লিভির মন গলানোর জন্য আত্বত্যাগের পরাকাষ্ঠা স্বরুপ প্রতিজ্ঞা করেন, এখন থেকে তিনি রোজ গীর্জায় যাবেন, অসংযত ভাষাটা সামলাবেন, দিনের তিরিশটা চুরুট পাঁচটায় নামিয়ে আনবেন এতে তাঁর প্রান যায় যাক (একটাও কার্যত করেননি তিনি!) ।
শেষের কয়েকটা চিঠিতে লিভি বেশ নরম হয়েছেন ভেবে ছুটে গেলেন এলমিরায় । কিন্তু এবারে খুবই শীতল অভ্যর্থনা পেলেন সবার কাছ থেকে, পিয়ানোর সাথে তাঁর গানের গলা শুনে কেউ প্রশংসা করলোনা, তাঁর চুটকি শুনে হাসলো না, লিভিকে আরেকবার প্রস্তাব দিতেই তিনিও বলে বসলেন "না" ।
মার্ক টোয়েন ভাবলেন সোনার খনিতে কাজ করার পর এতো বেশি পরিশ্রমে এতো কম লাভ সম্ভবত আর কখনো বরাতে জোটেনি, সন্ধ্যার ট্রেনেই তিনি চলে যাবেন ভাবলেন ।
পরিবারের সবার সাথে বিদায় নিয়ে চার্লির সাথে ঘোড়ারগাড়িতে চড়ে বসলেন টোয়েন । কোচোয়ান চাবুক কষালো ঘোড়ার পিঠে গাড়িটা ছুটে গেলো সামনে আর আলগা আসনে বসে থাকা চার্লি আর স্যাম পড়ে গেলেন পিছনের দিকে একটা খোয়া আর বালি ভর্তি গর্তে !
বাড়িশুদ্ধ লোক ছুটে এলো । এমন জখম নিয়ে অতিথিকে ট্রেনে তুলে দেবার প্রশ্নই ওঠেনা, ধরাধরি করে বৈঠকখানায় নিয়ে আসা হলো টোয়েনকে, সবাই যখন ডাক্তারের খোঁজে ব্যস্ত, লিভি তখন মার্ক টোয়েনের মাথাটা মালিশ করতে লাগলেন । দুসপ্তাহ রইলেন তিনি ল্যাংডন বাড়িতে ।
এই ফাঁকে লিভির মন গলাতে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন, লিভি বললেন বিয়ে ব্যাপারটা তাঁর বাবার মতের ওপর নির্ভর করে । আসলে ব্যাপার হচ্ছে ল্যাংডন পরিবারের সবাই মার্ক টোয়েনকে পছন্দ করতেন, তাঁর কাছে আসতে পারাটা সৌভাগ্য মনে করতেন ।
কিন্তু তাঁদের আদুরে কন্যার বর হিসেবে তিনি তাঁদের কাছে মোটেই উপযুক্ত ছিলেননা "নট গুড হাজব্যান্ড ম্যাটেরিয়াল" (!), মার্ক টোয়েন সম্বন্ধে লিভির মায়ের বিখ্যাত উক্তি ।
তবে এই দুর্ঘটনায় শাপে বর হলো, বরফ অনেকটাই গললো ল্যাংডন দম্পতি ও তাঁদের হবু জামাতার মধ্যে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




