একথা স্বীকার করতেই হবে যে সংকেত তাঁর অনুষ্ঠানে স্থুল ও তরল রসের আধিক্যকে (সম্ভবত জেনেশুনেই) প্রশ্রয় দিয়েছেন । কিন্তু সেটা সম্পুর্ণ ভাবেই তাঁর ব্যাপার, ঊনিশ বছর ধরে বাংলাদেশে কোন অনুষ্ঠান চালানো, না বাংলাদেশে কেন, পৃথিবীর যেকোন দেশেই খুব কঠিন ব্যাপার । আর দর্শক যা চায়, আর হানিফ সংকেত যে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করে ফেলেছেন, এই দুয়ের পারস্পরিক আধিক্রমনিক রেখায় যে সুপার কমিক বাংলা কমেডির জন্ম তাই এককথায় 'ইত্যাদি ।'
'উঁচু ভুঁরু' দের জন্য এ মাল নয় । এ হচ্ছে একেবারে কাতুকুতুযোগে বেরিয়ে আসা মধ্যবিত্তের তলপেটের হাসি । তবু সেই তরল রসেও হানিফ অবলীলায় তুলে আনতে পারেন জটিল, থট-প্রোভোকিং স্যাটায়ার । যেকথা বলা যায় না, গোলামের বাক্সে তো নয়ই, সেসব কথাই হানিফ স্পিনযোগে ছেড়ে দেন, একেবারে একান্ত নিজস্ব 'সাংকেতিক' কোডে ।
যেসব মানুষের ডিশ লাইন নেই বিধায় দিনের পর দিন বিটিভির বাক্সপচা (বস্তাপচা বললে আসলে ঠিক বলা হয় না) বেকুব গোলামের বাক্সের বন্দী, তাদের জন্য ইত্যাদি এক ঝলক বিশুদ্ধ বাতাসের ছোঁয়া । সত্যি বলতে কী যাদের ডিশ লাইন আছে তাঁরাও জিটিভি-ইসপিএন-ন্যাটজিওর নেভার এন্ডিং সার্কাস থেকে বেরিয়ে একঘন্টার জন্য হলেও হানিফ সংকেতের একান্ত বাংলা বিনোদনে ষাটটি মিনিটের জন্য ডুব দেন ।
কিন্তু বিটিভি প্রমান করেছে যে তারা নিরেট আহাম্মকই নয়, নিতান্ত দুর্নীতি গোবরের পুকুরে অবগাহন করতে থাকা জড়গদবও বটে । দেশের এককোটি মানুষ যখন রাত নটার সময় টেলিভিশন সেটের সামনে আগ্রহ নিয়ে বসেন, তখন রামপুরা মাফিয়া তার লোভের/দুর্নীতির উলঙ্গ প্রদর্শনী শুরু করে বিশমিনিট নন স্পন্সরদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে । শোনা যায় নির্ধারিত মুল্যের বহুগুন বেশি দামে বিটিভির এই ইত্যাদি পুর্ব স্লটটি বিক্রি হয় ।
গুলি মারো অনুষ্ঠান সুচী, দর্শককে দেয়া প্রতিশ্রুতি গুলে খাও । উপরি কামানোর এই বিশ মিনিট, টেবিলের তলা থেকে বেরিয়ে গোলামের বাক্সের পিকচার টিউব হয়ে সোজা কোটিখানেক মানুষের ধুসর কোষে পৌঁছায়, প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়াটা আসলে কোন অপরাধ নয় । দু'কান কাটা গোলামেরা আসলে কোন কিছুতেই লজ্জা পায় না ।
সবাই হানিফ সংকেত হতে পারবে না, তার প্রয়োজনও নেই । কিন্তু একজন হানিফ সংকেতকে কী বিটিভি, মানে রামপুরা মাফিয়া কী তার স্টার পার্ফরমারকে এইটুকু প্রাপ্য সন্মান জানাবে না?
মানে ঠিক অনুষ্ঠান সুচী মেনে কী তারা এই একমাত্র দেখবার মত (সবসময় নয়) অনুষ্ঠানটিকে তারা দর্শকদের দেখতে দেবে না?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



