somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ছ"বগী সিট নং-"৫২"

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ গরম পড়েছে। স্টেশনে এসে দেখি
ছোট খাট ধোপাখানা। অনেককেই
দেখছি গায়ের জামা খুলে চিপচে।
ভেবেছিলাম জানালার পাশের
সিটটায় বসব। এসে
দেখি একজন দখল করে বসে আছে। মেয়ে
মানুষ। বলে কয়ে উঠানোও বারণ। যাই
হোক ট্রেনটা ছাড়াতে একটু স্বস্তি
পাওয়া গেল। হালকা ঠান্ডা বাতাস
গায়ে লাগছে। মাথার উপড় ফ্যানটার
বার্ধক্যে ধরেছে। আগের মত জান চলে
না। কয়েকজন আবহাওয়াবিদের কন্ঠ
শুনলাম।আজ দেশ জুড়ে বন্যা বয়ে যেতে
পারে। শরীর জুড়ে ক্লান্তি ভর করেছে। ঘুম ঘুম ভাব আসছে।


অনিন্দিতার কথা মনে পড়ছে।সেই কবে থেকে
ঘরকুনো হয়ে আছে,ব্যাঙের মত।আসার
সময় সঙ্গে নিয়ে আসতে ছেয়েছি।
বেড়ানোর কথা শুনলে তার শরীরে
মহামারি এসে হামলা করে।জ্বর,মাথা
ব্যথা,সর্দি,কাশি,নাম না জানা
অনেক অসুখের।সম্মতি আদায়ে পুরো ব্যর্থ। ওর যতসব ব্যতিব্যস্ততা পরিবার সুরক্ষায়।সম্ভবত
ট্রেন জার্নিটা ও পছন্দ করে না।
অপছন্দের কারণটাও জানিনা।ট্রেনের
একটা টিকিট অনিন্দিতা খুব যত্ন করে
রেখে দিয়েছে।অনেকবার দেখেছি
টিকিটটায় অনিন্দিতা লুকিয়ে
লুকিয়ে চোখ বুলায়। আর ওর চোখ দুটো
ভিজে ওঠে।অবাক লাগল অনিন্দিতার
সেই টিকিটটার সাথে আমার আজকের
টিকিটটা হুবহু মিলে গেছে।"ছ"বগী
সিট নং-"৫২"।সময়, বার, তারিখটা পর্যন্ত
মিল।


ঘুমে দুচোখ অস্থির
হয়ে উঠছে।হকারদের চেঁচামেচিতে
আর চোখ বুজা গেল না।হঠাৎ পাশের
মেয়েটা জিজ্ঞেস করল," আপনি
কোথায় নামবেন"? ঘুমের রেশ কাটিয়
উত্তর দিলাম,"এয়ারপোর্ট "।
চেনা জানাটা অল্প সময়ের।এর মাঝে
মেয়েটা সম্পর্কে বেশ জানা হয়ে
গেল।নামটাও জানলাম,ইরিন।বকবক করে
ওই সব বলে দিচ্ছে। প্রাইভেট
ইউনির্ভাসিটিতে পড়ছে।মেয়েটার
সাথে অনিন্দিতার পার্থক্য বের
করলাম।


বিয়ের বয়সটা পার হয়েছে চার পাচ
বছর।আমি বাড়ি আসায় তার মুখে একটু
হাসি ফুটেছে এমনটি আজও চোখে
পড়েনি। কিংবা যাওয়ার বেলায়
চোখে এক ফোটা জল জমেছে।
সমস্যাটাও অনেকবার জানার চেষ্টা
করেছি।ফলাফল শূন্য।অনিন্দিতার
নিরবতার উত্তর আমার বুঝার সাধ্য হয়ে
উঠেনি।


কিছুটা অবাক হলাম যখন শুনলাম ইরিন
বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে।
ভার্সিটি ছুটিতে বাসায় গিয়ে শুনে
বিদেশি বর রেডি।যেখানে ইরিনের
সম্মতি শূন্যের কোঠায়।কলেজে
লাইফেই ইরিন একজনকে গলায়
বাজিয়েছে।সে তার
ভালবাসার মানুষটিকেই আপন করে
নিতে চাই।কিন্তুু ফ্যামিলির ব্যাঘ্র
হুংকার,তা কিছুতেই সম্ভব না।


প্রতিবার বাড়ি আসার সময় মাথা
বোঝাই স্বপ্ন নিয়ে আসি। ভাবি এবার
হয়ত অনিন্দিতা পাল্টে গেছে।ঘরতে
যাবে,শপিং এর বায়না ধরবে।
দিনশেষে মা হওয়ার হাহাকারে
ভালবাসায় ডুবিয়ে দিবে।


হঠাৎ ট্রেনটা থেমে গেল।জানালা
দিয়ে একজন উকি দিল।এলোমেলো চুল।
মুখে হালকা দাড়ি।শারিরীক ভাষা
খুব তাড়াহুড়ো। কাউকে মনে হয় খুজছে।


ট্রেন ছাড়তে একটু দেরি হবে।নেমে
প্লাট ফর্মে আসলাম।যে লোকটি
জানালা দিয়ে উকি দিয়েছিল সেই
লোকটি বসে আছে।আমাকে দেখে
এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,"আপনিতো
ছ বগীতে ছিলেন।আপনার সিট
নাম্বারটা কত"? আমি বললাম,"৫২"।


হর্ণ বাজল।ট্রেন ছেড়ে দিবে। উঠে
দেখি বেশ হৈচৈ।ইরিন নেই।সবাই কি
নিয়ে গুনগুন করছে।পাশের একজন বলল
ইরিনের মা-বাবা পুলিশ নিয়ে এসে
তাকে নিয়ে গেছে। মানুষজন টক শো
করার একটা ইস্যু পেয়ে গেছে।
ভালবাসার বাধাটুকু ইরিন টপকাতে
পারল না।
ট্রেন ছাড়ল।পাশের সিটটা খালি
পড়ে আছে।


লোকটির কথা ভাবছি।পাঁচ
বছর ধরে এই স্টেশনে আছে।আজও তার
বিশ্বাস তার ভালবাসার মানুষটি এই
স্টেশনে নামবে।তাকে চিঠিতে
এখানেই অপেক্ষা করতে বলেছিল।
এটাও বলেছিল সে থাকবে ছ" বগীর ৫২
নং সিটে।


আমার ফোনটা বেজে উঠল।মা ফোন
করেছে।অনিন্দিতা বাসায় নেই।
কোথাও খোজ পাওয়া যাচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×