somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 5)

০৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেইন্ট লুইতে গিয়ে সবার সাথে বিদায় নিয়ে স্টিমারে উঠলেন দু ভাই, গন্তব্য মিসৌরির সেইন্ট জোসেফ । সেখান থেকে একেকজনের দেড়শো ডলার দিয়ে ওভারল্যান্ড স্টেজরুটের টিকেট কিনলেন ।

1861 সালের জুলাইয়ের শেষদিকে স্যাম আর ওরাইওন চড়ে বসলেন ষোলো ঘোড়া টানায় স্টেজ কোচে, পশ্চিমের পথে । খাওয়া আর ঘোড়া বদলানো সময়টুকু বাদ দিলে দিনরাতই কেবল বিরতিহীন যাত্রা । যাঁরা মার্ক টোয়েনের রাফিং ইট বইটা পড়েছেন তাঁরা এ যাত্রার খুঁটিনাটি সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল আছেন । "It thrills me through and through to think of the life, the gladness, and the wild sense of freedom that used to make the blood dance in my face on those fine overland mornings." (Roughing It, Mark Twain)

নেভাডার অস্থায়ী রাজধানী ধুলো ধুসরিত কার্সন সিটিতে এসে থামল স্টেজকোচ । ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ছড়ানো কয়েকশো কুটির, হাজার দুয়েক লোকের বাস এ শহরে । নেভাডা তখনও স্টেট হয়নি, মিসেস ও'ফ্ল্যানিগানের বোর্ডিং হাউজে ঠাঁই হলো দু ভাইয়ের ।

সেখানেই একটা ফাঁকা মতো জায়গায় অফিস বসালেন ওরাইওন । কিন্তু স্যামকে পনেরো মিনিটের বেশি টেবিলে আটকে রাখা সম্ভব হতোনা ওরাইওনের পক্ষে । এই প্রথম স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স তাঁর আচরনে একটা ক্ষীণ বিদ্রোহের সুর প্রকাশ করলেন ।

বিদ্রোহের প্রথম প্রকাশ পাওয়া গেলো বেশভুষায় । চিবুকে কিছু কোঁকড়ানো লাল দাড়ি রাখতে শুরু করলেন, খনি মজুর দের মতো পুরু কিন্তু আরামদায়ক পোশাক পরতে আরম্ভ করলেন, সাথে মানানসই চামড়ার জ্যাকেট আর স্লাউচ হ্যাট । দিনকতক উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে ঘোরাফেরা করলেন কার্সন সিটির রাস্তায় রাস্তায় ।

পথচলতি লোকের চেহারার দিকে চেয়ে থাকতেন একদৃষ্টে, শিগগিরই কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয়ে গেল । তাদেরকে স্যাম তাঁর দক্ষিন দেশের আঞ্চলিক ঢঙে গল্প শোনাতেন । শ্রোতারা রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতো গল্পের শেষের বিলম্বিত বিষ্ফোরনের জন্য, সাসপেন্স আর হিউমার কিভাবে লেখার মধ্যে তৈরি করতে হয়, তা কথক টোয়েন শানিয়ে নিয়েছেন এভাবেই । পনেরো দিনের মধ্যেই স্যাম কার্সন সিটির সবচেয়ে পরিচিত মানুষে পরিচিত হয়ে উঠলেন ।

স্যামের আরেকটা বিদ্রোহসুচক কাজ হল, তিনি ওহাইওতে থেকে আসা এক বন্ধু জন কিনির সাথে লেক বিগলারে (এখনকার লেক টাহো ) চলে গেলেন । সেখানে একটা খোলা নৌকায় দিন কয়ে ঘুরে বেড়ান একটানা, বিগলার হ্রদের পানি এতো স্বচ্ছ ছিল যে আশি ফুট নীচের হ্রদের তলার খুঁটিনাটি দেখা যেত পরিস্কার ।

যেসব চিঠি তিনি লিখেছেন বাড়িতে মা আর পামেলার কাছে, স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স যে কালে একজন বড় লেখক হয়ে উঠবেন, তা চিঠিগুলো পড়ে বেশ বোঝা যায় । লেকের ধারে একটা ছোট্ট কাঠের কুঁড়েঘরও বানিয়েছিলেন স্যাম আর জন ।

দিনকতক পর স্যামি ভাবলেন ঘোরাঘুরি যথেষ্ট হয়েছে, এখন পরিবারের জন্য যে ধনরত্ন কুড়াবেন ভেবেছিলেন সেকাজে হাত দেয়া যায় । শরৎ পেরিয়ে শীত এসে পড়লো আর প্রথম বারের মতো স্যাম ক্লিমেন্স "মাইনিং ফিভারে" আক্রান্ত হোলেন । নতুন আবিস্কৃত হামবোল্ট খনি এলাকা থেকে গুজব আসতে লাগলো ।

ওখানকার পাহাড়গুলো নাকি একদম রুপা দিয়ে ঠাঁসা । ভার্জিনিয়া সিটির কাগজ টেরিটোরিয়াল এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি ওখানকার খনির জৌলুসের কথাপ্রকাশ করার মতো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না, এই এন্টারপ্রাইজ পত্রিকায় স্যাম মাঝে মাঝে শখের বশে লেখা পাঠাতেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৫৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×