
ফ্রানয কাফকার গল্প মেটামরফোসিস। মানে পরিবর্তন বা রূপান্তর। এবং নামের সাথে মিল রেখে গল্পের নায়ক, গ্রেগর, একদম শুরুতেই পোকায় রূপান্তরিত হয়ে যায়!
এই পোকায় রূপান্তরিত হওয়া গ্রেগর সামসাকে নিয়েই ফ্রানয কাফকার গল্প "মেটামরফোসিস"।
অসাধারণ! এক কথায় যদি গল্পটা সম্পর্কে বলতে বলা হয় তাহলে এটাই বলবো, অসাধারণ। একজন মানুষ থেকে রূপান্তরিত হওয়া পোকা, তার রূপান্তরের পরের জীবন আর তার পরিবাররের কাহিণী নিয়ে গড়ে উঠেছে গল্পটা।
গ্রেগর সাসমার কাঁধে তার পুরো পরিবারের দায়িত্ব। সেটা সে কষ্ট করে হলেও পালন করে চলেছে। তেমন একজন মানুষ যদি পোকা হয়ে যায় তাহলে তার জীবনটা কেমন হয় আর তার উপর নির্ভর করা মানুষগুলোর উপরেও বা তার কি প্রভাব পড়ে সেটা ফুটে উঠেছে এ গল্পে। আসলে এখানে পোকায় রূপান্তর হওয়াটা এক ধরনের রূপক বলা চলে। বলা যায় কেউ যদি তার চিরচেনা স্বাভাবিক মানুষ থেকে অন্যরকম হয়ে যায় তাহলে কি হতে পারে সেটাই এখানে দেখানো হয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের ঘটনাটা একটু অন্যরকমভাবে দেখানো হয়েছে গ্রেগরের পোকা হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। তাছাড়া মানুষের আরো কিছু চারিত্রিক দিক কিভাবে সময় আর পরিস্থিতির সাথে পরিবর্তিত হয় তাও দেখানো হয়েছে।
যাইহোক, একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে গ্রেগরের এই পরিবর্তন কেন বা কিভাবে হয়েছে তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কিছু বলা নেই গল্পে। যেন সেটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা, আলাদাভাবে কিছু বলার নেই। আবার গ্রেগর যখন নিজেকে বিশাল এক পোকা হিসেবে আবিষ্কার করে তখন তার প্রথম চিন্তা ছিল তার চাকরি আর কাজে যাওয়া নিয়ে। পোকা হয়ে যাওয়া যেন স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি। এজন্য গল্পটাকে ম্যাজিক রিয়ালিজম হিসাবে ধরা যায় (ম্যাজিক রিয়ালিজম, নামটা শুনেই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন জিনিস আসলে কি। অর্থাত্ যেখানে ম্যাজিক হচ্ছে বাস্তব জগতেরই অংশ। অসাধারণ ঘটনা যেখানে সাধারণ, অস্বাভাবিকটা স্বাভাবিক)।
তা এইধরনের গল্পগুলো খুব আকর্ষণীয় হয়। কারণ ম্যাজিক্যাল এলিমেন্ট বা বাস্তবে যা অসম্ভব এমন জিনিস যখন একদম ডাল-ভাতের মত ব্যবহার করে বেশ ভারী ভারী কথা রূপকের মাধ্যমে বলে ফেলে, তখন ভালোই লাগে পড়তে।
তাই, যারা গল্পটা এখনো পড়েননি, বা পড়ার জন্য একটু অন্যরকম কিছু চাচ্ছেন তারা পড়ে ফেলতে পারেন কাফকার "মেটামরফোসিস"। আশা করি ভালোই লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


