আল্লাহ পাক ছামূদ জাতির উদ্দেশ্যে বলছেন ঃ ''তোমরা ঐ কথা স্মরন কর যখন তিনি আল্লাহ আদ জাতির পর তোমাদেরকে প্রতিনিধি করলেন'' । (সুরা আরাফ ঃ 74-এর প্রথমাংশ)
আদ জাতিকে আল্লাহ তায়ালা আগেই ধবংস করে দিয়ে ছিলেন । আদ জাতির পর ছামূদ জাতিও অন্যায় অত্যাচার ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ল । তাদের সময় জাতির চরিত্রহীন লোকদের নেতৃত্ব কায়েম হয়ে ছিল । ছামূদ জাতির লোকেরা বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী ছিল । তাদের মধ্যে ধনী লোকের সংখ্যা ছিল খুব বেশী । গরম কালে তারা সমতলে মাটির ঠান্ডা ঘরে বাস করত । আর শীত কালে পাহাড়ের পাকা বাড়ীতে থাকত । কাজেই ক্রমশ ঃ আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে ভোগ ও ঐশ্বর্য নিয়ে মেতে রইল । এবং তারা সবাই মূর্তিপূজা করতে লাগল ।
এসময় আল্লাহ তায়ালা হজরত ছালেহ (আঃ ) কে সত্যের দাওয়াত দিয়ে তাদের কাছে পাঠালেন । কিন্ত তাহারা নবী (আঃ ) এর কথায় কান দিলনা । বরং তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতে লাগল । হজরত ছালেহ ( আঃ ) একদিন তাদের কাছে সত্যের দাওয়াত নিয়ে গিয়ে ছিলেন । তখন তাদের অনেকেই নবীবে হত্যা করতে উদ্যত হল । কিন্ত অধিকাংশ কাফের বলে উঠল ঃ ''আচ্ছা তুমি যদি সত্য নবী হয়ে থাকো তাহলে আমরা দেখতে চাই -সামনের ঐ পাহাড়ের পাথর থেকে একটি গর্ভবতী উটনী যেন বের হয় । এবং সে উটনী যেন আমাদের সামনেই বাচ্ছা প্রসব করে । এবং বাচ্ছাটি যেন তার মায়ের সাথে ছুটাছুটি করে '' !!
তখন নবী ( আঃ ) -এর দোয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাদের কথা মত উটনীকে বাহির করে প্রসব করালেন । এই উটনী ও তার বাচ্ছাই হজরত ছালেহ (আঃ ) এর নবুওয়াতের নিদর্শন ।
এই অলৌকিক ঘটনা দেখে খুব অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনল । আর বাকিরা তাঁকে যাদুকর আখ্যায়িত করল ।
এর পর তিনি তাঁর জাতিকে বললেন ঃ ''ভাইসব ! এই উটনীকে তোমরা সযত্নে লালন-পালন করবে । এবং এর দুধ ইচ্ছামত পান করবে । তবে সাবধান ! তোমাদের দ্্বারা যেন উটনীর কোন ক্ষতি না হয় '' ।
যাক ঃ উটনী আসার ফলে একটি নতুন সমস্য দেখা দিল । ছামূদ বংশের লোকজন ও তাদের গৃহপালিত পশূগুলো যে কুয়ায় পানি পান করত , উটনীটি সেই কুয়ার পানি পান করে নিঃশেষ করে দিল । তা দেখে তাহারা চিন্তিত ও রাগান্বিত হয়ে গেল । তখন হজরত ছালেহ (আঃ ) তাদেরকে পরামর্শ দিলেন যে , ''তোমরা পালা করে -একদিন তোমরা এবং আরেকদিন উটনী পানি পান করবে । যে দিন উটনীর পালা সেদিন তোমরা তার দুধ দোহন করে পান করবে । তবে কোন অবস্তাতেই যেন উটনীর কষ্ট না হয় । মনে রাখবে ! তোমরা যদি উটনীর কোন ক্ষতি কর তাহলে তোমাদের উপড় আল্লাহর গজব আসবে '' ।
গরীব বিশ্বাসী ছামূদেরা নবীর কথা মত জীবন-যাপন করতে লাগল । কিন্ত ধনী অবিশ্বাসিরা অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করতে লাগল । ওরা একদিন নবীর কথা অগ্রাহ্য করে উটনীকে হত্যা করে তার মাংস খেয়ে হাসি-ঠাট্রা করতে লাগল । উটনীর বাচ্ছাটি মায়েরএই দূরাবসহা দেখে পাহাড়ের ঐ পাথরের কাছে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল ।
আল্লাহ বলছেন ঃ
''ছামূদ জাতি নিজেদের দুষ্টামির দরূন ছালেহের কথা অবিশ্বাস করল । যখন ঐ কওমের সর্বাপেক্ষা হতভাগা লোকটি (উটনীকে হত্যার জন্য ) প্রস্তত হল তখন আল্লাহর রাসুল (ছালেহ) বললেন উটনীকে সপর্স করা এবং এর পানি পানে বাধা দেওয়া থেকে তোমরা সাবধান থাক । কিন্ত তাঁর কথা তারা প্রত্যাখ্যান করল এবং উটনীকে মেরে ফেলল ''। (সুরা শামস ঃ 11-13 ও 14এর প্রথমাংশ)
সংবাদ পেয়ে হজরত ছালেহ (আঃ ) এসে বললেন ঃ ''তোমাদেরকে পুনঃ পুনঃ সতর্ক করা সত্তেও উটনীকে হত্যা করেছো-''বেশ এখন নিজ নিজ গৃহে আরাম করে নাও কারণ আরো তিন দিন পর তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে'' ।
(সুরা হূদ ঃ 65 মধ্যাংশ)
তখনও তাহারা বিশ্বাস করলনা । তার তিনদিন পর সত্যি সত্যি আকাশ থেকে এক বিরাট বজ্রধবনি হল । এবং সেই ভয়ংনকর আওয়াজে কাফেরদের মৃত্যর্ু হল ।
আল্লাহ বলছেন ঃ
''অবশেষে যখন আমার ফয়সালার সময় এসে গেল তখন আমি ছালেহ ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনে ছিল তাদেরকে আমার করূণায় বাঁচিয়ে দিলাম এবং সে দিনের লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করলাম'' ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




