somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়ে-নেকড়ে

২৮ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ইটালিক]গতবার দিয়েছিলাম 'মায়া নেকড়ে' এবারে দিলাম 'মেয়ে-নেকড়ে' । লেখক যদিও একজনই--সাকি, (এইচ এইচ মানরো) তবে এটা হরর নয়; নেহায়তই হাসির গল্প[/ইটালিক]

She Wolf, Saki

লেনার্ড বিলিস্টার হচ্ছে সেইসব লোকেদের একজন যারা এই দুনিয়াটাকে পানসে মনে করে অন্য কোনো নিজের আবিষ্কৃত বা 'অতিন্দ্রীয়' দুনিয়ার ধান্দাতে আছে । বাচ্চারাও এমন কাজ করে বটে কিন্তু তারা সাধারনত নিজেদের কল্পিত জগতকে নিজেদের মধ্যেই রাখে, গোটা দুনিয়াকে কল্পিত জগতে টেনে আনে না । লেনার্ড বিলিস্টারের জগত অবশ্য কেবল 'কতিপয়' লোকের জন্য, যারা ধৈর্য ধরে তার কথা শুনবে ।

লেনার্ডের কার্য-কলাপ হয়তো ড্রইং বিহারী অল্প কিছূ লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো যদি না একটা আকস্মিক ঘটনায় তার আজগুবি গল্পের ভান্ডার ফুলে না উঠত। এক বন্ধুর উরাল পর্বতের ধারের একটা খনি সংক্রান্ত কোনো একটা কাজে তাকে একটা ভয়ানক রেল ধর্মঘটের সময়ে পুর্ব ইউরোপ পেরিয়ে রাশিয়াতে যেতে হয়েছিল । ট্রেনটা যখন পার্ম শহরের ধারে কয়েকদিন স্থানু হয়ে আছে তখন এক ঘোড়ার লাগামের আড়তদারের সাথে আলাপ হয় তার । যাত্রার একঘেয়েমী কাটানোর জন্য বৈকাল হ্রদ অঞ্চলের ব্যাবসায়ী আর স্থানীয় লোকদের অনেক গল্প কথা শুনিয়েছিল এই ইংরেজ টুরিস্টকে ।

বাড়ি ফিরে ধর্মঘট সম্বন্ধে বেশ দু'কথা বললেও সে কী এক 'অত্যন্ত গোপন' আধ্যাতি্বক বিষয় রাশিয়া তে শুনে এসেছে সে ব্যাপারে বিলিস্টার প্রায় সপ্তাহ দুই বেশ চুপচাপ ছিল । তারপরে 'সাইবেরিয়ান ম্যাজিক' নামে সে নিজের সদ্য পাওয়া অলৌকিক ক্ষমতার বয়ান করতে শুরু করল । তার খালা সিসিলিয়া হুপ, যিনি আবার নিঁখাদ সত্যের চেয়ে চটক বেশী পছন্দ করতেন লেনার্ডের ঢোল পেটানো শুরু করলেন । নিজের কল্পনা মিশিয়ে মিসেস হুপ বললেন, লেনার্ড মন্ত্রবলে । তাঁর চোখের সামনেই একটা বাঁধাকপি কে বন-পায়রাতে পাল্টে দিয়েছে ।

অবশ্য সবাই এসব কান কথায় বিশ্বাস করেনি । মেরি হ্যাম্পটনের বাড়ির পার্টিতে যখন পরেরবার ডাক পড়ল ততদিনে লেনার্ড, অতিন্দ্রীয় জগতের কথা বেশ খোলাখুলিই বলতে শুরু করেছে সে । নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে এমন ইঙ্গিত দিল সে, জানালো অন্য জগতের শক্তিদের সাথে তার বেশ ঘনিষ্ঠ চিন-পরিচয় আছে ।

'আপনি যদি আমাকে একটা নেকড়েতে পাল্টে দিতে পারতেন মি. বিলিস্টার!' পরদিন বিলিস্টারের কাছে আব্দার করলেন গৃহকর্ত্রী ।

'মেরি,' বললেন কর্নেল হ্যাম্পটন । 'তোমার যে আবার এসব দিকে ঝোঁক আছে সেটা তো আগে বুঝিনি ।'

'মেয়ে-নেকড়ে,' বলে চললেন মিসেস হ্যাম্পটন । 'রুপান্তরের পরে লিঙ্গ-ঘটিত কোনো জটিলতায় পড়তে চাই না আমি ।'

'এসব নিয়ে ঠাট্টা করতে নেই,' বলল লেনার্ড ।

'আমি মোটেই ঠাট্টা করছি না, আমি খুব সিরিয়াস । তবে আজ এ রকম করবেন না । মাত্র আটজন ব্রিজ খেলোয়াড় আছে এখানে । আগামীকাল আরেকটা বড় পার্টি হবে । ডিনারের পরে-'

'অতিন্দ্রীয় জগত সম্বন্ধে আমাদের অস্পষ্ট ধারনার কারনে এরকম পরীক্ষা নিরীক্ষা অত্যন্ত সাবধানে চালাতে হবে ।' এতো গম্ভীরভাবে বলল লেনার্ড যে এ প্রসঙ্গ তখনই ধামাচাপা পড়ল ।

লাঞ্চের সময় সাইবেরিয়ান ম্যাজিক নিয়ে আলোচনার সময় ক্লোভিস স্যাংরেল একদম মুখে কুলুপ এঁটে ছিল । লাঞ্চের পরে লর্ড প্যাবহ্যাম কে খুঁজে বের করে বিলিয়ার্ড রুমের নির্জনতায় প্রশ্নটা করল ক্লোভিস ।

'আপনার জন্তু জানোয়ারের সংগ্রহে কী কোনো মোটামুটি শান্ত মাদী-নেকড়ে আছে?'

চিন্তা করলেন লর্ড প্যাবহ্যাম । 'টিম্বার উলফ, লুইসা আছে । দু'বছর আগে কিছু মেরু শেয়ালের বিনিময়ে আমি ওকে সংগ্রহ করেছিলাম । আমার সাথে বেশ খানিকটা সময় থাকলেই প্রায় যে কোনো জানোয়ার বশ মেনে যায় । অন্তত নেকড়েদের তুলনায় লুইসার মেজাজ-মর্জি খুব ভাল বলতে পারি । হঠাৎ এই প্রশ্ন কেনো ?'

'আমি ভাবছিলাম আগামীকাল রাতের জন্য নেকড়েটাকে আপনি ধার দিতে পারেন কি না ?' যেন একটা কলারের স্টাড বা টেনিস র
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৫৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×