somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরিচিত । মানুষ আজিজ

০২ রা জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ছোট কাকা বিয়ে হয়েছিল কুড়ি বছর আগে, তখন খুবই ছোট্ট ছিলুম । লালটুকটুকে কাকীমা ছিল আমাদের , কাকে তাকে খুবই আদর করতো । বড়দের আদর তো তখন বুঝতাম না , বড়রা বুঝতো শুধু দেখতাম কাকা-কাকীমাকে নিয়ে সময়-অসময় ঘরের দরজাবন্ধ করে রেখেছে । আমাদের ক্রিকেটের ব্যাট কাকার ঘরে রাখতুম , কাকার দরজায় ডাকা-ডাকি করলেও সে দরজা খুলতো না খবুই বিরক্ত হয়েছিলাম প্রথম দিগে । মা একদিন এ দেখে , কানডলে বললো: ওদের ডিস্টাব করিস ক্যান? আমি চোখ বড় বড় করে ভাবছিলুম এ কেমন কথা ? কাকাকে তো এভাবেই দরজা থাপড়িয়ে ডেকে তুলি !!
এক দুপুরে কাকীমা আমাকে ভাত মেখে খাওয়াচ্ছিলো , উপস্থিত সবার মধ্যই বলে ফেললাম, কাকীমা দিনের বেলা তোমরা দরজা দিয়ে এত কি করো গো ? সারাদিন রাত ঘুমাও তোমরা ? নুতন কাকী লজ্বায় মুখ ডাকলো , এরপর থেকে দিনদুপুরে তাদের দরজায় খিল দেয়া কমে গিয়েছিল । বছর পর কাকীমার মেয়ে সন্তান হলো , ছোট্ট হাত,পা,নুক,মাথা,চুল,আঙুল নিয়ে ও জন্মালো , আমি সারাদিন তখন ঐ ছোট্ট মানুষটির পাশেই বসে থাকতুম , ছোট্ট শরীর কিন্তু অদ্ভূত ঘ্রাণ ছিল ওর শরীরে, ছোটরা বুঝি এক মায়াকরা ঘ্রাণ নিয়ে জন্মায় । ওর ক্ষুদাপেলে কাকীমার শাড়ীর ভেতর দিয়ে ওকে স্তন দিত , বা কখনো মুক্ত হয়েই পুড়ে দিত । আমি তখন ভাবতুম আমার ছোট্টবোনটি কি মজা করেই না খাচ্ছে, খুব মিষ্টিবুঝি মায়ের স্তনের দুধে । একদিন কাকীমাকে বললুম, তোমার মেয়েকে তো রোজ দুধ খাওয়াও , আমাকে একটু দাওনা ? কাকীমা খুব মিষ্টিবুঝি দুধে ? কাকীমা হেসেই খুন , পর কাকীমা দিল খেতে , কেমন জানি তেতুছিল ! মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলছিলাম এ ও খায় কি করে ? কাকীমা বললো , ও তো খুব ছোট্ট তাই পাড়ে , আমি বলছিলাম আমিওতো ছোট্ট ? কাকীমা, হ্যাঁ ওর থেকে তুই বড় তাই না ? তাই হবে হয়তো ।

বছর দু'য়েক পর ছোট্ট কাকারা স্থির করলো , তার শশুরের বাড়ির পাশে জেলাশহরের চলে যাবে ,সব জমি জমা বিক্রি করে । বাবা কাকাকে কত বুঝালো সে শুনলো না, আমি কাকীমাকে কত কেদেঁ বললাম সেও শুনলো না , অবশেষে চলে গেল তারা । বছর তিনেক পর একবার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কাকাদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম, অনেকদিন পর দেখা হয়ে ভালো লাগবে ভেবেছিলাম । কিন্ত সবাই কেমন জানি বদলে গেল, রুক্ষ হয়ে গেল, কাকীমার চেহারায় মিষ্টি চেহারার পরিবর্তে কঠিন-নিষ্টুর এক ছাপ যেন , তার ছোট্ট মেয়ে অনিলাও দেখি আমার পাশে আসে না । যদিও কাকা আমার সাথে দু' একটি কথা বলে অন্যরা তাও না । ওমন পরিবেশে বেশিদিন আর থাকতে পারিনি , তাদের বাসা থেকে বের হয়ে যেন মুক্ত হলাম । মানুষ কেন বদলে যায়, নিষ্টুর হয় ,রুক্ষ ব্যবহার করে ? মানুষ কেন সাধারণ থাকে না ? এরপর অনেকদিন কেটে গেল, ওরা কেউ কোনদিন আমাদের বাসায় আসেনি আর । বাবা-মা অনেক রিকুয়েষ্ট করেছিল অনিলাকে আনার জন্য, বাব-দাদার ভিটে কখনো ও তো আসেনি । গত বছর অনিলার বিয়ের দাওয়াত পেলাম , এবং গেলাম সেই ছোট্ট হাত,পা,আঙুলে হাত বুলানো অনিলা কত বড় হয়েছে, মুখে দিপ্তী হাসি, শরীরে যৌনের ছুয়া । কাকা আমাকে ডেকে নিয়ে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, ও মানুষ তোমার দাদা হয় । বুঝলাম আমাদের নিয়ে কোনদিন আগে গল্প বুঝি শুনেনি ও, তাই অনুপ্রেরনাও কম শুধু সাধারণ সৌজন্যবোধ দিয়েই কিছুক্ষন কথা,বার্তা । কাকীমা মধ্যবয়স্কা শরীরটা মফস্বলের ছায়াতেই সুন্দর করে টিকিয়ে রেখেছে যেন , বয়সের ছাপ বুঝা যায় না । আমাকে দেখে বললো, ও বাবা কে এসেছে গো ? কিছুক্ষন আন্তরিকতা দেখিয়ে নিভে গেল যেন । পর কত কত মানুষ এলো , কাউকেউ তো চিনি না । শুধু অপরিচিত মানুষের ভেতর বসে রইলেম । আমিও যেন , অপরিচিত কারো বাসায় নিমন্ত্রন গ্রহন করে এলাম । ধীরে ধীরে অনুষ্টান শেষের পথে মানুষ কমে এলো , আমিও চলে এলাম । কিন্তু এমন হতে পারতো , মানুষ তোমার বোনের বিয়ে এখনি চলে যাবে মানে ? অনিলা বলতো, তুমি যদি চলে যাও তোমার সাথে আমার কাটাকুটি । বাসে জানালার পাশে বসে বসে এই নিয়ে ভাবছিলাম, আমরা সম্ভবত সবাই অপরিচিত ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:১৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×