somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতনু কুমার সেন
ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্

হে ভদ্রলোক,টিকে থাকার লড়াইয়ে তুমি আমাদের কাছে হেরে যাব

০৭ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা গণরুমে থাকি। আমরা নোংরা।
আমরা এক রুমে পঁচিশজন ঘুমাই।
আমাদের প্রাইভেসি নেই।
সাতটা টা বালিশে পঁচিশজন ঘুমাই।
আমরা উদ্বাস্তুর মতো থাকি।

যে ছেলেটা কোলবালিশ ছাড়া ঘুমোতে পারতো না,সেই ছেলেটাও এখন ঘুমের মধ্যে পাশ ফিরতে পারে না।
জায়গা থাকে না বলে।
আমাদের বিছানায় চাদর নেই।
আসলে আমাদের বিছানাই নেই।আমরা ফ্লোরে ঘুমাই।
পুরো ফ্লোরটাই বিছানা। নিচে কখনো একটা কাঁথা বিছানো থাকে,কখনো থাকে না। তোষকগুলোকে তোষক বলে চিহ্নিত করতে কষ্ট হয়।
আমরা শরনার্থীদের মতো জীবনযাপন করি।

আমাদের একটা শার্ট দিয়ে গোটা বিজনেস ফ্যাকাল্টি প্রেজেন্টেশন দেয়,আমাদের একটা ক্যালক্যুলেটর দিয়ে গোটা সাইন্স ফ্যাকাল্টি পরীক্ষা দেয়,কলাভবনের একটা ছেলের ধার করে আনা গল্পের বই রুমের সবাই পড়ি।
আমরা রুমমেট না।
আমরা ভাই।
আমরা গ্রুপমেট না।
আমরা ভাই।
আমরা এক থালায় পাঁচজন খাই।
পাঁচটাকার বাদাম দশজন মিলে খাই।

এখানে এমন ছেলে আছে যার বাবার কয়েকটা ফ্যাক্টরি আছে।আবার এমন ছেলেও আছে যার সারামাসের খরচ আরেকজনের সিগারেটের খরচের থেকে কম।

আমরা গণরুমে থাকি।
আমরা রাতের খাবারের জন্য জমিয়ে রাখা মাসের শেষ বিশটাকা বন্ধুর জন্মদিনের কেক কিনার জন্য দিয়ে দেই।

সকাল ৮ টায় পরীক্ষা থাকলেও রাত তিনটায় অসুস্থ বন্ধুকে মেডিকেলে নিয়ে যাই।

খাবার টেবিলে একটা বেগুনী কয়জনের থালায় যায় সেই হিসাব আমরা মেলাতে পারি না।

আমরা পলিটিক্যাল ছেলে বলে আমাদের দেখে নাক সিঁটকাও।
হে ভদ্রলোক,তোমাকে জিজ্ঞেস করছি,জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কয়টা মিছিল করেছো?
স্বাধীনতা দিবসে কয় ঘন্টা প্রোগ্রাম করেছো?
গত ছয়মাসে কয়বার তোমাকে রাস্তায় মিছিল করতে নামতে হয়েছে?
কয়দিন রাত একটায় তোমাকে ছোটখাট ভুল ধরার জন্য বড়ভাইরা ডেকে নিয়ে গেছে?

শুনো ভদ্রলোক,যখন বিপদে পড়ি,এই বড়ভাইয়েরাই সবার আগে উপস্থিত হয়।
যে বন্ধুটার সাথে আধাঘন্টা আগে ঝগড়া করেছি,সেই বন্ধুটাই সবার আগে সেখানে উপস্থিত হয়।
ঢাকা শহরে আমার কেউ নাই।
শুধু কয়েকজন বড় ভাই আর কয়েকটা পাগলা বন্ধু আছে,যাদের রেখে আমাকে কেউ একটা ফুলের টোকাও দিতে পারবে না।

আমরা গণরুমে থাকি।আমরা পলিটিক্যাল ছেলে।

আজ দেশের একটা বিপদ হোক।
সবার আগে আমরা রাস্তায় দাড়াব।
আজ বাইরের কেউ আমার দেশ নিয়ে বাজে কথা বলুক,সবার আগে আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলবো।

আজ তোমার বিপদে যখন পাশে কেউ দাড়াবে না,জেনে রেখো,কিছু পাগল ছেলে আছে তোমার জন্য।যারা গণরুমে থাকে।
যারা বন্ধুর জন্য সব করতে পারে।
যাদের দেখে তুমি নাক সিঁটকাও।তারাই আছে।তোমার বিপদে,তোমার পাশে।

কয়বার রক্ত দিয়েছো জীবনে?
দিনে কয়বার তোমার কাছে রক্ত চাওয়া হয়?
রক্ত দেয়ার দুই মাসের মাথায় আবার রক্ত দেয়ার মত সাহস করতে পারবে?
গণরুমে এমন ছেলে তুমি খুব কম পাবে, যাদের রক্ত দেয়ার তিন মাস হয়েছে!
ঢাকা মেডিকেলের এক ডাক্তার সরাসরি বলেছিলেন-এইসব ছেলেরা রক্ত না দিলে ঢাকা মেডিকেলের অর্ধেক রেগী রক্তের অভাবে মারা যেতো।

আমরা গণরুমে থাকি।ছাড়পোকার কামড়ে পিঠ ফুলে যায়।মশার কামড়ে মুখ লাল হয়ে যায়।একজনের পোষাক দশজন ব্যবহার করি।নখ-চুল পাগলের মত বড় বড়,অবিন্যস্ত থাকে।গায়ের উপর ময়লার স্তর পুরু হয়ে জমে থাকে। একজনের পেস্ট-সাবান সবাই ব্যবহার করি।সাতটা বালিশে পঁচিশজন ঘুমাই।একজনের জুতা সবাই ব্যবহার করি।ঘুমানোর সময় একজনের পা আরেজনের কাঁধে তোলা থাকে।একজনের খাবার পাঁচজন ছিনিয়ে খাই।বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছেলেটা বন্ধুর বিপদে স্ট্যাম্প নিয়ে রাস্তার নামে।এডমিশন টেস্টে প্লেস করা ছেলেটা বই কিনার জমানো টাকাটা দান করে দেয় অচেনা কোন গরীব মেয়ের বিয়ের জন্য।

তুমি আমাদের অসভ্য বর্বর বলতে পারো।
কিন্তু তোমাকে বলে দিলাম হে ভদ্রলোক,টিকে থাকার লড়াইয়ে তুমি আমাদের কাছে হেরে যাবে।
আজ যদি দেশে একটা যুদ্ধ হয়,আমরাই সবার আগে যুদ্ধে যাবো।
আমরাই টিকে থাকবো।

জীবনের সেরা কিছু সময় কাটছে গণরুমে।
দেয়ালে বড় বড় করে লিখে রেখেছি,"Proud To Be A গণরুমিয়ান।"

ইয়েস!
#প্রাউড_টু_বি_এ_গণরুমিয়ান

(সংগৃহীত)
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×