somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধ্বংস প্রাপ্ত ছামূদ জাতি ও এক অলৌকিক উটনীর কাহিনী

২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'হিজর' নামক সহানটি ছিল ছামূদ জাতির আবাসসহল । তাবুক অভিযানকালে নবী ( সাঃ )তাঁর সাহাবীদের এই সহানটিকে দেখিয়ে ছিলেন । ছামূদ জাতির লোকেরা পাহাড় খোদাই করে যে সব দালান-কোঠা তৈরী করেছিল সেগুলোর নিদর্শন এখনও পাওয়া যায় ।

আল্লাহ পাক ছামূদ জাতির উদ্দেশ্যে বলছেন ঃ ''তোমরা ঐ কথা স্মরন কর যখন তিনি আল্লাহ আদ জাতির পর তোমাদেরকে প্রতিনিধি করলেন'' । (সুরা আরাফ ঃ 74-এর প্রথমাংশ)

আদ জাতিকে আল্লাহ তায়ালা আগেই ধবংস করে দিয়ে ছিলেন । আদ জাতির পর ছামূদ জাতিও অন্যায় অত্যাচার ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ল । তাদের সময় জাতির চরিত্রহীন লোকদের নেতৃত্ব কায়েম হয়ে ছিল । ছামূদ জাতির লোকেরা বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী ছিল । তাদের মধ্যে ধনী লোকের সংখ্যা ছিল খুব বেশী । গরম কালে তারা সমতলে মাটির ঠান্ডা ঘরে বাস করত । আর শীত কালে পাহাড়ের পাকা বাড়ীতে থাকত । কাজেই ক্রমশ ঃ আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে ভোগ ও ঐশ্বর্য নিয়ে মেতে রইল । এবং তারা সবাই মূর্তিপূজা করতে লাগল ।
এসময় আল্লাহ তায়ালা হজরত ছালেহ (আঃ ) কে সত্যের দাওয়াত দিয়ে তাদের কাছে পাঠালেন । কিন্ত তাহারা নবী (আঃ ) এর কথায় কান দিলনা । বরং তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতে লাগল । হজরত ছালেহ ( আঃ ) একদিন তাদের কাছে সত্যের দাওয়াত নিয়ে গিয়ে ছিলেন । তখন তাদের অনেকেই নবীবে হত্যা করতে উদ্যত হল । কিন্ত অধিকাংশ কাফের বলে উঠল ঃ ''আচ্ছা তুমি যদি সত্য নবী হয়ে থাকো তাহলে আমরা দেখতে চাই -সামনের ঐ পাহাড়ের পাথর থেকে একটি গর্ভবতী উটনী যেন বের হয় । এবং সে উটনী যেন আমাদের সামনেই বাচ্ছা প্রসব করে । এবং বাচ্ছাটি যেন তার মায়ের সাথে ছুটাছুটি করে '' !!

তখন নবী ( আঃ ) -এর দোয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাদের কথা মত উটনীকে বাহির করে প্রসব করালেন । এই উটনী ও তার বাচ্ছাই হজরত ছালেহ (আঃ ) এর নবুওয়াতের নিদর্শন ।
এই অলৌকিক ঘটনা দেখে খুব অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনল । আর বাকিরা তাঁকে যাদুকর আখ্যায়িত করল ।
এর পর তিনি তাঁর জাতিকে বললেন ঃ ''ভাইসব ! এই উটনীকে তোমরা সযত্নে লালন-পালন করবে । এবং এর দুধ ইচ্ছামত পান করবে । তবে সাবধান ! তোমাদের দ্্বারা যেন উটনীর কোন ক্ষতি না হয় '' ।

যাক ঃ উটনী আসার ফলে একটি নতুন সমস্য দেখা দিল । ছামূদ বংশের লোকজন ও তাদের গৃহপালিত পশূগুলো যে কুয়ায় পানি পান করত , উটনীটি সেই কুয়ার পানি পান করে নিঃশেষ করে দিল । তা দেখে তাহারা চিন্তিত ও রাগান্বিত হয়ে গেল । তখন হজরত ছালেহ (আঃ ) তাদেরকে পরামর্শ দিলেন যে , ''তোমরা পালা করে -একদিন তোমরা এবং আরেকদিন উটনী পানি পান করবে । যে দিন উটনীর পালা সেদিন তোমরা তার দুধ দোহন করে পান করবে । তবে কোন অবস্তাতেই যেন উটনীর কষ্ট না হয় । মনে রাখবে ! তোমরা যদি উটনীর কোন ক্ষতি কর তাহলে তোমাদের উপড় আল্লাহর গজব আসবে '' ।
গরীব বিশ্বাসী ছামূদেরা নবীর কথা মত জীবন-যাপন করতে লাগল । কিন্ত ধনী অবিশ্বাসিরা অবাধ্যতা ও হঠকারিতা প্রদর্শন করতে লাগল । ওরা একদিন নবীর কথা অগ্রাহ্য করে উটনীকে হত্যা করে তার মাংস খেয়ে হাসি-ঠাট্রা করতে লাগল । উটনীর বাচ্ছাটি মায়েরএই দূরাবসহা দেখে পাহাড়ের ঐ পাথরের কাছে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল ।

আল্লাহ বলছেন ঃ
''ছামূদ জাতি নিজেদের দুষ্টামির দরূন ছালেহের কথা অবিশ্বাস করল । যখন ঐ কওমের সর্বাপেক্ষা হতভাগা লোকটি (উটনীকে হত্যার জন্য ) প্রস্তত হল তখন আল্লাহর রাসুল (ছালেহ) বললেন উটনীকে সপর্স করা এবং এর পানি পানে বাধা দেওয়া থেকে তোমরা সাবধান থাক । কিন্ত তাঁর কথা তারা প্রত্যাখ্যান করল এবং উটনীকে মেরে ফেলল ''। (সুরা শামস ঃ 11-13 ও 14এর প্রথমাংশ)

সংবাদ পেয়ে হজরত ছালেহ (আঃ ) এসে বললেন ঃ ''তোমাদেরকে পুনঃ পুনঃ সতর্ক করা সত্তেও উটনীকে হত্যা করেছো-''বেশ এখন নিজ নিজ গৃহে আরাম করে নাও কারণ আরো তিন দিন পর তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে'' ।
(সুরা হূদ ঃ 65 মধ্যাংশ)

তখনও তাহারা বিশ্বাস করলনা । তার তিনদিন পর সত্যি সত্যি আকাশ থেকে এক বিরাট বজ্রধবনি হল । এবং সেই ভয়ংনকর আওয়াজে কাফেরদের মৃত্যর্ু হল ।
আল্লাহ বলছেন ঃ
''অবশেষে যখন আমার ফয়সালার সময় এসে গেল তখন আমি ছালেহ ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনে ছিল তাদেরকে আমার করূণায় বাঁচিয়ে দিলাম এবং সে দিনের লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করলাম'' ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×