পৃথিবীর সবগুলো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মেধা-পাচার হয় চীন থেকে। সদ্য-প্রকাশিত চাইনিজ একাডেমী অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের একটি রিপোর্টে জানা গেছে এ-তথ্য। তথ্যমতে চীন থেকে অন্য দেশে পড়তে যাওয়া প্রতি দশজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন আর দেশে ফিরে আসে না।
হিসাবে দেখা যে, ১৯৭৮ সাল থেকে এ-পর্যন্ত ১.০৬ মিলিয়ন চীনা শিক্ষার্থী পড়ালেখার জন্য বিদেশে গেছে। এদের মধ্যে মাত্র ২ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার শেষমেশ দেশে ফিরে এসেছে। বাকীদের অনেকে বিভিন্ন দেশে উচ্চতর শিক্ষার অথবা ভালো বেতনের চাকুরী পেয়ে থেকে গেছে। অনেকে বিয়ে-শাদী করে সংসার পেতেছে অথবা নাগরিকত্ব পরিবর্তন করেছে। গবেষকদের ধারণা জীবন-যাত্রার উচ্চ-মান, চাকুরী-বাকুরীর ভালো সুযোগ-সুবিধার কারণে চীনা শিক্ষার্থীরা বিদেশে থেকে যেতে আগ্রহী হয়। এছাড়াও চীন সরকারের দম্পতি-প্রতি একটি সন্তানের কোটার ব্যাপারটিও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাডেমী অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের মতে, মেধা পাচার হয়ে যাবার ব্যাপারটি নতুন-নতুন আবিষ্কারের-উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীনের জন্য সর্ব-প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে যে, মধা পাচার ঠেকানোর লক্ষ্যে চীন সরকার বেশ বড়ো ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। মার্চ মাসে গৃহীত এক সরকারী সিদ্ধান্তে জানানো হয় সিনিয়র বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কর্পোরেট ম্যানেজারদেরকে এখন থেকে হাউস-হৌল্ড রেজিস্ট্রেশন থেকে রেহাই দেয়া হবে। উল্লেখ্য এ-রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে চীনে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ব্যাপারটি নির্ধারিত হয়। এছাড়াও সরকার জানিয়েছে, উপরোক্তদের উচ্চ-হারে বেতন দেয়া হবে এবং তাদের সন্তানদের শীর্ষ-স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হবে। তবে এত কিছু সত্ত্বে ও মেধা বেহাত হয়ে যাওয়াটা কতটা ঠেকানো সম্ভব হবে, সে-ব্যাপারে বিশ্লেষকরা নিশ্চিত নন।
গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রিটেনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশী শিক্ষার্থী হিসাবে চীনাদের স্থান সর্বোচ্চ। হিসাব মতে, গত বছর ব্রিটেনে চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সাংহাই নগরীতে পরিচালিত এক জরীপে দেখা যায় যে, হাই-স্কুলের ৩০ শতাংশ ও মিডল স্কুলের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের জাতীয়তা পরিবর্তন করতে চায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




