somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাশিয়া ১৯১৯ (পর্ব ১, গন্তব্য পেত্রোগ্রাদ)

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর্থার র‌্যানসাম

ভুমিকা

[ইটালিক]ব্রিটিশ সাংবাদিক আর্থার র‌্যানসাম, প্রথম বিশ্বযু্দ্ধ আর বলশেভিক বিপ্লবের পর ১৯১৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন । লেখার নিরপেক্ষতা বা গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, তবু মনে হয় সেই চাক্ষুস অভিজ্ঞতার আবেদন বা প্রয়োজন এখনো ফুরিয়ে যায়নি ।নিরপেক্ষতার সাথে কিন্তু যথেষ্ট দরদ দিয়ে লেখক তাঁর ভ্রমনের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করেছেন ।[/ইটালিক]

1, গন্তব্য পেত্রোগ্রাদ:

এ বছর 30 ই জানুয়ারি চারজন সাংবাদিক, দুজন নরওয়েজিয়ান, একজন সুইডিশ আর আমি, রাশিয়ার উদ্দেশ্যে স্টকহোম ছাড়ি । সুইডেনর সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হবার ভোরোভস্কি আর লিতভিনভের (মাক্সিম লিতভিনভ, পরবর্তীকালে সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী) নেতৃত্বে সোভিয়েত সরকারী প্রতিনিধিদলের সাথেই যাচ্ছি আমরা । কয়েকমাস আগে আমি বলশেভিক নেতৃত্বের কাছে রাশিয়া যাবার আবেদন করেছিলাম, কিন্তু একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে আমার দরখাস্ত খারিজ হয়ে যায় । যে যাই হোক, আজ সকালের ডাকে মর্নিং পোস্টের একটা কপি স্টকহোমে এসে পৌঁছেছে, তাতে জনৈক মি. লকহার্ট দাবী করেছেন যে আমি ছয়মাসেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার বাইরে আছি, সুতরাং সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে আমার মন্তব্য করার কোন অধিকার নেই । পত্রিকাটা বগলদাবা করে স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষের আছে আবার আবেদন করলাম যে আমাকে রাশিয়া যেতে না দেয়া খুবই অন্যায় হচ্ছে । এবারে খুব সহজে ভিসা পেয়ে গেলাম আমি ।

বরফ ঢাকা সাগর পাড়ি দিয়ে ফিনল্যান্ডের আবোতে নামলাম আমরা । ফিনিশ কর্তৃপক্ষ আমাদের যাত্রা সম্পর্কিত জটিলতা ব্যাখ্যা করল । আমাদের ট্রেনের উপর শ্বেত রক্ষীরা (প্রতিবিপ্লবী) হামলা করতে পারে । লিতভিনভ চাপা হাসি হেসে বললেন, হতে পারে শ্বেতরক্ষীদের হামলা করে দেবার সময় দেবার জন্য দেরী করিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের । বেশ কয়েকজন নার্ভাস সহযাত্রীও একই মত দিল । কিন্তু ভিবর্গে এসে আমরা জানতে পারলাম পেত্রোগ্রাদে (বিপ্লবের আগে সেইন্ট পিটার্সবুর্গ, পরে লেনিনগ্রাদ) সিরিয়াস সংঘর্ষ চলছে এবং ফিনরা আমাদের যুদ্ধের মধ্যে নিয়ে ফেলতে চায় না । কেউ একজন একটা খবরের কাগজ যোগাড় করতে খবরটা পড়লাম আমি (পরে ইংল্যান্ডে ফিরে জেনেছিলাম এরকম ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল তখন) । পেত্রোগ্রাদে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে । সেমিওনোভস্কি রেজিমেন্ট বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়েছে । সরকার শহর ছেড়ে ক্রন্সস্তাত দ্বীপে আশ্রয় নিয়ে, সেখান থেকে ভারী জাহাজী কামান দাগছে পেত্রোগ্রাদের দিকে ।

খুব উত্তেজনাকর খবর, কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না । তাই আমরা জাহাজে শুরু হওয়া দাবার টুর্নামেন্টটা আমরা শেষ করলাম । একজন এস্তোনিয়ান প্রথম হলো, ভাগ্যক্রমে আমার চেয়ে অনেক ভাল দাবাড়ু লিতভিনভকে হারিয়ে আমি দ্বিতীয় হলাম । রোববার রাতের আমরা তেরিওকি পার হলাম তারপর, সোমবার সকালের দিকে ফিনিশ সীমান্তের কাছে বিয়েলেস্ত্রভে পৌঁছালাম ।

স্টেশনে একদল ফিনিশ সৈন্য অপেক্ষা করছিলো আমাদের জন্য, যাতে আমাদের একজনও সাধারন লোকদের ভীড়ে মিশে যেতে না পারে । কোন ঘোড়া ছিল না, কিন্তু তিনটে হাতে টানা স্লেজ আনা হল । সেগুলোতে আমাদের মালপত্র তুলে দিয়ে সৈন্যদের সাথে সীমান্তের দিকে রওনা দিলাম আমরা । একজন ফিনিশ লেফটেন্যান্ট আমাদের মিছিলটার আগে আগে চলছে, খোশমেজাজে আমাদের সাথে সুইডিশ আর জার্মান ভাষায় গল্প করতে করতে চলছে সে, জ্বলন্ত অগি্নকুন্ডতে পা দিতে যাচ্ছে এমন একদল দুর্ভাগা লোকের সাথে ভাল ব্যাবহার করাটাই ভাল মনে হচ্ছে তার কাছে ।

কয়েকশো গজ সামনে পাতা ঝরে যাওয়া বনের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে পায়ে চলা রাস্তাটা । একটা জমে যাওয়া নালা সোভিয়েত ইউনিয়নকে ফিনল্যান্ড থেকে আলাদা করেছে । নালাটার উপরে একটা কাঠের সেতু, রাস্তাটা সেদিকেই নেমে গেছে । সেতুটা বিশগজের বেশি লম্বা হবে না, দুমাথায় চেকপোস্ট, দুজন করে প্রহরী তাতে । রাশান চেকপোস্টটা পুরনো রুশ সাম্রাজ্যের শাদা-কালো রঙ করা । ফিনিশ সদ্য স্বাধীনতা পেয়ে এখনো ওদের চেকপোস্ট রঙ করে উঠতে পারেনি ।

চেকপোস্টের ব্যারিয়ারটা তুলল ফিনরা । তারপরে ফিনিশ অফিসাররা আমাদের জিনিসপত্র সব এনে সেতুটার মাঝখানে এনে ফেলল । নড়বড়ে সেতুটার মাঝখানটা জিনিসপত্রে বোঝাই হয়ে যেতে দেখলাম আমরা, আমরা যতদূর সম্ভব খাবারদাবার সাথে নিয়ে যাচ্ছি । আমাদের কাউকে পার হবার অনুমতি দেয়া হলো না যতক্ষণ না ওপার থেকে একজন অফিসার ও কয়েকজন সৈন্য ওপার থেকে এল আমাদের সাথে দেখা করতে । শুধু ছোট্ট নিনা, ভোরোভস্কির দশ বছরের মেয়ে এতোক্ষণ যে ফিনদের সাথে সুইডিশ ভাষায় গল্প করছিল, এক এক পা করে অন্য পারে গিয়ে রুশ সৈনিকদের সাথে গল্প জুড়ে দিল । রুশ সৈনিকটাও বাধ্যের মত মাথা নীচু করে ও টুপিতে লাগানো নতুন কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা ব্যাজটা নিনাকে দেখাল ।

ফিনিশ লেফটেন্যান্ট নাম ধরে আমাদের ডাকতে লাগল, 'ভো রোভস্কি, স্ত্রী ও এক সন্তান সহ,' বলেই ঘাড় ফিরিয়ে সেতুর আরেক দিকে তাকিয়ে হাসল লেফটেন্যান্ট । তারপরে ডাকা হল 'লিতভিনভ' এবং আরো ত্রিশ জন রাশিয়ানের নাম । আমরা চার সাংবাদিক এলাম সবার পরে, 'গ্রিমলুন্ড' সুইডিশ সাংবাদিক, দুই নরওয়েজিয়ান; পুন্টেরফাল্ড ও স্টাং । সবশেষে আমার নাম ডাক হলো । আমরা সবাই চেঁচিয়ে ফিনদের বিদায় জানালাম, নিনা বলল 'হেলসে ফিনলান্ড!' ফিনিশ সৈনিকরা সব ওদের নিজেদের দেশের দিকে চলে গেল আর আমরা হাঁটি হাঁটি পা পা করে টলমল করতে থাকা রাশিয়ার দিকে পা বাড়ালাম । সেতুটার সাথে আমরা আমাদের একটা দর্শন বা সভ্যতা থেকে আরেকটায় গিয়ে পড়লাম । বু্র্জোয়া শাসন থেকে প্রোলোতারিয়েতের শাসনে ।

ফারাকটা প্রায় সাথে সাথেই বোঝা গেল । ফিনিশ দিকের নতুন স্টেশন যতটা কাজে লাগতে পারে তারথেকে অনেক বড় করে বানানো, নতুন ফিনল্যান্ডের মেজাজ বহন করছে । কিন্তু রুশ অংশে সেই পুরনো ধুসর কাঠের স্টেশনটাই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতা নিয়ে টিকে আছে । কোন পোর্টার নেই স্টেশনে, তাতে অবাক হবার কিছু নেই, কাঁটাতারে বেড়া, অত্যন্ত সন্দিগ্ধ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দুইদেশকে ভাগ করেছে, এবং এ লাইনে যাত্রী নেই বললেই চলে । বুফেতে প্রচন্ড ঠান্ডা, এবং কোন খাবার নেই । লম্বা টেবিলগুলো, যা একসময় ক্যাভিয়ার আর যাকুস্কিতে (একধরনের অ্যাপেটাইজার) ভরা থাকত, এখন খালি । যা হোক একটা সামোভার এখনো আছে, ষাট কোপেক খরচ করে এক গ্লাস করে চা কেনা গেল সাথে আড়াই রুবল দামের চিনির কিউব । ভিতরের পাসপোর্ট অফিসে বসে চা খেলাম আমরা, সেখানে স্টোভে পুন্টারফাল্ডের শক্ত সু্ইডিশ রুটি দিয়ে কোনরকমে খাওয়া সারলাম আমরা ।

সেই হতশ্রী নির্জন স্টেশনে আমাদেরকে ঠিক কী ধরনের অবসাদ ও উল্লাস পেয়ে বসেছিল তা বর্ণনা করা সত্যি কঠিন । আমরা এখন ঠিক কারো পাহারায় নই, এবং মোটামুটি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি আমরা । দুই দলে ভাগ হয়ে গেল সবাই, একদল কাঁদতে বসল আর আরেক দল গলা ছেড়ে গান ধরল । মাদাম ভোরোভস্কি, যিনি প্রথম বিপ্লবের সময় থেকেই দেশে ছিলেন না, কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন । কিন্তু পরদিন মস্কোতে পৌঁছে যখন তিনি আবিস্কার করলেন যে উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তার স্ত্রী হবার সুবাদে তিনি বিশেষ কোন সুবিধা পাবেন না, তখনকার কান্নাটা আরো ভয়ানক ছিল । কিন্তু লিতভিনভের মত পাটির্র অল্পবয়েসী মেজাজ, কোন ডিনার না খেতে পেলেও ছিল তুঙ্গে ।

গোটা গ্রামটায় চষে বেড়াতে লাগল ওরা, বাচ্চাদের সাথে খেলতে খেলতে গান ধরল ওরা । কোন বিশেষ বিপ্লবী বা দেশাত্বক গান নয়, যা মাথায় আসে এমন যে কোন খুশির গান । যখন পেত্রোগ্রাদ যাবার ট্রেন এল আমরা আবিস্কার করলাম যে ট্রেনে কামরা গরম করার কোন বন্দোবস্ত নেই । কেউ একজন ম্যান্ডোলিন বের করল, শরীর গরম করার জন্য নেচে চললাম আমরা, ম্যান্ডোলিনের তালে । তবু, আমাদের সাথে পাঁচটা বাচ্চার জন্য সত্যি খুব খারাপ লাগছিল আমাদের । যে দেশে একই সাথে যুদ্ধ, অবরোধ এবং বিপ্লব চলছে সেরকম কোন দেশ কোন শিশু বেড়ে ওঠার জন্য আদর্শ জায়গা নয় । কিন্তু ওরাও দের বাবা-মা আর অন্য বিপ্লবীদের মত ফুর্তিতে আছে ।

সন্ধ্যার সময় পেত্রোগ্রাদের ফিনল্যান্ড স্টেশনে এসে পৌঁছালাম আমরা । স্টেশনটা প্রায় ফাঁকা, তবে চারজন পোর্টারের দেখা মিলল । আমাদের মালপত্র প্ল্যাটফমের্র এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নেবার জন্য আড়াইশো রুবল দাবী করল ওরা । তবে মাল নেয়ার জন্য যে লরীটা পাঠানো হয়েছিল সেটায় আমরাই মাল তুললাম । আমাদের বিভিন্ন হোটেলে জায়গা বরাদ্দ করার জন্য অনেক সময় গেল । স্টেশনের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহ ও শহরের উপর গোলাবর্ষণ বিষয়ে অনেককে জিগ্যেস করলাম । কিন্তু কেউ কিছু জানে না এ ব্যাপারে । অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে আমার জন্য কামরা বরাদ্দ হল জেনে ভাবলাম, আমার ভাগ্য ভাল ।

জমে যাওয়া নেভা নদীর উপর দিয়ে লিতেইনি সেতুর উপর দিয়ে চললাম আমরা । শহর মোটামুটি শান্ত আছে বলেই মনে হল আমাদের । পড়ন্ত তুষার কুঁচির মধ্যে দিয়ে পিটার-পলের দূগের্র অবয়বকে ঝাপসা ভাবে দেখা গেল । তারপরে গত ছয় বছরে, আমি আমার অত্যন্ত পরিচিত সামার গার্ডেন, ব্রিটিশ দূতাবাস আর প্যালেস স্কোয়ার দেখতে । এখানে গত জুলাই বিপ্লবের সময় সাঁজোয়া গাড়ির বহরকে অবস্থান নিতে দেখেছিলাম । এখানেই জেনারেল কর্নিলভকে, ইউংকার রেজিমেন্ট পরিদর্শন করতে দেখি আমি । মাচের্র বিপ্লবের কথা মনে পড়ল, অন্ধকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে পিকেটার জারের সরকারের ছাপানো লিফলেট পোড়াচ্ছে । স্মৃতির দরজা আরেকটু খুলে গেল, এবং আমি এই চত্বরেই যু্দ্ধের শুরুতে মানুষের স্রোত নেমে আসছে । জার নিকোলাস প্রাসাদের ব্যালকনি এসে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছেন ।

অ্যাস্টোরিয়া হোটেল এখন একটা ব্যারাকের মত কাঠখোট্টা জায়গা । যুদ্ধের শুরুতে এটা ছীল অফিসারদের আড্ডাখানা । বিপ্লবের সময় যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল । বেশির ভাগ ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু মেঝেতে লাল কার্পেট উধাও, হতে পারে সেগুলো দিয়ে ব্যানার বানানো হয়েছে । আলোও জ্লছে না, হতে পারে বিদ্যুত নেই । চার তলায় একটা চমৎকার রুমে লটবহর টেনে নিয়ে গেলাম আমি ।

এই হোটেলের প্রতিটি তলাই স্মৃতিময় । এই রুমেই আমি এক সাহসী প্রতিবিপ্লবী অফিসারের দেখা পাই, যে বড়াই করে বলেছিল বলশেভিকদের উপর হামলা করে মাদাম কোলোনতাই (আলেক্সান্দ্রা কোলোনতাই পরে সুইডেনে সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত) এর হ্যাট ছিনতাই করে এনেছে ও, হ্যাটটা দেখেছিলাম আমি । এখানেই পার্সিভাল গিবন্সের কাছে ছোট গল্প লেখার উপর একটা ছোট লেকচার শুনি । এখানেই মিসেস বিটি ক্লান্ত বিপ্লবীদের চা খাওয়াতেন, যুদ্ধের পরে এই সব দিনগুলোর স্মৃতি 'রেড হার্ট অভ রাশিয়া' তে লিখেছেন তিনি । এখানেই ডেনিস গার্সটিন আমাকে বলেছিল, যুদ্ধ শেষ হলে কী রকম শিকারে যাবে সে ।

খাওয়ার কথা জিগ্যেস করতেই ওরা বলল হোটেলে কোন খাবার নেই তবে গরম পানি ব্যাব্স্থা আছে । ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার জন্য একটু হাঁটতে বের হলাম । স্রেফ একটা ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে বের হতে ভয় লাগছিল । আমাদেরকে এখনো পাস ইস্যু করা হয় নি । হাঁটতে হাঁটতে রেজিনা হোটেলের সামনে এসে পড়লাম । যুদ্ধের আগে সবচেয়ে অভিজাত হোটেল ছিল রেজিনা । কিন্তু ওখানে যাদের কামরা পড়েছে, ওর আসাংঘাতিক সমালোচনা করছে যে ওখানে আর থাকতে পারলাম না । ময়কা প্রাসাদ থেকে নেভস্কি পর্যন্ত গিয়ে আবার হোটেলে ফিরে এলাম আমি । আমার হোটেলটার মতই গোটা শহর আঁধো আলো-আঁধারীতে ডুবে আছে । পুরনো ভেড়ার চামড়ার পুরনো কোটপড়ে নিজেকে আমার মনে হল কোন প্রাচীন প্রেত যে সে তার পুরনো মৃত নগরে ফির এসেছে । রাস্তায় খুব অল্প কিছু লোকের সাথে দেখা । তবে রাস্তাগুলোর বরফ মনে হল রুশ সাম্রাজ্যের শেষ শীতকালটার চেয়ে ভালভাবে সাফ করা হচ্ছে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×