এই বিষয়টি নিয়ে সাদিক মোহাম্মদ আলম ভাই ও আস্তমেয়ে দীক্ষক দ্রাবীরের লেখার উপর খুব সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করেছেন । তবুও আমি আমার মতামত খুব সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি ।
সুফীবাদ কোন জাহেলীয়াত প্রসূত শিক্ষা নয় । বরং সুফীবাদের শিক্ষা খোদ রাসূল ( সাঃ ) কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে । এবং রাসূল ( সাঃ ) এর আনিত শিক্ষা ব্যাবস্তা কেয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে । রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) মদীনা মুনাওয়ারায় মসজিদ নির্মাণ করার পর পরই সংলগ্ন আরও একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন । এতে বাস করতেন সাংসারিক বাধাবন্ধনমুক্ত এক দল সাহাবায়ে কেরাম । তাহারা ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ । মসজিদে নববী সংলগ্ন সেই ঘরের নাম ছিল ''সুফফা'' আর এতে যারা বাস করতেন তাঁদের পরিচিতি ছিল ''আসহাবে সুফফা'' নামে । জানা যায় যে , তাসাউফের শিক্ষা-দীক্ষা হাতে-কলমে গ্রহনের জন্য 70 জন সাহাবী তথায় সর্বদাই অবসহান করতেন । আর এঁরাই আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত । পরবর্তীকালের সুফীয়ানে কেরামগণ সেই 'সুফফার' অনুকরণে ''খানকাহ'' নির্মাণ করে মুজাহিদ দরবেশগণের নিয়মিত প্রশিক্ষন দানের ব্যাবস্তা করতেন ।
প্রসংগত উল্লেখ করা যায় যে , ইসলামের প্রাথমিক যুগে নববী শিক্ষালয়ে ইসলামি জ্ঞানের সকল বিষয়ে একত্রে শিক্ষা দেয়া হত । এগুলোর পৃথক পৃথক কোন বিভাগ ছিলনা । এবং ইসলামের সেবকগণও তাঁদের মূল কেন্দ্রেই অবসহান করতেন । অতঃপর ইসলাম যখন বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করল তখন উলামায়ে কেরামগণ ইসলামের সেই শিক্ষা সমূহকে পৃথক পৃথক শাখায় বিন্যাস করেন । যাঁরা ইলমে হাদিসের সেবায় নিয়োজিত হলেন তাঁরা মুহাদ্দীস, যারা ইলমে তাফসীরের সেবায় নিয়োজিত হলেন তাঁরা মুফাসসীর , যারা ইলমে ফিকাহ এর সেবায় নিয়োজিত হলেন তাঁরা মুফতী বা ফকীহ এবং যারা ইলমে তাসাউফের শিক্ষায় নিয়োজিত হলেন তারা সুফী বা শায়েখ নামে খ্যাত হন ।
এর ফাঁকে ছোট একটা কথা বলতে চাই যে , একজন কৃষক তাঁর ক্ষেতে ধান চাষ করতে হলে কয়েক প্রকার মানুষের সাহায্য নিতে হয় , কেউ ধান বুনবে, কেউ রোপন করবে, কেউ আগাছা পরিষ্কার করবে , কেউ পানির সেঁচ দেবে, কেউ সার প্রয়োগ করবে ইত্যাদি । এতসব মানুষের পরিশ্রমের ফলে কৃষকের ঘরে ধান উঠতে পারে । এখানে সকলেরই অবদান একটু একটু আছে ।
তদ্রুপ ইসলামের বেলায়ও মুহাদ্দীস, মুফাসসীর, তাবলীগ জামাত, ইসলামী লেখক, চিন্তাবিদ, সুফী সকলের কাজ ভিন্ন হতে পারে কিন্ত উদ্দেশ্য একই ।
সুতরাং বলা যায় যে সুফীবাদ ইসলাম বাহিরর্ভূত কোন বিষয় নয় । এবং তা কখনও জাহেলীয়াত প্রসূত হতে পারেনা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




