somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে ঃ রাশেদা

০৮ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(( একটি সত্য ঘটনা অবলম্ভনে ))
ছোট্র মেয়ে রাশেদা । বয়স আর কতই হবে ধরেন চার, পাঁচ । দুরন্ত প্রকৃতির এই মেয়েটি অনূপম সুন্দর- যেন , সুরভিত কুসুমকলি । নিষ্পাপ চেহারা আর ফুলের মত সুষমা মন্ডিত ছিল । পিতা মাতার অনাদরে অবহেলায় ভেরে উঠা এই মেয়েটি ক্রমে ক্রমে শিশূসুলভ দুষ্টুমি কিংবা চপলতা হারিয়ে ফেলেছিল । রাশেদারা পাঁচ ভাই বোন । ভাই বোনদের মধ্যে সে চতুর্থ । তার ছোট আরেকটি বোন আছে । রাশেদার একমাত্র ভাইটি সংসারের তৃতীয় সন্তান । ছেলে হিসাবে বাবা-মা , আত্মিয় স্বজন সহ সকলেরই আদরের ধন । আদর -আহলাদ , স্নেহ-মমতা সবই তার দখলে । এই অভাবের সংসারেও তার বাবা-মা ছেলের সব আবদার পূর্ণ করতে কৃপনতা করেননা । একদিন ঃ ভাদ্রমাসের পড়ন্ত বিকাল , ভাঠির সমতল গ্রামগূলি সোনার জলে ভাসতেছে । ছোট বড় নৌকা গুলূ ধবল পাখা বিস্তার করে যার যার গন্তব্য পথে ছুটে চলছে । রাশেদা বাড়ীর আঙিনায় খেলা করছিল । সহসা তার চোঁখ পড়ল বাড়ীর অদূরে । বাড়ীর তীর ঘেঁষে একখানা নৌকা আসছে । রাশেদার ছোট কৌতুহলি মনে আগ্রহ জন্মাল । দৌরে গেল নৌকার কাছে । তার বাবা হাট থেকে সওদা নিয়ে ফিরেছেন । সাংসারিক জিনিষ পত্র সবজি,তরিতরকারী আরো কত কিছু ! রাশেদার বাবার হাতে বড় একটি মাছ ! রূই মাছ । মাছটি দেখে রাশেদার চোঁখ তো ছানাবড়া । দৌরে বাবার কাছ থেকে মাছটি নিয়ে বাড়ীর ভিতরে এল । মা..মা..বলে খুশিতে চিৎকার করতে লাগল । মাছটি কাটার জন্য মা রান্না ঘরে দা নিয়ে বসলেন । রাশেদাও মায়ের কাছে আগ্রহ ভরে মাছ কাটা দেখছে । তার মনে যেন আনন্দে আর ধরেনা । রাশেদা লোভ সামলাতে পারলনা । মায়ের কাছে আবদার করল ঃ ''মা , মাছের মাথাটি কিন্ত আমাকে দিতে হবে'' । মা ধমক দিলেন ''যাও পড়তে যাও, রান্না বান্না শেষ হলে খেতে ডাকব'' । রাশেদা খুশি মনে ভাই বোনদের সাথে পড়তে গেলো । খাবার সময় মা ডাকলেন । রাশেদা আর তার বোনেরা রান্নাঘরে ছাঠাই বিছিয়ে বসল । তার বাবা এবং ভাইয়ের জন্য শোবার ঘরে বিছানার উপড় খাবার সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে । রাশেদা অধির আগ্রহে তালায় ভাত নিয়ে বসে আছে । মা হাড়ি থেকে নামিয়ে তরকারি পাতে ডাললেন , সাথে রূই মাছের এক ঠুকরা পেঠি । রাশেদা বলল ঃ ''মা , মাছের মাথা কোথায় ? মাথা ছাড়া আমি ভাত খাবনা । মাথাটি আমার চাই-ই '' । মা ধমকালেন বললেন ঃ ''মেয়েদেরকে এসব খেতে নেই । মাছের মাথাটি তোমার বাবা ও ভাইকে দেওয়া হয়েছে । এখন ছুপ করে ভাত খেয়ে উঠ '' । রাশেদর কচি মন বিষাদে ভরে গেল , টিক যেন লান্বিচতা,অপমানিতা ও দুখিনীর মত । ঋদয়ের জমাট বাঁধা কান্নার বেগ সামলাতে না পেরে সহসা ঢুকড়ে কেঁদে উঠল । নয়নের দুই ধারায় নোনা জলের বন্যা বইতে শুরূ করল । তার মা আবারো ধমকালেন এবং বললেন ঃ'' ভাত খেয়ে নাও'' । কিন্ত রাশেদা খায়না , তার কান্নায় প্রবল বেগ ধারন করল । বাবা লাটি হাতে তেঁড়ে আসলেন । তিব্র হূংকার ছাড়লেন , চিৎকার করে বলতে লাগলেন যে , '' চুপ কর হারামজাদি , নইলে তোকে আজ মেরে ফেলব । ছেলে হয়ে দুনিয়ায় আইলেনা কেন ? তাহলে কোন দুঃখ ছিলনা ''। রাশেদার কচি মন বাবার চিৎকার আর গর্জনে ভয়ে আরষ্ট হয়ে গেলো । মায়ের আচলে ধরে যেন একটু আশ্রয়ের পথ খুজছিল । ভয়ে তার শরীরে জর এসে গেলো , প্রচন্ড জর !! মা তার শিয়রে বসে মাথায় পানি ডালছেন । ভোর বেলা যখন স্বর্গের ঊষা মর্ত্যে নেমে এসে ঘরে ঘরে শান্তি বিলাচ্ছে । মোয়াজ্জিনের কনঠে সুমধূর আজানের ধবনি ভেসে আসছে তখন রাশেদাদের বাড়ীতে কান্নার আওয়াজ !! একি ! সকলেই ছুটে গেলো তাদের বাড়ীতে । একটি সাদা বিছানার উপর রাশেদার নিস্পাপ, নিস্তব্দ , নিথর শরীর খানা পড়ে আছে । মৃত্যুর আগে প্রচন্ড জরের মধ্যে নাকি আবোল-তাবোল বকছিল ঃ ''মা, আমাকে মেরে ফেলবে, মা... আমি মাথা খাবনা মা..মা মাথা খাবনা '' ।
বিশ্ব নারী দিবসে রাশেদার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে তার বিদ্রুপের পাত্র হতে চাইনা ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:২৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×