somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 6)

০৬ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিসেম্বরের এক হিমঝরা বিকেলে কারসন সিটি ছেড়ে পর্বতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তাঁরা, ঝিরঝির করে তুষার পড়ছিলো তখন । দলে ছিলেন স্যাম ক্লিমেন্স, দুই তরুন উকিল ক্ল্যাগেট আর ওলিভার (একজন পরবর্তী কালে মন্টানা থেকে কংগ্রেসম্যান, আরেকজন ফেডারেল জাজ হয়েছিলেন) আর খনির কাজে দলের একমাত্র অভিজ্ঞ লোক প্রায় ষাট বছর বয়স্ক অবসরপ্রাপ্ত কামার মিঃ টিলু , (রাফিং ইট বইতে মিঃ টিলুকে মিঃ বালু নাম দিয়েছেন টোয়েন ) ।

এই আনাড়িদের মধ্যে টিলুই কেবল আসল সোনা-রুপা চিনতে পারতেন । আঠরোশো পাউন্ড রসদ সহ দুটো বুড়ো ঘোড়া নড়বড়ে গাড়িটা আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথের চড়াই ধরে টেনে নিয়ে চললো, অভিযাত্রীরা সব হেঁটে চললেন । খুব শিগগিরই তাঁদের রুপার পাহাড়গুলো জ্বলজ্বল করতে দেখবেন এই আশায় তাঁরা চললেন, নাহোলে এই শহুরে বাবুদের এতো কষ্ট সইতো না শরীরে ।

দিন পনেরো চলার পর প্রায় দুশো মাইল পাড়ি দিলেন তাঁরা । আরো তাড়াতাড়ি হত যদি আলসে ঘোড়া গুলোকে দিয়ে গাড়ি না টানিয়ে নিজেরাই টানতেন (মার্ক টোয়েনের চুটকি !) । সে যা হোক, ষোলোদিন পর হামবোল্ট পর্বতমালার কাছে ইউনিয়নভিল গ্রামে পৌঁছুলেন তাঁরা ।

সোনার খনি খুঁড়তে গেলেও প্রথমে একটা মাথা গোঁজার ঠাই দরকার । একটা ক্যানভাসের ছাউনি দেয়া কুঁড়েঘর তুললেন চেষ্টা চরিত্র করে, ছাদে একটা ফুটো রেখে দিলেন ধোঁয়া বেরোতে পারবে (সে ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে কাঠবিড়ালি অনেক কিছুই ঢুকতো ঘরে !) ।

স্যামের তর সইছিলোনা কখন তিনি তাঁর নিজের খনিটা আবিস্কার করবেন । রাতের খাবার সেরে তিনি বেরিয়ে পরলেন একা, চকচকে রুপার তাল পড়ে থাকতে দেখবেন আশা করছিলেন তিনি এবং কি আশ্চর্য ওরকম রুপালী ধাতুর টুকরো অনেক পড়ে আছে পথের ধারে! পকেট ভর্তি করে ওসব কুড়িয়ে ছাউনিতে ফিরে এলেন তিনি, সংগীদের চমকে দিতে তর সইছেনা তাঁর ।

তবে সাথে সাথে ফাঁস করলেননা কি গুপ্তধন পেয়েছেন তিনি পথের ধারে, যখন সবাই চেপে ধরলো হেলাভরে ছুঁড়ে মারলেন তিনি "রুপার" টুকরাগুলো, সংগীদের উত্তেজনা দেখে কে ! কিন্তু মিঃ টিলু অভিজ্ঞ লোক, বললেন "ওগুলো মাইকা মানে অভ্র, এক হন্দর অভ্রের দাম দশ সেন্ট !!

কয়েক সপ্তাহ খন্তা কোদাল দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করার পর স্যাম ক্লিমেন্স বুঝলেন আর যাই হোক গ্রানাইট পাথর ভেঙে সোনা বা রুপা বের করা তাঁর কাজ নয় । প্রচন্ড জ্বর আর মাথাব্যথা নিয়ে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে কার্সন সিটিতে ফিরে এলেন স্যাম ।

যখন তিনি তীব্র অবসাদ আর হতাশায় ডুবে আছেন, এমন সময় একটা চিঠি এলো তাঁর নামে । ভার্জিনিয়া সিটির থেকে প্রকাশিত টেরিটোরিয়াল এন্টারপ্রাইজ পত্রিকার মালিক/সম্পাদক জোসেফ টি গুডম্যান দেখেছেন স্যামের লেখা একজন অ্যামেচারের তুলনায় যথেষ্ট উন্নত মানের (1862 সালে নেভাডার কোন খনিশহরে পেশাদার সাংবাদিক ব্যাপারটার তেমন কদর ছিলনা বোধহয় )। সপ্তাহে পঁচিশ ডলার বেতনে সহকারী সম্পাদকের পদ খালি আছে এন্টারপ্রাইজে , মিঃ স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স কি এ চাকুরি করতে আগ্রহী ?

আগ্রহী মানে ? ঝাড়া একশো তিরিশ মাইল পায়ে হেঁটে অগাস্টের এক বিকেলে ভার্জিনিয়া সিটিতে হাজির হলেন স্যাম ক্লিমেন্স । এন্টারপ্রাইজ অফিসের রাস্তার উল্টো দিকে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে হল তাকে, এতো গাড়িঘোড়া চলছে রাস্তা দিয়ে, শহর বটে একখানা! প্রাদেশিক রাজধানী কার্সন সিটি থেকে ঢের জমকালো । পোশাক পরিচ্ছেদ খুবই মলিন যদিও । গায়ে নীল রংচটা একটা ফ্ল্যানেলের শার্ট, মাথায় একটা তোবড়ানো স্লাউচ হ্যাট , চুল দাড়ি সব এলো মেলো আর জট পাকানো ।

তবে আর কয়েকদিনের মধ্যেই আর সব সাংবাদিকের মতো ফিটফাট হয়ে গেলেন তিনি । কেবল একটা ব্যাপার বাদে, তখনকার দিনে কোমরে পিস্তল ঝোলানো ফ্যাশনের অপরিহার্য অংশ ছিলো, শান্তিবাদী টোয়েন কাউকে হত্যা করেননি, করার প্রবৃত্তিও ছিলোনা, তাই তিনি নিরস্ত্রই রয়ে গেলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:২৯
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×