর্ণ বিদ্যার অ্যালকোহল মগজে ঘটায় বিভ্রম
মাতালের মত মন কথা কয় অবিরল, বিকায়ে সম্ভ্রম
চষে বেড়ায় পথে-ঘাটে, হাটে-বাটে, সুশোভিত উদ্যানে
মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা প্যাগডার ভেতর-বাহির প্রাঙ্গণে
স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা-থিয়েটার
গ্রন্থাগার, সেক্রেটারিয়েট, মুদিখানা, হোটেল বা রেস্তরাঁ,
চা-সিগারেট ও পানের দোকান, হাসপাতাল ও বেশ্যা পাড়া
দেশি মদের দোকান, শিশু পার্ক, পুলিশ ফাঁড়ি, সিনেমা হল
পাঁচ তারা রঙ মহল, বিলাস বহুল বাড়ি, গেরস্তের গোয়াল
ভাড়া বাড়ির ছাদ, নদী রক্ষা বাঁধ, নদীর এপার ওপার চর
ভিটে মাটি হীন মানুষের ঘর, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর
কলে-কারখানায়, ট্রেন-বাসের স্টেশন সহ সব লোকালয়
হন্তদন্ত হয়ে খুঁজে ফিরে সে ব্যথিত মানবতায় ।
সহসা সুরুতন, নাজমা, জহুরা আর দেবি দাসদের মনে পড়ে যায়
দিনের পর দিন তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কলে-কারখানায় !
হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহীদদের আত্মত্যাগকে মনে পড়ে যায়
বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির প্রথম শহীদ মনুমিয়াকে মনে পড়ে যায় ।
নিম্ন মুজুরির ফাঁদে ফেঁসে গেছে সাড়ে ছয় কোটি মানুষ
তাদের ঘামে, তাদের শ্রমে লাভের অংক যখন নিরঙ্কুশ
তখন লাখ পতি হয় কোটি পতি আর কোটি পতি হয় শত কোটি পতি
সুরুতনদের হাজারের অংকে তখনো ত্রুটি, মেলে না ছুটি !
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটি যাদের ঘামে ভেজা
সবুজ অরণ্য আর ফসলী জমি আজও যাদের শ্রমে তাজা
দিন রাত খেটে আধ মরা হওয়া সেই মানুষ গুলো
পায় না সঠিক মূল্য
আহা, শ্রমের সমতুল্য ।
সোনার দেশের উন্নয়নে যখন আরও ধনী হচ্ছে লোভী মহাজন
তখন স্বল্প মূল্যে শ্রমিক হারাচ্ছে তার আসল ও মূলধন !
উৎপাদনের সাথে কর্ম ঘণ্টা বাড়ে, অকাতরে বাড়ে শর্ত
আধুনিকতার সাথে সাথে বাড়ে লক্ষ বেকারত্ব ।
এসব দেখে শুনে শুনে মেজাজ বিগড়ে যায়
আবার মনুমিয়ার আত্মদানকে মনে পড়ে যায়
শিকাগোর সেই শহীদদের ফের মনে পড়ে যায়
জীবন্মৃত শ্রমিক শ্রেণীর মুখচ্ছবি মনে পড়ে যায় । ''
কবিঃ রুদ্র আতিক, সিরাজগঞ্জ
১৫ ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।
ছবিঃ গুগল বাবা .।।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


