somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 24)

৩১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূবে রুপার খনি ছিল না , কিন্তু টোয়েন অন্যান্য জায়গায় টাকা ঢালতে লাগলেন, শেয়ার বাজার, অন্যদের আবিস্কার এসবে । একজন লোক একটা স্টিম জেনারেটরের প্যাটেন্ট নিয়ে এলো তাতে নাকি নব্বই ভাগ কয়লা সাশ্রয় হবে । মোটা টাকা ঢাললেন ক্লিমেন্স, এবং নয় ডলারও ফেরত পেলেন না । তারপরে এলো এক স্টিম-পুলি আবিস্কারক, তাতেও মেলা টাকা নষ্ট হলো । শেষমেষ জনৈক ভদ্রলোক এলেন টেলিফোন নামের একটা যন্ত্রের উন্নতি কল্পে লগি্নর জন্য, নাম তাঁর আলেকজান্ডার গ্রায়াম বেল । ততোদিনে মার্ক টোয়েন চালাক (?) হয়ে উঠেছেন, এক পয়সা খাটালেন না তিনি টেলিফোনের পিছনে ! অনেকদিন পরে তিনি লিখেছেন এ ব্যাপারে,

"I declined. I said I did not want any more to do with wildcat
speculation .... I said I didn't want it at any price. He (Bell)
became eager; and insisted I take five hundred dollars' worth. He
said he would sell me as much as I wanted for five hundred dollars;
offered to let me gather it up in my hands and measure it in a plug-
hat; said I could have a whole hatful for five hundred dollars. But
I was a burnt child, and resisted all these temptations--resisted
them easily; went off with my money, and next day lent five thousand
of it to a friend who was going to go bankrupt three days later



টেলিফোনের প্যাটেন্ট কিনলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনীদের একজন হতে পারতেন তিনি ।

সাধারনত কোনো ব্যার্থতায় খুব একটা ঘাবড়ে যেতেন না টোয়েন । অকালে পরোলোকগত, দরিদ্র পিতার সন্তান, এগারো বছর বয়স থেকে কাজ করে অভ্যস্ত । দারিদ্রকে কুব কাছের থেকে দেখেছেন ও জয় করেছেন । পশ্চিমে সোনার খনির হদিস পান নি কিন্তু স্রেফ প্রতিভা আর সৃজনশীলতার জোরে বিশাল দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন, প্রতিকুল প্রেমে জিতে নিয়েছেন ধনীর দুহিতা প্রেয়সীকে । একটা প্রজেক্ট ব্যার্থ হলে আরেকটা বই লিখে পুষিয়ে নেবেন । পরোয়া কিসের টাকা খরচের? তিনি তো নিজেই বলেছেন যে তিনি পঁচাত্তর বছর বাঁচবেন । তাহলে তো আরো প্রায় ত্রিশ বছর আয়ু আছে তাঁর!

নো চিন্তা ডু ফুর্তি ।

সে যা হোক, একদিন পত্রিকায় 'রিভার চ্যাপ্টার্স,' উল্টে পাল্টে মনে হলো মিসিসিপি নদীতে আরেকবার যেতে পারলে বেশ হতো । যেমন চিন্তা তেমনই কর্ম, একুশ বছরে মিসিসিপি নদীর কী কী পরিবর্তন হয়েছে দেখার জন্য সেইন্ট লুই থেকে নিউ অর্লিয়ন্স পর্যন্ত একটা স্টিমার যাত্রার কথা ভাবতে লাগলেন তিনি । প্রকাশক অসগুডও সঙ্গে যাবেন ঠিক হলো । অসগুড একজন স্টেনোগ্রাফারের ব্যাস্থা করলেন যে সব টুকে রাখবে ।

সেইন্ট লুইতে গিয়ে ছদ্মনামে স্টিমার 'গোল্ড ডাস্টে' চাপলেন টোয়েন । কিন্তু কোনো ফায়দা হলো না । স্টিমারের লোকজন ঠিক চিনে ফেলল তাঁকে । পাইলট যাবার হাউজে আমন্ত্রণ এল । যাত্রার বেশির ভাগ সময় পাইলটের সাথে কথা বলে কাটালেন তিনি ।

কায়রো শহরে এসে নদীটা অনেক চওড়া হয়ে গেছে, তখন মিসিসিপি পুরো ভরা । মাঝ নদীতে যেখানে কোনো কিছুতে ধাক্কা লাগার ভয় নেই সেখানে মার্ক টোয়েনকে হাল ধরতে দিয়ে নিজে বিশ্রাম নিতে পাইলট । হুইল ধরে টোয়েনের মনে হলো না যে আসলে এতো গুলো বছর কেটে গেছে । বিশেষ করে সকাল বেলার ওয়াচে দাঁড়াতেন টোয়েন ।

নদীটা অনেক জায়গায় পাল্টে গেছে । খরস্রোতা চিরযৌবনা মিসিসিপি নদীর পার ভেঙ্গে, নতুন চর গড়ে উঠে যে সে সবসময়েই ভাঙ্গা-গড়ায় ব্যাস্ত থাকবে তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে? আর মানুষও তো এই একুশ বছরে বসে থাকেনি । কিন্তু নদী যখন পুরো ভরাট তখন এ সবে কিছু আসে যায় না । পুরনো ওস্তাদ হোরেস বিক্সবিকে লিখলেন টোয়েন-'আর কিছু হবার চেয়ে আমি সারা জীবন মিসিসিপি নদীর পাইলট হতেই পছন্দ করব বেশি ।'

নিউ অর্লিয়ান্সে গিয়ে বিক্সবির সাথে দেখা হলো । বিক্সবি এখন 'সিটি অভ ব্যাটন রুজ' জাহাজের ক্যাপ্টেন । এই 'ব্যাটন রুজে' চড়েই ক্লিমেন্স সেইন্ট লুইতে ফিরে এলেন । তাঁদের দুজনের মানে গুরু-শিষ্যের প্রথম দেখা হয়েছিল প্রায় পঁচিশ বছর আগে । যাত্রার সময় টোয়েন, একজন পাইলটের মতই জাহাজের লগবুকে নোট নিতেন ।

সেইন্ট লুই ছাড়িয়ে ক্লিমেন্স ছোটবেলার পুরনো শহর হ্যানিবালে কয়েকদিন কাটালেন । দারুন মজা পেলেন পুরনো বন্ধুদের ( যারা তখনো হ্যানিবালে ছিল) সাথে দেখা করে । তারপরে আবার স্টিমারে করে আরো উজানে সেইন্ট পল শহরে গেলেন ।

চারপাশের দৃশ্য মুগ্ধ করলেও টোয়েন বুঝলেন স্টিমারের সোনালী দিন শেষ । মানুষ আর স্রেফ জাহাজের উপর নির্ভর করে বাঁচতে রাজী নয় । আর প্রায় সব জায়গাতেই ট্রেন এসে গেছে ।

1882 সালের গ্রীস্মকালটা পুরোটাই কোয়্যারি ফার্মে কাটালেন মিসিসিপির উপর লেখা বইটার উপর কাজ করে । বইটা বাজারে এল পরের বছর । ছাপালেন অসগুড আর বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন চার্লস ওয়েবস্টার । ওয়েস্টার আবার মার্ক টোয়েনের ভাগ্নী-জামাই । তিনি পামেলার মেয়ে অ্যানি মোফেটকে বিয়ে করেছিলেন । মার্ক টোয়েন তখন নিজেই নিজের প্রকাশক হবার পায়ঁতারা করছিলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×